মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২০ পি.এম
রাজবাড়ী জেলার ধাওয়াপাড়া এবং পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী যাত্রী এবং যানবাহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. রবিউল ইসলাম এক বার্তায় ফেরি চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নাজিরগঞ্জ–ধাওয়াপাড়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় ১২ অক্টোবর রাত ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।
এর আগে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত ৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে এই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে ফেরি চালুর পর নৌপথে নাব্যতা সংকটের বিষয়টি সামনে আসে। জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং না করা হলে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
রোববার সকালে ধাওয়াপাড়া থেকে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে একটি পরীক্ষামূলক ফেরি চালানো হয়েছিল। এরপর বিকেলে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এক দিনের মাথায় ফেরি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
এর আগে নাজিরগঞ্জ–ধাওয়াপাড়া নৌরুটে ফেরি চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। টানা ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর নৌরুটটি আবার চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অক্টোবরের শুরুতে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার ফেরি বন্ধ ও চালুর ঘটনায় এ নৌপথ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া এবং পাবনার নাজিরগঞ্জের মধ্যে পদ্মা নদী পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দুই জেলার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষ এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্যও এই নৌরুটটি গুরুত্বপূর্ণ। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে এ পথে সরাসরি নদী পারাপার ব্যাহত হয়। তখন যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় এবং ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নৌপথের নাব্যতা সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং করা প্রয়োজন। নাব্যতা সংকটের কারণে বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় এ রুটের নিয়মিত যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করে নৌপথের নাব্যতা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে কবে নাগাদ ড্রেজিং শুরু হবে এবং ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে চায়। এই উদ্দেশ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ওমান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জানান, দেশটিতে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি ওমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং পরে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া, ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।
বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স (নিয়মিত) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ১৪ অক্টোবর বিকেল ৪টা থেকে শুরু হবে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ১৫ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফি সংশ্লিষ্ট কলেজে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ১৮ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন নিশ্চিত করবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় সনাতন পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর অথবা গ্রেডিং ও ক্রেডিট পদ্ধতিতে ন্যূনতম সিজিপিএ ২.২৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এই প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তবে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার পরিবর্তে পাস ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা এ কার্যক্রমে আবেদন করতে পারবেন না।
এছাড়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স (নিয়মিত) অথবা মাস্টার্স প্রথম পর্ব (নিয়মিত) পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর বা জিপিএ ২.২৫ এবং সংশ্লিষ্ট তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) নিয়মিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪৫ শতাংশ নম্বর বা সিজিপিএ ২.২৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
তবে প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স (প্রাইভেট) বা মাস্টার্স প্রথম পর্ব (প্রাইভেট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পূর্বে অধ্যয়ন ও উত্তীর্ণ হতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স (নিয়মিত বা প্রাইভেট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অথবা অন্য কোনো প্রোগ্রামে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে পারবেন না। দ্বৈত ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর উভয় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলে গণ্য হবে।
প্রাথমিক আবেদন ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ ৮৫০ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের অংশ ১৫০ টাকা। নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরাসরি কলেজে এ ফি জমা দেওয়া যাবে।
আবেদনের সব তথ্য পেতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর নতুন বাজার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা, যত্রতত্র পার্কিং এবং টাফিক পুলিশের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবের কারণে চলাচলকারীদের জন্য দূর্ভোগের শেষ নেই। এই সড়কটি প্রতিদিনের জনদুর্ভোগের পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এখানে ১০০ ফুটের রাস্তার মধ্যে ৯০ ফুটই বেদখল হয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি ওই এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে হকাররা এক বা দুই সারিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। কিছু স্থানে মূল সড়কের ভেতর পর্যন্ত তিন থেকে চার সারি দখল করে দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে নতুন বাজার ও মাদানী অ্যাভিনিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কার্যকর চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের চলাচল বিঘ্নিত হয়ে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের পাশ, ফুটপাথ ও হাঁটার জায়গা বেদখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে চলন্ত যানবাহনের একেবারে পাশে বা মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দৈনন্দিন পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ও রাতের দিকে ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি আরও অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো ১০০ ফিট ওই রাস্তায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের নিয়ন্ত্রনহীন চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। এসব যানবাহনের একটি বড় অংশ দৃশ্যত কোনো নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা বা নিয়ম কানুন অনুসরণ করে না। ফলে তাদের চলাচল আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এরা সাধারণত হঠাৎ লেন পরিবর্তন, উলটো পথে চলা, যেখানে সেখানে থামা, যাত্রী তোলার জন্য মূল সড়কের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে পড়া এবং অনিয়ন্ত্রিত গতিতে চলাচল নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এসব আচরণ যানজটের পাশাপাশি সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এছাড়া সড়কের দুই পাশে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও সংযোগস্থলের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে যত্রতত্র পার্ক করে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই সড়কে হকাররা নিয়ম মানছে না বরং কয়েক সারি করে তারা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছে। হকারদের ফুটপাথ এবং রাস্তা দখলের সঙ্গে এই অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং যুক্ত হয়ে সড়কে যান চলাচলের রাস্তা আরো সংকুচিত করে ফেলছে এবং স্বাভাবিক যান চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, হকারদের তিন-চার সারির দখল, অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল এবং রাস্তার পাশে পার্ক করা গাড়ি একই জায়গায় একসঙ্গে উপস্থিত থাকায় অনেক অংশে পরিস্থিতি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও পথচারী এবং যাত্রীদের অস্বাভাবিক সময় লাগছে। এতে প্রতিদিনের অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী মানুষ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের স্থায়ী জট ও সংকুচিত চলাচলের জায়গা অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অন্য জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। কোনো জরুরি প্রয়োজন বা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে স্থানীয়দের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়রা গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিকে দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য পাড়া-মহল্লায় মাইকিং এবং জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতার বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি বলেন, এই সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে, যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
এছাড়া সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ