প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজবাড়ী জেলার ধাওয়াপাড়া এবং পাবনা জেলার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী যাত্রী এবং যানবাহন সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. রবিউল ইসলাম এক বার্তায় ফেরি চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নাজিরগঞ্জ–ধাওয়াপাড়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় ১২ অক্টোবর রাত ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।
এর আগে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত ৫ অক্টোবর দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে এই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। টানা ছয় দিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে ফেরি চালুর পর নৌপথে নাব্যতা সংকটের বিষয়টি সামনে আসে। জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং না করা হলে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
রোববার সকালে ধাওয়াপাড়া থেকে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে একটি পরীক্ষামূলক ফেরি চালানো হয়েছিল। এরপর বিকেলে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এক দিনের মাথায় ফেরি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
এর আগে নাজিরগঞ্জ–ধাওয়াপাড়া নৌরুটে ফেরি চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। টানা ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর নৌরুটটি আবার চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অক্টোবরের শুরুতে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার ফেরি বন্ধ ও চালুর ঘটনায় এ নৌপথ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া এবং পাবনার নাজিরগঞ্জের মধ্যে পদ্মা নদী পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দুই জেলার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষ এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্যও এই নৌরুটটি গুরুত্বপূর্ণ। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে এ পথে সরাসরি নদী পারাপার ব্যাহত হয়। তখন যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় এবং ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নৌপথের নাব্যতা সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং করা প্রয়োজন। নাব্যতা সংকটের কারণে বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় এ রুটের নিয়মিত যাত্রী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করে নৌপথের নাব্যতা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে কবে নাগাদ ড্রেজিং শুরু হবে এবং ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন