শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৫ পি.এম
সার্বিয়া বসনিয়ার মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানো যুদ্ধাপরাধী জেনারেল রাতকো ম্লাদিককে সামরিক মর্যাদা প্রদান করেছে। এই যুদ্ধাপরাধী ৮৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি কারা হাসপাতালে মারা যান।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতকো ম্লাদিকের মরদেহ নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে সার্বিয়াতে পৌঁছায়। বসনিয়ার কসাইখ্যাত এই যুদ্ধাপরাধীর কফিনটি সার্বিয়ার পতাকায় মোড়ানো ছিল। তার মরদেহ বহন করেন ছয়জন সেনা, এবং সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ও বিচারমন্ত্রী নেনান্দ ভুজিক।
পুলিশের স্কর্টে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তার মরদেহ। যুদ্ধাপরাধীর মরদেহটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, যাতে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়। এরপর মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গত সপ্তাহে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক জানিয়েছিলেন যে, দণ্ডপ্রাপ্ত এই যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানো হবে।
১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধে রাতকো ম্লাদিক আট হাজার মুসলিমকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সার্বিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। তারা মন্তব্য করেছে, "তার মতো একজন অপরাধীর স্থান ইউরোপে নেই এবং এসব অপরাধেরও কোনো স্থান নেই।"
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের নির্ধারণ করা ‘সেফ এরিয়া’-তে আট হাজার মুসলিম হত্যার নেতৃত্ব দেন রাতকো ম্লাদিক; যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় নৃশংস হত্যার ঘটনা। তার নির্দেশে মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ভয়াবহ ওই গণহত্যার পর রাতকো ম্লাদিকের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২১ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রাতকো ম্লাদিক, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়।
২০১৭ সালে দেওয়া রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এই জেনারেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবজাতির জঘন্যতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সরকারকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বিরোধী দলকে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে জাতীয় সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। রিজভী বলেন, “গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকট আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনার জন্য হয়েছ।”
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, “আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন- ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা একটা অল্টারনেটিভ বলুন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলা করার জন্য বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।
রিজভী বলেন, “একটা পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি করা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। বরং কীভাবে এই সংকট নিবারণ করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা দিতে হবে।”
তিনি অতীতের পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে হয়নি।
জুলাই আন্দোলনে গান ও নৃত্যের ভূমিকা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও সাহস তৈরি করেছিল।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জল, কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, নায়ক হেলাল খান, জাকির হোসেন রুকন প্রমুখ। পরে সংস্থাটির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে হোটেল ম্যানেজারও রয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাধবপুর বাজারের ‘আবাসিক হোটেল তাজমহল’-এ এই অভিযান পরিচালনা করেন মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ সরকার। অভিযানের সময় হোটেল থেকে ১০ জনকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩১), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে রুবেল (২৫), বিজয়নগর উপজেলার এক্তিয়ারপুর গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে জালাল উদ্দিন (২৮), একই গ্রামের মৃত আবু মিয়ার মেয়ে খাদিজা (২১), মেঘশিমুল গ্রামের আলিম মিয়ার মেয়ে মুন্নী আক্তার (২৩), ফরিদ মিয়ার মেয়ে নুরুন্নাহার ওরফে খাদিজা (৪০), হানিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (২০), আব্দুল হাসিমের ছেলে তোফাজ্জল (২৫), মাধবপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সজীব মিয়া এবং পৌর শহরের কাটিয়ারা গ্রামের সুবিনয় চন্দ্র পালের ছেলে সুরঞ্জিত পাল সোহেল।
মাধবপুর থানার ওসি মো. সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাইকমিশন প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে, যেখানে দালালদের প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে হাইকমিশন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে এই বার্তাটি প্রকাশ করে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, দালালরা বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ‘নিশ্চিত ভিসা’, ‘দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ’ এবং ‘নিশ্চিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট’ এর মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়। এই ধরনের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করলে ভিসা আবেদন, অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়েছে, কোনো অননুমোদিত এজেন্ট বা ব্যক্তির কাছে টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তর করা উচিত নয়।
এছাড়া, ভারতের ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদনকারীদের সরকারি নির্ধারিত ভিসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জে এক পথচারীকে রক্ষা করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীকে বহনকারী গাড়ি। এই ঘটনায় গাড়িতে থাকা প্রতিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী নাজমা আরা বারী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে যাওয়ার পথে প্রতিমন্ত্রীর বহর মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের কিচক ব্রিজের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ এক পথচারী নারী গাড়ির সামনে এসে পড়েন। চালক তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
এ কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের কৃষিজমিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর আহত প্রতিমন্ত্রী, তার স্ত্রী এবং বডিগার্ডকে উদ্ধার করে প্রথমে কালাইয়ে প্রতিমন্ত্রীর বাসায় নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আহত পথচারী ফিরোজা বেগম (৫৫), যিনি শিবগঞ্জের গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী, গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধা ফিরোজাকেও চিকিৎসার জন্য টিএমএসএস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ