ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসির সঙ্গে বৈঠক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কায় জামায়াত


ইসির সঙ্গে বৈঠক  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কায় জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো কমিশনকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ৯ দফা সুনির্দিষ্ট লিখিত দাবি পেশ করেছে। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গোলাম পরওয়ার জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করার লক্ষ্যে তারা এসব দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি কমিশনের কিছু বিষয়ে অসহায়ত্ব পরিলক্ষিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচন কমিশন কি কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কিনা, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা। জামায়াতের এই নেতা জানান, দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের শিক্ষকরা প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এমনকি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করেছেন। এই অবস্থায় কেবল স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের সমানাধিকারের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং এটি একটি সুস্পষ্ট বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য তারা জোর তাগিদ দিয়েছেন, অন্যথায় তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে জানান।

প্রতিনিধিদলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল, যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেই দলের পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেওয়ার। নিষিদ্ধ কোনো দলের পদধারী নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে এবং এটি জনগণের ধারণার পরিপন্থি। তাই স্বচ্ছতার স্বার্থে যেকোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানায় জামায়াত। তবে সাধারণ সমর্থকদের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধের কথা তারা উল্লেখ করেননি।

বৈঠকে সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও তীব্র আপত্তি জানানো হয়। গোলাম পরওয়ার জানান, ওই কর্মকর্তা সরাসরি বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক সাব-কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যা সম্পূর্ণ সংবিধান ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। গত বৈঠকেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কমিশন তাদের উদ্বেগের সত্যতা স্বীকার করলেও নিজেদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না হওয়ার অজুহাতে বিষয়টি কেবল সরকারকে জানানোর প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ রেখেছে। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ দ্রুত বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়।

উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে সম্প্রতি দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, সরকারি অর্থ, এডিপি বরাদ্দ ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সুবিধা হাসিলের পথ তৈরি করতেই তাদের এই পদে বসানো হয়েছে। তাই নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এসব পদে নিয়োজিত প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ স্থায়ীভাবে রদ করার দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

জামায়াত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এসব পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন এই নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন, সেই নিয়ম বলবৎ করতে হবে। এছাড়া নির্বাচনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিবর্গের যে কোনো ধরণের প্রচারণা বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার জানান, ইসি কিছু বিষয়ে একমত হলেও মূল জায়গায় তারা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। তবে তারা আশাবাদী যে জনদাবি ও সিভিল সোসাইটির পর্যালোচনার মুখে কমিশন এসব মেনে নিতে বাধ্য হবে। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্থানীয় নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে না; বরং স্বতন্ত্র ভিত্তিতে যার যার জায়গা থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন, সেই ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনের জন্যই সীমাবদ্ধ, স্থানীয় নির্বাচনে দলগতভাবে যার যার মতো অংশগ্রহণে কোনো বাঁধা বা সমঝোতার শর্ত থাকছে না।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপিকে যারা শেষ করতে চেয়েছে তারাই ধ্বংস হয়ে গেছে: দুলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


বিএনপিকে যারা শেষ করতে চেয়েছে তারাই ধ্বংস হয়ে গেছে: দুলু

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, বিএনপিকে শেষ করে দেওয়ার এবং ভেঙে টুকরো টুকরো করার জন্য চক্রান্ত করা হয়েছে। ইতিহাসের সাক্ষ্য—যারাই বিএনপিকে শেষ করার চেষ্টা করেছে, তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাটোর শহরের উপশহর মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

দুলু আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছর ধরে বিএনপিকে কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেয়নি। বিনা কারণে প্রতিটি কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়েছে। তাদের হত্যা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন সাধারণ বিএনপি কর্মীরাও।

তিনি উল্লেখ করেন, আজ সেই আওয়ামী লীগের বাংলার মাটিতে কোনো স্থান নেই। সারা দেশের নেতারা ভারতে পালিয়ে গেছেন। কেউ কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ১৭ বছরের কুকর্মের জন্য ভয়ে এলাকায় আসতে পারছেন না এবং বিভিন্ন বড় শহরে গোপনে বসবাস করছেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে দুলু বলেন, যে কোনো সময় তারা সুযোগ পেলেই দেশকে অশান্ত করতে এবং দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করতে নাশকতা ঘটাতে পারে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের কোথাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে শক্ত হাতে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করতে হবে।

দুলু আরও বলেন, ৪৮ বছর আগে আজকের দিনে রমনার বটমূলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। দেশের জনগণ তাকে ভোট দিয়ে তিনবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তিনি বিশ্বে আপসহীন ও সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তিনি বলেন, তার মৃত্যুর পর তার সন্তান তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন ও দেশের প্রধানমন্ত্রী। সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং সব সংকট কাটিয়ে দেশ তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

সমাবেশে নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।

এছাড়া বক্তব্য দেন দুলুর সহধর্মিণী ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল, মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, সাইফুল ইসলাম আফতাব, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম, এমদাদুল হক আল মামুন এবং নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিমসহ স্থানীয় নেতারা।

পরে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নাটোর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক চাই: ভারতীয় হাইকমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক চাই: ভারতীয় হাইকমিশনার

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের এবং ভারতের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের বিষয়টি মাথায় রেখে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এদিনের সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চান না এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করা উচিতও নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝবে।

দীনেশ ত্রিবেদী জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আমরা সবসময় চাই। আমরা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তার প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সীমান্তের সঙ্গে স্বপ্নও শেয়ার করি। এ কারণে প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান, কেউ বড় কিংবা ছোট নয়।’

বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ কী। বাংলাদেশেরও দেখতে হবে ভারতের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগস্টের ৩০ দিনে প্রবাসী আয় ৩৪৮০৯ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ পি.এম


আগস্টের ৩০ দিনে প্রবাসী আয় ৩৪৮০৯ কোটি টাকা

চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২৮৩ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে। এই পরিমাণ দেশীয় মুদ্রায় ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকার হিসাবে নির্ধারিত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার (৩১ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, রোববার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এক হাজার ৯৮০ কোটি ৩০ লাখ টাকা এসেছে। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৫৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে ৮৮ খুন, ১২৭ ধর্ষণ প্রসঙ্গে সাজেদুর ‘আমি তো অথর্ব এসপি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


কক্সবাজারে ৮৮ খুন, ১২৭ ধর্ষণ প্রসঙ্গে সাজেদুর  ‘আমি তো অথর্ব এসপি’

স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়নি। জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে কক্সবাজারে ৮৮টি খুন, ১২৭টি ধর্ষণ এবং ২৯৭টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ১৫০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা তো আছেই।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে কিছুটা বিরক্তির সুরে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘আমি তো অথর্ব এসপি।’

কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি এবং অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচারককে ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। খুনের শিকার ব্যক্তির জানাজা চলাকালে মামলা হওয়ার আগেই ওই খুনের ঘটনায় আটক প্রধান সন্দেহভাজনকে দায়মুক্তি দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারে। দুর্বল পুলিশিং, অদক্ষতা এবং হঠকারী সিদ্ধান্তের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এসপির বিরুদ্ধে। পুলিশের ভেতরেও অস্থিরতা ও অসন্তোষ বিদ্যমান।

পর্যটন এলাকা সহ জেলায় দিনে ১৫ থেকে ৩০টি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব ঘটনার অনেকটাই থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় এর সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তার মাধ্যমে অভিযোগগুলো তার নজরে আনা হয়েছে। তবে পাঠানো বার্তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বিচারককে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারক যুগান্তরকে জানান, গত ৩০ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে এক বিচারককে পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখান এক যুবক। পরে আরও দুই বিচারক তৎকালীন সদর থানার ওসি ছমিউদ্দীনকে ডেকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। বিষয়টি পুলিশ সুপারকেও জানানো হয়। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ওই ঘটনার পর জানুয়ারিতে জেলা জজ পদমর্যাদার একাধিক বিচারক পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বরাবর চিঠি দিয়ে গানম্যান চেয়েছিলেন। কিন্তু গানম্যান তো দেওয়া হয়নি, এমনকি চিঠির জবাবও দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে গত ২৪ মে দিনদুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হন। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মন্নান বলেন, স্বাধীনতার পর কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত অবনতি তিনি আর দেখেননি। উখিয়া ও টেকনাফের অনেক এলাকায় সন্ধ্যা নামার আগেই অপরাধীদের ভয়ে একধরনের সুনসান পরিস্থিতি নেমে আসে। আদালত চত্বরে গোলাগুলি এবং বিচারকদের অস্ত্র দেখানোর ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

তদন্ত ছাড়াই খোরশেদ হত্যার প্রধান সন্দেহভাজনকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৪ মার্চ রাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম। ঘটনার পর তারিন নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে। তারিনের ব্যাগ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়। কিন্তু খোরশেদের জানাজা চলাকালে সংবাদ সম্মেলন করে তদন্ত না করেই তারিনকে নির্দোষ ঘোষণা করেন এসপি। পরিবারের অভিযোগ, এর আগে খোরশেদকে হুমকি দিয়েছিলেন তারিন।

একই সঙ্গে খোরশেদের কাকা তারেককে হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা হিসাবে দাবি করা হয়। পরে তারেকের একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের পর ঘটনার সময় তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এতে পুলিশের ওই বক্তব্য বিতর্কের মুখে পড়ে। জানা যায়, তারিনকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে এবং প্রকৃত সন্দেহভাজনদের বাদ দিয়ে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, এসপির কড়া আপত্তির কারণে তারিনকে জিজ্ঞাসাবাদ বা কোনো ধরনের অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। হত্যায় জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পরও পুলিশ হাত গুটিয়ে থাকতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে পুলিশের ভূমিকার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে মামলার বাদী নাওশাদ হোসেন আদালতের মাধ্যমে মামলাটি পিবিআই-এ স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তারিন আত্মগোপনে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে বাধা খোদ পুলিশ সুপার। গত ২২ এপ্রিল খুরুশকুলে মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ হত্যার রহস্য উন্মোচনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল। পরে পুলিশ আবদুর রহিম নামে একজনকে গ্রেফতার করে।

অন্তর দে জানান, সংবাদ প্রকাশের পর সেটি মুছে না ফেললে তাকে ওই হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন এসপির আস্থাভাজন এলআইসি সদস্য সোহেল। তবে সোহেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি এসপিকে জানালে তিনি উলটো প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে নিউজ করতে কে বলছে?’ তার দাবি, পুলিশ সুপার তাকে সাধারণ ডায়েরি না করারও পরামর্শ দেন। পরে আবার হুমকি আসার পর সংবাদকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে সদর থানা সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করে। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেন। পূজা উদ্যাপন কমিটিও হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।

পরে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ-সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের হস্তক্ষেপে আন্দোলন বন্ধ হলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অন্যদিকে রামু থানা পুলিশের একটি বড় ইয়াবা চালান আত্মসাতের অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক শাহেদ ফেরদৌস হিরুকে পুলিশ সুপার প্রশ্ন করেন, ইয়াবা নিয়ে সাংবাদিকদের এত আগ্রহ কেন? সাংবাদিক হিরুর অভিযোগ, এসপির ব্যর্থতা, অদক্ষতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা সভায় এসপির আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির কয়েকজন সদস্য। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে কোনো সদস্য বক্তব্য দিতে চাইলে পুলিশ সুপার অনেক সময় তার বক্তব্য থামিয়ে নিজেই কথা বলতে শুরু করেন। এতে মুক্তভাবে মতামত দেওয়ার পরিবেশ ব্যাহত হয়। স্থানীয় সংসদ-সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায়ও এসপি মোবাইল ফোনে কখনো কখনো উচ্চৈঃস্বরে কথা বলেছেন। এতে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলাসংশ্লিষ্ট একটি বৈঠকে এসপির এমন আচরণে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান কক্সবাজার-২ আসনের এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ।

পুলিশের ভেতরেও অস্থিরতা ও ক্ষোভ

জেলা পুলিশের অন্তত ৩৫ জন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নেপথ্যে এসপির হঠকারী সিদ্ধান্ত, অদক্ষতা ও দুর্বল পুলিশিং দায়ী। সম্প্রতি গোপন তথ্য প্রকাশের অভিযোগে ১০১ জন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইনস্পেকটর ৭, এসআই ৩৬, এএসআই ২৪ এবং কনস্টেবল ৩৪ জন। পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ, অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের বেছে বেছে সরিয়ে দিয়ে তাদের জায়গায় তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসপির বক্তব্য

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, সারা দেশে প্রতি মাসে ৩০০টির মতো মার্ডার হয়। কক্সবাজারে ১৫ থেকে ২০টি হয়। সেটা আগে হয়েছিল, এখনো হচ্ছে। বেশির ভাগ হত্যাই পরকীয়া ও পারিবারিক কারণে হচ্ছে। খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অন্য অভিযোগ প্রসঙ্গে কিছুটা বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, আমি তো অথর্ব এসপি। আপনাদের প্রিয় এসপি যখন ছিল, তখনো মার্ডার এমন হতো বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%