ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামে মাঠে সেনাবাহিনী, চলছে উদ্ধার-ত্রাণ কাজ


দুর্যোগ মোকাবিলায় চট্টগ্রামে মাঠে সেনাবাহিনী, চলছে উদ্ধার-ত্রাণ কাজ

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ভারী বর্ষণের কারণে, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ফলে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে কাজ করছেন। বিশেষ করে, ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এছাড়াও, দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদের পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলু সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানায় আইএসপিআর।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় পড়ে আছে ম'রদেহ, ইঁদুরের কামড় থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


গাজায় পড়ে আছে ম

একটা সময় ছিল, যখন গাজার শিশুরা বিকেল হলেই রাস্তায় নেমে খেলত ফুটবল। হাসির শব্দে মুখর থাকত পাড়া। কিন্তু আজ সেই একই রাস্তায় পড়ে আছে ধ্বংসস্তূপ। বাতাসে মিশে আছে পোড়া কংক্রিটের গন্ধ। আর রাত নামলেই নতুন এক ভয়। শুধু বোমা নয়, এবার ঘুমন্ত শিশুদের ওপর হামলা করছে ইঁদুর। যুদ্ধবিরতির আট মাস পেরিয়ে গেলেও গাজার মানুষের জীবনে যেন এখনো পৌঁছায়নি কোন শান্তি।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ১৪ বছরের কারাম এখনো একটি পুরোনো ফুটবল আঁকড়ে ধরে হাঁটে। একসময় তার স্বপ্ন ছিল বড় ফুটবলার হওয়ার। বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিন মাঠে খেলত। কিন্তু এখন চারপাশে নেই সেই মাঠ, নেই সেই বন্ধুদের কোলাহল। আছে শুধু ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি, পুড়ে যাওয়া জমি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুবার বলা হয়েছে শান্তির কথা। এসেছে নতুন পরিকল্পনা, নতুন বৈঠক ও নতুন প্রতিশ্রুতির খবরও। কিন্তু গাজার মানুষের কাছে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। তাদের ভাষায়, কাগজে যুদ্ধ থামলেও বাস্তবে এখনো শেষ হয়নি যুদ্ধ। 

চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার, নতুন প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই হয়নি বাস্তবায়িত। বরং ইসরায়েল গাজার আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়িয়েছে সামরিক উপস্থিতি। অন্যদিকে হামাসও অস্ত্র সমর্পণ না করে শক্ত করেছে নিজেদের অবস্থান। ফলে সাধারণ মানুষ আটকে পড়েছে দুই পক্ষের সংঘাতের মাঝখানে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরগুলোতে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ মানুষ হারিয়েছে নিজেদের ঘর। হাজার হাজার পরিবার এখনো গাদাগাদি করে বসবাস করছে অস্থায়ী তাঁবুতে। সেখানে নেই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি। নেই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। গরমে দম বন্ধ হয়ে আসে। ময়লা জমে থাকে চারদিকে। দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন আতঙ্ক। ইঁদুর, তেলাপোকা ও অন্যান্য প্রাণী সহজেই তাঁবুর কাপড় কেটে ঢুকে পড়ছে ভেতরে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় কামড়ে দিয়েছে ইঁদুর। কোনো কোনো পরিবার রাতভর জেগে থাকে শুধু সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্য। অনেকেই খাবার ইঁদুরের হাত থেকে বাঁচাতে ঝুলিয়ে রাখছেন তাঁবুর ছাদে।

আরেকটি নির্মম বাস্তবতা হলো, বহু এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে মরদেহ। অনেক পরিবার জানেই না তাঁদের স্বজন জীবিত নাকি মৃত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দুর্গন্ধ। রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে প্রতিদিন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ত্রাণ পৌঁছাতে নানা বাধা থাকায় আরও খারাপ হচ্ছে পরিস্থিতি। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট কাটেনি। ফলে যুদ্ধবিরতির বহু মাস পরও গাজার মানুষের কাছে শান্তি এখনো শুধু একটি শব্দ। বাস্তবে তাঁদের প্রতিটি সকাল শুরু হচ্ছে নতুন অনিশ্চয়তা, নতুন ভয় ও বেঁচে থাকার আরেকটি কঠিন লড়াই নিয়ে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুবি হত্যা মামলায় ছিনতাইকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


বুবি হত্যা মামলায় ছিনতাইকারী চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে হামলা ও লুটের শিকার হয়ে মারা যাওয়া বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ববি বেগমের (৭০) মৃত্যু ও সঞ্চিত টাকা লুটের ঘটনায় র‍্যাব পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃদ্ধা ববির কাছে থাকা দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ২০ হাজার টাকার জন্য তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। র‍্যাবের ধারণা, মাদকের টাকার জন্য তারা এই ঘটনার জন্ম দিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন - ইলিয়াস (৩৫), সাকিব (১৯), বেলাল মিয়া (২৬), দ্বীন ইসলাম (২৬) ও রিফাত (২০)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।rab-1-20260710174736

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেছেন, গত ৪ জুলাই গভীর রাতে মেথিকান্দা রেলস্টেশনের এক পরিত্যক্ত কক্ষে অবস্থানরত ববি বেগমের ওপর হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে গুরুতর ইনজুরি করে। হামলার সময় তার দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ও সঞ্চিত প্রায় ২০ হাজার টাকা লুট করে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৮ জুলাই রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর র‍্যাব-১১ ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

গোয়েন্দা তথ্য, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং ধারাবাহিক অভিযান মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।

র‍্যাব-১১-এর একটি দল নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে র‍্যাব-৯-এর আরেক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের নতুন ঈদগাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, মাদকের টাকার জন্য বৃদ্ধা ববি বেগমের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে এই তথ্য আগে থেকেই তাদের জানা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গভীর রাতে বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে প্রায় ২০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যান তারা। পরে অপারেশন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ববি বেগমের মৃত্যু হলে ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

এক প্রশ্নের উত্তরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদকের মামলা রয়েছে। তারা মাদকাসক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকের টাকার প্রয়োজন ছিল বলে তারা এই ঘটনার জন্ম দিয়েছেন।

র‍্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি তদন্তে নতুন কোনও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

রেল স্টেশন ও রেলে অপরাধীদের আনাগোনার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে র‍্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, রেলপথের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য রেলওয়ে পুলিশ রয়েছে। তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। এরপরও যদি কখনো কোনও ঘটনা আমাদের নজরে আসে, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ভৈরব রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন র‍্যাব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প ‘সক্ষম’ আট তরুণ-তরুণীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৮ পি.এম


স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প ‘সক্ষম’ আট তরুণ-তরুণীর

ছোট্ট দুটি হাত বাড়িয়ে অতিথিদের জড়িয়ে ধরল। মুখভরা হাসি, চোখে উচ্ছ্বাস। কিছুক্ষণ আগেও যে শিশুটি ছিল নিজের মতো, নতুন মানুষ দেখে একটু সংকোচে, সে-ই এখন গল্প করছে, গান গাইছে, গর্বভরে নিজের হাতে বানানো একটি ছোট্ট ফুলের তোড়া দেখিয়ে বলছে—‘এটা আমি বানিয়েছি।’

এই হাসির পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, যত্ন আর ভালোবাসা। আর আছে একটি তরুণের দল, যারা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা বিশ্বাস করেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য দরকার করুণা নয়, প্রয়োজন সুযোগ; দয়া নয়, প্রয়োজন সমান মর্যাদা। সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে সামাজিক উদ্যোগ ‘সক্ষম’-এর।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) আটজন তরুণ-তরুণীর এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজও তাদের নতুন চোখে দেখতে শিখবে।

আশপাশের কিছু পরিবারের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন এই তরুণদের উদ্বিগ্ন করেছিল। তাদের মনে প্রশ্ন উঠেছিল—এই শিশুদের জন্য কি কিছু করা সম্ভব? সেই ভাবনা থেকেই তারা দিনাজপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়কে খুঁজে পান।

২০২৬ সালের ১০ মে, প্রথমবারের মতো সেই বিদ্যালয়ে যান আটজন তরুণ-তরুণী। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা। কিন্তু সেদিনের অভিজ্ঞতা তাদের চিন্তাভাবনাকে বদলে দিয়েছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবন, তাদের চ্যালেঞ্জ এবং তাদের সঙ্গে সংবেদনশীলভাবে আচরণের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার পর, তারা দীর্ঘ সময় কাটান শিশুদের সঙ্গে গল্প, খেলাধুলা ও আনন্দ ভাগাভাগি করে। সেই একটি দিনের অভিজ্ঞতা পরিণত হয় দীর্ঘমেয়াদি একটি সামাজিক উদ্যোগে।

আটজন কো-ফাউন্ডারের পরিচয় হয়েছিল একটি ট্রেনিং প্রোগ্রামে। সেখানকার দুই মাসের একটি সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তারা মিলিত হন এবং একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে জানেন, সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন তাদের সবারই এক। অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হলেও তাদের যাত্রা শেষ হয়নি; বরং সেখান থেকেই শুরু হয় ‘সক্ষম’-এর যাত্রা।

বর্তমানে ‘সক্ষম’ শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে দিনাজপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সাথে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটি ১১টি ফিল্ড ভিজিট সম্পন্ন করেছে।

প্রতিটি ভিজিটে শিশুদের সঙ্গে গল্প, খেলাধুলা, গান, শিক্ষামূলক কার্যক্রম ও সৃজনশীল চর্চায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি, হাতে-কলমে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প তৈরির প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়। পরে সেই পণ্যের প্রদর্শনে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টল এবং ‘সক্ষম’-এর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশুদের তৈরি পণ্যের সংগ্রহে রয়েছে ওয়াল ম্যাট, ফুলের তোড়া (বুকে), কানের দুল, চুলের ক্লিপসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প। সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, এই পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্য শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়; বরং শিশুদের সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্যও।

‘সক্ষম’-এর কো-ফাউন্ডার সাফওয়াত সাইমা শাহানা বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সমাজের মানুষের ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করা যে, অটিজম আক্রান্ত শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা কিছুই করতে পারে না। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা নিজেদের প্রতিনিয়ত অবাক হয়েছি। তারা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণের চেয়ে অসাধারণ। তাদের উপস্থিত বুদ্ধি ও প্রতিক্রিয়া আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা তাদের শেখাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

আরেক কো-ফাউন্ডার ইয়ামিন ফারিয়া বলেন, “আজ ‘সক্ষম’কে যতটা সক্ষম মনে হয়, এর পেছনের পথটা ছিল অনেক কঠিন। অটিজম স্পেকট্রামের শিশুদের সঙ্গে কাজ করতে প্রচুর সময়, ধৈর্য ও শ্রম দিতে হয়। তবে দিন শেষে আমরা গর্বিত যে, এমন একটি ক্ষেত্রকে বেছে নিতে পেরেছি। আমরা দেখাতে পেরেছি, অটিজম স্পেকট্রামের শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও অনেক কিছু করতে পারে। প্রয়োজন শুধু ধৈর্য, আন্তরিকতা এবং তাদের প্রতি বিশ্বাস।”

দিনাজপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল শাহনেওয়াজ বলেন, “প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের পাশে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।”

একজন অভিভাবক ব্যক্ত করেছেন - "তারা অনেকেই আছে যারা সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কাজ করতে পারে বা কোনো নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শী। কিন্তু তাদেরকে ভরসা করে কাজ দিতে চায় না বা করাতে চায় না। 'সক্ষম' তাদেরকে সেই ভরসা করায় আমরা আনন্দিত এবং আশাবাদী যে, তারা এই সক্ষমের মাধ্যমে আরো মানুষের মন ও ভরসা জয় করতে পারবে।"

এ পর্যন্ত ‘সক্ষম’-এর মূল দলে রয়েছেন আটজন কো-ফাউন্ডার। তারা হলেন মাহামুদুল হাসান রিফাত, ইয়ামিন ফারিয়া, আনিকা জাহান অবন্তি, মেহেদী হাসান সাকিব, সাফওয়াত সাইমা শাহানা, হাবিবুল বাশার, মো. রাহুল চৌধুরী এবং ত্রয়ী সরকার।

সংগঠনটির এখনো কোনো স্পন্সর, অনুদানদাতা বা প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদার নেই। সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে। স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। তবে খুব শিগগিরই স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংগঠনের সদস্যদের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য কোন পুরস্কার বা সম্মাননা নয়। তাদের ভাষায়, প্রতিবার বিদ্যালয়ে গেলে যখন শিশুরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে, হাসিমুখে গল্প করে কিংবা নিজের হাতে তৈরি কোনো জিনিস দেখাতে উচ্ছ্বসিত হয়—সেই মুহূর্তগুলোই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তারা। শুধু শিশুরাই নয়, সেই শিক্ষার্থীরাও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বদলে ফেলেছিলেন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি। তখনই ‘সক্ষম’-এর সদস্যরা আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারলে সমাজও বদলাবে।

আগামী এক বছরে স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করা, আরও বেশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর কাছে পৌঁছানো এবং সচেতনতামূলক নতুন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ‘সক্ষম’-এর। দীর্ঘমেয়াদে তাদের লক্ষ্য আরও বড়। এই মুহূর্তে একটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করলেও ভবিষ্যতে আরও বেশি বিশেষায়িত বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় সংগঠনটি। পাশাপাশি যেসব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু কোনো বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, তাদের কাছেও পৌঁছাতে চান তারা। এই উদ্দেশ্যে তারা শুধুমাত্র শিশুদের ক্ষমতায়ন নয়, বরং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্ম করতে চান।

এই উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হতে কিংবা শিশুদের তৈরি হস্তশিল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে যোগাযোগ করা যাবে ‘সক্ষম’-এর ফেসবুক পেজে।

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এক দিনে গড়ে ওঠে না। সেটি হয় ছোট ছোট উদ্যোগ, আন্তরিকতা, ধৈর্য এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে। ‘সক্ষম’-এর তরুণেরা সেই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছেন।

তাদের প্রত্যাশা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং তাদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা এবং সক্ষমতাই একদিন সমাজের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। কারণ, সুযোগ পেলে তারাও পারে—স্বপ্ন দেখতে, সৃষ্টি করতে এবং নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে।

সেই বিশ্বাস থেকেই ‘সক্ষম’-এর পথচলা। আর সেই বিশ্বাসই বলে—প্রত্যেক মানুষেরই একটি পরিচয় আছে, সে সক্ষম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্বাভাবিক আকারের রসুন উৎপাদন, বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


অস্বাভাবিক আকারের রসুন উৎপাদন, বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন কৃষক

যুক্তরাজ্যের শৌখিন কৃষক গ্রাহাম ব্যারাট নিজের শখের বাগানে অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির ‘এলিফ্যান্ট গার্লিক’ উৎপাদন করে গড়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

২৫ জুন ইংল্যান্ডের বার্কশায়ারের ওয়ারগ্রেভ নার্সারি প্ল্যান্ট সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর উৎপাদিত সবজির ওজন ও মাপ যাচাই করা হয়। সেখানে দেখা যায়, তাঁর ফলানো ‘এলিফ্যান্ট গার্লিক’-এর ওজন ৩ পাউন্ড ১৩ দশমিক ৭ আউন্স (প্রায় ১ দশমিক ৭৫ কেজি) ছিল। এই রসুনটির ব্যাসও ছিল প্রায় সাড়ে ৭ ইঞ্চি। এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ভারী ‘এলিফ্যান্ট গার্লিক’ উৎপাদনের স্বীকৃতি অর্জন করেন।

‘এলিফ্যান্ট গার্লিক’ সাধারণ বাজারে পাওয়া রসুনের তুলনায় প্রাকৃতিকভাবে আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে। তবে গ্রাহাম ব্যারাটের উৎপাদিত রসুনটি আগের সমস্ত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

একই দিনে গ্রাহাম আরও একটি বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামে লেখান। তিনি দশমিক ৯৮ আউন্স ওজনের একটি ‘সুইডিশ এয়ারলুম স্নো পি’ জাতের মটরশুঁটি উৎপাদন করে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মটরশুঁটির স্বীকৃতি অর্জন করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের মৌসুমে তিনি চারটি গিনেস বিশ্ব রেকর্ড নিজ নামে গড়েছিলেন। সেবার তার উৎপাদিত ৬ পাউন্ড ৩ দশমিক ৫ আউন্স ওজনের ধুন্দুল (লুফা) বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ভারী ধুন্দুল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এছাড়া তিনি ৭ ইঞ্চি লম্বা মটরশুঁটি উৎপাদন করেও একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন।

অসাধারণ এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে, শখের কৃষিকাজ সঠিক পরিচর্যা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে সক্ষম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%