ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শেষ মুহূর্তে আম বাজারে বেচাকেনা বেশ জমজমাট


চাঁপাইনবাবগঞ্জে শেষ মুহূর্তে আম বাজারে বেচাকেনা বেশ জমজমাট

 

 আমের মৌসুম প্রায় শেষের পথে থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আম বাজারে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, মৌসুমের শেষদিকে বাজারে বেচাকেনায় গতি ফিরলেও পুরো মৌসুমে অধিকাংশ চাষি উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি। ফলে মৌসুমের শেষদিকে কিছুটা দাম বাড়লেও অনেক চাষির মুখে হতাশার ছাপ রয়ে গেছে। যদিও ব্যবসায়ীরা বরাবরের মতো এবারও ভালো ব্যবসা করেছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে মৌসুমের শেষভাগে আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-৮, গৌড়মতি, ব্যানানা এবং কাটিমনসহ বিভিন্ন বারোমাসি জাতের আমকে নিয়ে জেলার বৃহত্তম কানসাট বাজারে আমের বেচাকেনা চলতে থাকছে বেশ জমজমাট। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ আমের বেচাকেনা হচ্ছে এই আম বাজারে। শেষ সময়েও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

আজ মঙ্গলবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের আমচাষি হাসিবুল হাসান বাবুর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আমের মৌসুম প্রায় শেষ মুহূর্তে। তিনি বলেন, আজ আমি আশ্বিনা আম ৩ হাজার ৮শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। তবে উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় এ দাম সন্তোষজনক নয় বলেও জানান তিনি।

দুর্লভপুর ইউনিয়নের আমচাষি মনিরুল ইসলাম আজ কানসাট বাজারে প্রতি মণ বারি-৪ আম ৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে বলেন, কয়েক বছর আগেও একই জাতের আমের দাম আরও বেশি পাওয়া যেত। তিনি আরও জানান, এখন আমের দাম কিছুটা বেশি তবে প্রথম দিকে প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া যায়নি।

আমচাষি ও গণমাধ্যমকর্মী ফরহাদ আলী কাটিমন ম্যাঙ্গো নিয়ে বাজারে এসে প্রতি মণ ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে কিছুটা খুশি হলেও তিনি আম নিয়ে শোনালেন হতাশার কথা।

দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে আমের ব্যবসা করে আসছেন ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, মৌসুমের শেষদিকে আমের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও এ বছর মৌসুমজুড়ে আমের বাজার স্থিতিশীল ছিল না। তবে আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা চলতি বছর লাভজনক ব্যবসা করেছি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

আমচাষী আবুল হাসনাত বলেন, জেলার অন্য চার উপজেলার সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। একসময় এখানকার প্রায় ৮০ শতাংশ বাগানে ফজলি আমের চাষ হতো কিন্তু কয়েক বছর থেকে ফজলি আম হারভেস্টিং করার সময় ব্যানানা, কাটিমন, আম্রপালি এবং বারি-৪সহ নতুন কয়েক জাতের আম বাজারে নামতে শুরু করেছে। ফলে এ সময় ফজলির পরিবর্তে এসব আমের চাহিদা বেশি থাকে। তাই চাষিরা ফজলি আমের ন্যায্যমূল্য পায় না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার আমচাষী সেন্টু মিয়া বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে আমের সঙ্গে যুক্ত আছি। প্রায় ১০ বছর আগে আম চাষ করে লাভবান হতাম, কিন্তু কয়েক বছর থেকে আমচাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ মিলছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারমূল্য সেই অনুপাতে বাড়েনা।

শিবগঞ্জ আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি আবু তালেব বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা আমের সঙ্গে জড়িত। উৎপাদন খরচ প্রতি বছর বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমের দাম বাড়ছেনা। কয়েক বছর থেকে চাষিরা নায্যমূল্য পাচ্ছেনা। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ আম শিল্প আজ হুমকির মুখে। কাজেই এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে আম প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করণের জোর দাবি জানান তিনি।

এদিকে বর্তমানে জেলার কানসাট ও রহনপুরসহ অন্যান্য আমের বাজারে আশ্বিনা আম প্রতি মন ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা, বারি-৪ ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার, গৌড়মতি ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার, কাটিমন ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার এবং ব্যানানা ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। মৌসুমের শেষভাগেও বাজারে আশ্বিনা, গৌড়মতি, ব্যানানা, বারি-৪সহ কয়েক জাতের আমের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সরকার তিনটি বন্ধ জুট মিল লিজ দিয়ে দিল। মিলকে প্রাণ আরএফএল এবং হ্যামকো গ্রুপের কাছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সরকার তিনটি বন্ধ জুট মিল লিজ দিয়ে দিল। মিলকে প্রাণ আরএফএল এবং হ্যামকো গ্রুপের কাছে

বিপরীতে, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ তিনটি বন্ধ জুট মিলকে প্রাণ আরএফএল এবং হ্যামকো গ্রুপের কাছে লিজ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এই বিষয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন।

শরীফুল আলম আরো জানান, দুইটি কোম্পানি মিল তিনটিতে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করবে। এই বিনিয়োগের ফলে ১১ হাজারের অধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্যান্য কিছু কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, খুলনার দিঘলিয়া স্টার জুট মিল এবং সিরাজগঞ্জের রায়পুরের জাতীয় জুট মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, বন্ধ থাকা মিল কারখানাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোকেই আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালুর জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যু/দ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ‘নিঃশর্ত আ/ত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিল: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


যু/দ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ‘নিঃশর্ত আ/ত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিল: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিল। তবে ২০ দিন পরে, একই পক্ষ আলোচনার জন্য অনুরোধ করতে বাধ্য হয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ দাবি করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন।

আরাঘচি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্র দুটি শব্দ লিখেছিলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’। আরাঘচির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এটাই ছিল তাদের আমাদের কাছে চাওয়া। কিন্তু মাত্র ২০ দিন পর একই প্রতিপক্ষ আলোচনা শুরু করে’।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের জয় দাবি করে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান নিজেকে বিশ্বের সামনে একটি ‘কঠিন ও অপরাজেয় শক্তি’ হিসেবে প্রমাণ করেছে।

আরাঘচি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি বারবার শুনেছেন, ‘আপনারা ইরানিরা একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন, পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন’। তিনি বলেন, ‘কেউ ভাবেনি যে ইরান এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে’।

আরাঘচির দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পেছনে ইসরাইল, পশ্চিমা বিশ্ব এবং আরও কয়েকটি দেশের সমর্থন ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, এসব সমর্থন সত্ত্বেও ইরান প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেদের সক্ষমতা ও শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।

এদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতদের জন্য তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের কয়েক দিন আগে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে তেহরান।

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি সাত ঘণ্টার এক বৈঠকে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মেয়েটাকে হ/ত্যা করা হয়েছে, বিচারের জন্য আমরা ঘুরছি’—ফিমার মায়ের কান্না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


‘মেয়েটাকে হ/ত্যা করা হয়েছে, বিচারের জন্য আমরা ঘুরছি’—ফিমার মায়ের কান্না

ঢাকার আজিমপুরে চাঞ্চল্যকর তাহিয়া তাসনিম ফিমা (১৯) হত্যা মামলার আসামি কাজী সাগরসহ দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য মানববন্ধন করেছে ফিমার পরিবার এবং স্বজনরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ফিমার বাবা মো. তাজুল ইসলাম। এই সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ফিমার বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, “বিয়ের পর আমার মেয়েটি কখনও ভালো ছিল না। ওর স্বামী আগেও গায়ে হাত তুলেছে, নির্যাতন করেছে। ফিমা ওর মায়ের কাছে সেই নির্যাতনের কথাও জানিয়েছিল। আমরা অপেক্ষা করেছিলাম, নতুন পরিবেশ, নতুন জীবন, কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হলো।”

তিনি বলেন, “একটা কথা বলা জরুরি, আমার মেয়েটাকে হত্যা করা হয়েছে; কিন্তু আমি শুধু ফিমার জন্য আজ এখানে দাঁড়াইনি। দাঁড়িয়েছি অন্য ফিমাদের জন্যও, যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে এবং যাদের পরিবার সেই হত্যার ন্যায় বিচার পাননি। আমি সেই সকল পিতামাতার জন্য দাঁড়িয়ে আছি, যারা তাদের সন্তানদের হারিয়েছেন কারণ কোনো না কোনোভাবে আমাদের পুলিশ এবং বিচার ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।”

তাজুল ইসলাম আরও বলেন, “আমি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, পুলিশ, বিচার ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি ফিমা হত্যকাণ্ডের বিচার যেন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। আসামির যখন দোষী সাব্যস্ত হয়, তখন যেন সর্বোচ্চ দণ্ড দেওয়া হয়। আমি চাই যে কাজী সাগর এমন দণ্ড পাক, যা একটি বার্তা দেয় যে বাংলাদেশে নারী হত্যার কোনো সহনশীলতা নেই।”

তিনি যোগ করেন, “আমাদের বিচার প্রক্রিয়া গতিশীল করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতার মামলাগুলো পুলিশকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, আদালতকে বিচার ত্বরান্বিত করতে হবে। রাষ্ট্রকে এখন নিশ্চিত করতে হবে যেন নারীদের জীবন এবং নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পায়।”

মানববন্ধনে ফিমার মা রিনা ইয়াসমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েটিকে হত্যা করা হলো, তারপর থেকে আমরা থানার বারান্দায় ঘুরছি। কিন্তু চার্জশিট দিতে গড়িমসি করেছে পুলিশ। এটা এমন একটা হত্যাকাণ্ড যার সমস্ত আলামত রয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও সব স্পষ্ট, ময়নাতদন্তেও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারপরও কেন এত দেরি হলো? আসলে মামলাটিকে প্রভাবিত করার সব চেষ্টাই করছে আসামিপক্ষ। এখন আদালতের কাছে আমি দ্রুত এই ঘটনার বিচার চাই।”

তিনি বলেন, “আমার সন্তান হত্যার বিচার যেন আটকে না থাকে এবং আমাদের মতো কেউ যেন স্বজনহারা না হয়, তাই আমরা মানববন্ধন করে দ্রুত এই হত্যাকারীর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে, জেলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. সয়দুজ্জামান জানিয়েছেন, গত ২৬ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ভুক্তভোগী ফিমাকে নির্যাতন ও গলাটিপে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। আসামি সাগরের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন বাকিটা আদালতের বিষয়।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ মার্চ রাতে ঢাকার আজিমপুরের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি বাসা থেকে তাহিয়া তাসনিম ওরফে ফিমার (১৯) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকেই ফিমার স্বামী কাজী সাগর আত্মগোপন করে। বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীর সাক্ষ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ও ফিমার পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাগরের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে ফিমার বাবা তাজুল ইসলাম কাজী সাগরকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। কাজী সাগরের বাবা কাজী মনিরুল হক ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বানা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান।

পরবর্তীতে ২৭ মার্চ ভারতের নদীয়া জেলার গাঙনাপুর থানার এলাকায় কাজী সাগর, তার বাবা কাজী মনিরুল হক এবং সাগরের মামা জাফর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ দিন কারাগারে থাকার পর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ফিমার পরিবারের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর কাজী সাগর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গোপনে বসবাস করছেন এবং এখন পর্যন্ত তাকে কারাগারে যেতে হয়নি।

এ অবস্থায় ফিমার পরিবার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি, বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


২ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি, বিনিয়োগ হবে ৬১৯ কোটি টাকা

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে, দুইটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আরও জানান, চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অপরদিকে, প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিল তিনটি চালু হলে, কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। এতে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে। বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে, খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে, কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসি’র উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ সম্পন্ন করে লিজগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ বিজJennচার্মন্ধি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%