ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প ‘সক্ষম’ আট তরুণ-তরুণীর


স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প ‘সক্ষম’ আট তরুণ-তরুণীর

ছোট্ট দুটি হাত বাড়িয়ে অতিথিদের জড়িয়ে ধরল। মুখভরা হাসি, চোখে উচ্ছ্বাস। কিছুক্ষণ আগেও যে শিশুটি ছিল নিজের মতো, নতুন মানুষ দেখে একটু সংকোচে, সে-ই এখন গল্প করছে, গান গাইছে, গর্বভরে নিজের হাতে বানানো একটি ছোট্ট ফুলের তোড়া দেখিয়ে বলছে—‘এটা আমি বানিয়েছি।’

এই হাসির পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, যত্ন আর ভালোবাসা। আর আছে একটি তরুণের দল, যারা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা বিশ্বাস করেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য দরকার করুণা নয়, প্রয়োজন সুযোগ; দয়া নয়, প্রয়োজন সমান মর্যাদা। সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে সামাজিক উদ্যোগ ‘সক্ষম’-এর।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) আটজন তরুণ-তরুণীর এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজও তাদের নতুন চোখে দেখতে শিখবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

আশপাশের কিছু পরিবারের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন এই তরুণদের উদ্বিগ্ন করেছিল। তাদের মনে প্রশ্ন উঠেছিল—এই শিশুদের জন্য কি কিছু করা সম্ভব? সেই ভাবনা থেকেই তারা দিনাজপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়কে খুঁজে পান।

২০২৬ সালের ১০ মে, প্রথমবারের মতো সেই বিদ্যালয়ে যান আটজন তরুণ-তরুণী। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা। কিন্তু সেদিনের অভিজ্ঞতা তাদের চিন্তাভাবনাকে বদলে দিয়েছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবন, তাদের চ্যালেঞ্জ এবং তাদের সঙ্গে সংবেদনশীলভাবে আচরণের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার পর, তারা দীর্ঘ সময় কাটান শিশুদের সঙ্গে গল্প, খেলাধুলা ও আনন্দ ভাগাভাগি করে। সেই একটি দিনের অভিজ্ঞতা পরিণত হয় দীর্ঘমেয়াদি একটি সামাজিক উদ্যোগে।

আটজন কো-ফাউন্ডারের পরিচয় হয়েছিল একটি ট্রেনিং প্রোগ্রামে। সেখানকার দুই মাসের একটি সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তারা মিলিত হন এবং একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে জানেন, সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন তাদের সবারই এক। অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হলেও তাদের যাত্রা শেষ হয়নি; বরং সেখান থেকেই শুরু হয় ‘সক্ষম’-এর যাত্রা।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বর্তমানে ‘সক্ষম’ শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে দিনাজপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সাথে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটি ১১টি ফিল্ড ভিজিট সম্পন্ন করেছে।

প্রতিটি ভিজিটে শিশুদের সঙ্গে গল্প, খেলাধুলা, গান, শিক্ষামূলক কার্যক্রম ও সৃজনশীল চর্চায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি, হাতে-কলমে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প তৈরির প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়। পরে সেই পণ্যের প্রদর্শনে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টল এবং ‘সক্ষম’-এর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশুদের তৈরি পণ্যের সংগ্রহে রয়েছে ওয়াল ম্যাট, ফুলের তোড়া (বুকে), কানের দুল, চুলের ক্লিপসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প। সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, এই পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্য শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়; বরং শিশুদের সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্যও।

‘সক্ষম’-এর কো-ফাউন্ডার সাফওয়াত সাইমা শাহানা বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল সমাজের মানুষের ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করা যে, অটিজম আক্রান্ত শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা কিছুই করতে পারে না। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা নিজেদের প্রতিনিয়ত অবাক হয়েছি। তারা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণের চেয়ে অসাধারণ। তাদের উপস্থিত বুদ্ধি ও প্রতিক্রিয়া আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা তাদের শেখাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

আরেক কো-ফাউন্ডার ইয়ামিন ফারিয়া বলেন, “আজ ‘সক্ষম’কে যতটা সক্ষম মনে হয়, এর পেছনের পথটা ছিল অনেক কঠিন। অটিজম স্পেকট্রামের শিশুদের সঙ্গে কাজ করতে প্রচুর সময়, ধৈর্য ও শ্রম দিতে হয়। তবে দিন শেষে আমরা গর্বিত যে, এমন একটি ক্ষেত্রকে বেছে নিতে পেরেছি। আমরা দেখাতে পেরেছি, অটিজম স্পেকট্রামের শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও অনেক কিছু করতে পারে। প্রয়োজন শুধু ধৈর্য, আন্তরিকতা এবং তাদের প্রতি বিশ্বাস।”

দিনাজপুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল শাহনেওয়াজ বলেন, “প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের পাশে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।”

একজন অভিভাবক ব্যক্ত করেছেন - "তারা অনেকেই আছে যারা সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কাজ করতে পারে বা কোনো নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শী। কিন্তু তাদেরকে ভরসা করে কাজ দিতে চায় না বা করাতে চায় না। 'সক্ষম' তাদেরকে সেই ভরসা করায় আমরা আনন্দিত এবং আশাবাদী যে, তারা এই সক্ষমের মাধ্যমে আরো মানুষের মন ও ভরসা জয় করতে পারবে।"

এ পর্যন্ত ‘সক্ষম’-এর মূল দলে রয়েছেন আটজন কো-ফাউন্ডার। তারা হলেন মাহামুদুল হাসান রিফাত, ইয়ামিন ফারিয়া, আনিকা জাহান অবন্তি, মেহেদী হাসান সাকিব, সাফওয়াত সাইমা শাহানা, হাবিবুল বাশার, মো. রাহুল চৌধুরী এবং ত্রয়ী সরকার।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

সংগঠনটির এখনো কোনো স্পন্সর, অনুদানদাতা বা প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদার নেই। সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে। স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। তবে খুব শিগগিরই স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংগঠনের সদস্যদের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য কোন পুরস্কার বা সম্মাননা নয়। তাদের ভাষায়, প্রতিবার বিদ্যালয়ে গেলে যখন শিশুরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে, হাসিমুখে গল্প করে কিংবা নিজের হাতে তৈরি কোনো জিনিস দেখাতে উচ্ছ্বসিত হয়—সেই মুহূর্তগুলোই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তারা। শুধু শিশুরাই নয়, সেই শিক্ষার্থীরাও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বদলে ফেলেছিলেন নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি। তখনই ‘সক্ষম’-এর সদস্যরা আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারলে সমাজও বদলাবে।

আগামী এক বছরে স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত করা, আরও বেশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর কাছে পৌঁছানো এবং সচেতনতামূলক নতুন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ‘সক্ষম’-এর। দীর্ঘমেয়াদে তাদের লক্ষ্য আরও বড়। এই মুহূর্তে একটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করলেও ভবিষ্যতে আরও বেশি বিশেষায়িত বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় সংগঠনটি। পাশাপাশি যেসব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু কোনো বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, তাদের কাছেও পৌঁছাতে চান তারা। এই উদ্দেশ্যে তারা শুধুমাত্র শিশুদের ক্ষমতায়ন নয়, বরং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্ম করতে চান।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

এই উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হতে কিংবা শিশুদের তৈরি হস্তশিল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে যোগাযোগ করা যাবে ‘সক্ষম’-এর ফেসবুক পেজে।

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ এক দিনে গড়ে ওঠে না। সেটি হয় ছোট ছোট উদ্যোগ, আন্তরিকতা, ধৈর্য এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে। ‘সক্ষম’-এর তরুণেরা সেই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছেন।

তাদের প্রত্যাশা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং তাদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা এবং সক্ষমতাই একদিন সমাজের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। কারণ, সুযোগ পেলে তারাও পারে—স্বপ্ন দেখতে, সৃষ্টি করতে এবং নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে।

সেই বিশ্বাস থেকেই ‘সক্ষম’-এর পথচলা। আর সেই বিশ্বাসই বলে—প্রত্যেক মানুষেরই একটি পরিচয় আছে, সে সক্ষম।

আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্বাভাবিক আকারের রসুন উৎপাদন, বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ পি.এম


অস্বাভাবিক আকারের রসুন উৎপাদন, বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন কৃষক

যুক্তরাজ্যের শৌখিন কৃষক গ্রাহাম ব্যারাট নিজের শখের বাগানে অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি প্রায় দেড় কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির ‘এলিফ্যান্ট গার্লিক’ উৎপাদন করে গড়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

২৫ জুন ইংল্যান্ডের বার্কশায়ারের ওয়ারগ্রেভ নার্সারি প্ল্যান্ট সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর উৎপাদিত সবজির ওজন ও মাপ যাচাই করা হয়। সেখানে দেখা যায়, তাঁর ফলানো ‘এলিফ্যান্ট গার্লিক’-এর ওজন ৩ পাউন্ড ১৩ দশমিক ৭ আউন্স (প্রায় ১ দশমিক ৭৫ কেজি) ছিল। এই রসুনটির ব্যাসও ছিল প্রায় সাড়ে ৭ ইঞ্চি। এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ভারী ‘এলিফ্যান্ট গার্লিক’ উৎপাদনের স্বীকৃতি অর্জন করেন।

‘এলিফ্যান্ট গার্লিক’ সাধারণ বাজারে পাওয়া রসুনের তুলনায় প্রাকৃতিকভাবে আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে। তবে গ্রাহাম ব্যারাটের উৎপাদিত রসুনটি আগের সমস্ত রেকর্ডকে ছাড়িয়ে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

একই দিনে গ্রাহাম আরও একটি বিশ্ব রেকর্ড নিজের নামে লেখান। তিনি দশমিক ৯৮ আউন্স ওজনের একটি ‘সুইডিশ এয়ারলুম স্নো পি’ জাতের মটরশুঁটি উৎপাদন করে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মটরশুঁটির স্বীকৃতি অর্জন করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের মৌসুমে তিনি চারটি গিনেস বিশ্ব রেকর্ড নিজ নামে গড়েছিলেন। সেবার তার উৎপাদিত ৬ পাউন্ড ৩ দশমিক ৫ আউন্স ওজনের ধুন্দুল (লুফা) বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ভারী ধুন্দুল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এছাড়া তিনি ৭ ইঞ্চি লম্বা মটরশুঁটি উৎপাদন করেও একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন।

অসাধারণ এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে, শখের কৃষিকাজ সঠিক পরিচর্যা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে সক্ষম।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবাসিক হলে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় চুয়েটের ৯ শিক্ষার্থী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


আবাসিক হলে গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় চুয়েটের ৯ শিক্ষার্থী আটক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শহীদ আবু সাইদ হল থেকে গাঁজা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ নয় শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেছে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল।

শুক্রবার (১০ জুলাই) আনুমানিক রাত ১২টা ৩০ টার দিকে হলের ৫২৯ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের দুইজন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের পাঁচজন এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দুইজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ জন শহীদ আবু সাইদ হলের, ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা হলের, ১ জন ড. কুদরাত-ই-খুদা হলের এবং ১ জন কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে শহীদ আবু সাইদ হলের সহকারী প্রভোস্ট আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘গতকাল আনুমানিক রাত ১২টা ৩০ টার দিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যকার একটি সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা হলে যাই। পরে সন্দেহজনক একটি কক্ষে অভিযান পরিচালনা করলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মাদকাসক্ত অবস্থায় পাই। এ সময় কক্ষটি থেকে গাঁজা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়।’

ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিষয়গুলো আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখি। রবিবার স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন কমিটির সভায় আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বসব।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য পেল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন সাফল্য পেল চীন

মহাকাশ গবেষণায় মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে চীন প্রথমবারের মতো একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এর ফলে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের পরে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছে বেইজিং। খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি।

চীন অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন জানিয়েছে, ১০ জুলাই শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ‘লং মার্চ ১০বি’ রকেটটি সফলভাবে দক্ষিণ চীনের হাইনান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটের ওপরের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মিনিট পর এর বুস্টারটি খাড়াভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং এটা সমুদ্রের একটি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অবতরণ করে।

সাধারণত মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর রকেটের বিভিন্ন অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। তবে যদি রকেটের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ বুস্টার বারবার ব্যবহার করা যায়, তাহলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ অভিযানের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

এর আগে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে স্পেসএক্স তাদের ‘ফ্যালকন ৯’ এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্লু অরিজিন তাদের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের সফলভাবে বুস্টার অবতরণ করেছিল। বর্তমানে, স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ বছরে প্রায় ১৫০ বার মহাকাশে পাড়ি জমাচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে চীন ‘লং মার্চ ১০এ’ রকেটের মাধ্যমে প্রথমবার এমন চেষ্টা করেছিল, তবে সেটি প্ল্যাটফর্মের পাশে সাগরে গিয়ে পড়েছিল। এবার যেটি সফল হয়েছে, লং মার্চ ১০বি রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজন বহন করতে সক্ষম। এটির সক্ষমতা স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর সমান। তবে এখানকার ফ্যালকন ৯ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটিতে বা ড্রোনশিপে নামলেও চীনা রকেটের অবতরণ কৌশল ভিন্ন। এই রকেটের ল্যান্ডিং হুক ভাসমান প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত একটি জালকে আঁকড়ে ধরে অবতরণ সম্পন্ন করে।

এই অভাবনীয় সাফল্যের পরে চীনের আর্থিক বাজারে দেশটির মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন স্পেসস্যাট এবং চীন স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস উভয়ের শেয়ারের দাম দেশের আর্থিক নিয়মের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধারে চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


নওগাঁয় কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধারে চাঞ্চল্য

নওগাঁর রাণীনগরে একটি অভিযান চালিয়ে পুলিশ আজ একটি ব্যক্তির বাড়ি থেকে প্রায় ৯ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার দুপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালীন উপজেলা পারইল মাঝিপাড়া গ্রামের রায়হান মাঝি লিটনের বাড়ি থেকে ওই মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পারইল মাঝিপাড়া গ্রামে মূর্তি বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পুলিশ রায়হান মাঝি লিটনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং একটি ঘরের খাটের নিচে মূর্তিটি উদ্ধার করে। এই মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তিটি যার ওজন প্রায় ৯ কেজি।

রাণীনগর থানার কর্মকর্তা জাকারিয়া মন্ডল বাসস’কে জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূর্তি বেচাকেনা চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেছে। পুলিশ মূর্তিটি উদ্ধার করে বিকেলে থানায় নিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%