প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সার্বিয়া বসনিয়ার মুসলিমদের ওপর গণহত্যা চালানো যুদ্ধাপরাধী জেনারেল রাতকো ম্লাদিককে সামরিক মর্যাদা প্রদান করেছে। এই যুদ্ধাপরাধী ৮৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি কারা হাসপাতালে মারা যান।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতকো ম্লাদিকের মরদেহ নেদারল্যান্ডসের হেগ থেকে সার্বিয়াতে পৌঁছায়। বসনিয়ার কসাইখ্যাত এই যুদ্ধাপরাধীর কফিনটি সার্বিয়ার পতাকায় মোড়ানো ছিল। তার মরদেহ বহন করেন ছয়জন সেনা, এবং সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে ও বিচারমন্ত্রী নেনান্দ ভুজিক।
পুলিশের স্কর্টে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তার মরদেহ। যুদ্ধাপরাধীর মরদেহটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, যাতে তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়। এরপর মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গত সপ্তাহে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুকিক জানিয়েছিলেন যে, দণ্ডপ্রাপ্ত এই যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে বিদায় জানানো হবে।
১৯৯২-৯৫ সালের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধে রাতকো ম্লাদিক আট হাজার মুসলিমকে হত্যায় নেতৃত্ব দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সার্বিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। তারা মন্তব্য করেছে, "তার মতো একজন অপরাধীর স্থান ইউরোপে নেই এবং এসব অপরাধেরও কোনো স্থান নেই।"
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের নির্ধারণ করা ‘সেফ এরিয়া’-তে আট হাজার মুসলিম হত্যার নেতৃত্ব দেন রাতকো ম্লাদিক; যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় নৃশংস হত্যার ঘটনা। তার নির্দেশে মুসলিম পুরুষ ও বালকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ভয়াবহ ওই গণহত্যার পর রাতকো ম্লাদিকের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ শুরু হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ার একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২১ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রাতকো ম্লাদিক, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেয়।
২০১৭ সালে দেওয়া রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এই জেনারেলের হত্যাকাণ্ডকে ‘মানবজাতির জঘন্যতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন