রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৮ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিওধারণ করে টাকা দাবির অভিযোগে আল আমিন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আল আমিন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
পরে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর রংপুরের সদর কম্পানি এবং র্যাব-১-এর সিপিএসসি, গাজীপুরের একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করছিলেন। এ সময় মামলার অপর আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। নারীটি বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় বাইরে থাকা আল আমিন তার গলা ধরে পুনরায় তাকে বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় জনি ওই নারীর নগ্ন ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আল আমিনও তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, ধর্ষণের সময় ধারণ করা ভিডিও পরে অন্যত্র স্থানান্তর করেন আসামিরা। এরপর ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয়। পাশাপাশি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সবশেষ পর্যায়ে ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম তার মোবাইল ফোনে থাকা ভিডিও ওই নারীকে দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৮। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে র্যাব।
রংপুর র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় র্যাব পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও জানান, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, ব -১-এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছ।
সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে রাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চিকিৎসাসেবায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ অন্ধকার হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে থাকা চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করতে হচ্ছে রোগী দেখার জন্য।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানাচ্ছেন, দিনে ও রাতে প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। এর ফলে জরুরি বিভাগের রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের মধ্যে রোগী দেখাসহ অন্যান্য কাজ করতে চিকিৎসকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের অন্ধকারে থাকতে হয়। অথচ জরুরি মুহূর্তে হাসপাতালের বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার কথা।
চিকিৎসা নিতে আসা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, "এই হাসপাতালে বিদ্যুৎ একটা বড় সমস্যা। জেনারেটর নেই। এখন আবার ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।"
মঠবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের (ডিজিএম) আমিনুল ইসলাম সুমন জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি বলেন, "প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে।"
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিনহা রায় জানান, জরুরি বিভাগের জন্য যে জেনারেটরটি ছিল, সেটি নষ্ট হয়ে আছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।
চিকিৎসাসেবার মতো জরুরি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে অধিক বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ রোববার, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানটি উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে, দেশের বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) পালিত হবে। এই ধর্মীয় গুরুত্ববহ দিনটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর খোলা থাকবে কি বন্ধ থাকবে, এ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি ছুটির ধর্মীয় ও সাধারণ তালিকা অনুযায়ী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম একটি ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে চিহ্নিত। এর ফলে, এটি বাধ্যতামূলক সাধারণ সরকারি ছুটি হিসেবে গণ্য হবে না। এই দিনে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরগুলো যথারীতি খোলা থাকবে।
বন্ধ থাকবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
তবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে তাদের নিজস্ব ছুটির তালিকা অনুসরণ করে পাঠদান বন্ধ রাখতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ছুটির পঞ্জিকা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে ওই দিন ক্লাস হবে কি না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বার্ষিক ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পরদিন বৃহস্পতিবার নিয়মিত কার্যক্রম চলবে। এরপর ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
তবে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যদি কেউ ঐচ্ছিক ছুটি গ্রহণ করে, তাহলে তিনি টানা চার দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের কর্মজীবীরা ঐচ্ছিক ছুটির বিধান অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এদিন ছুটি নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.)-এর ওফাত দিবস (মৃত্যুবার্ষিকী) হিসেবে বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের জন্য বৈধ অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফ, জে ও আই শ্রেণির অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না। পরিবর্তে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। এই নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন নিয়মে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমোদিত সময় সাধারণত তাদের শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে। তবে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর হতে পারে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি হয়, তাহলে তাকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা বা শিক্ষাক্রমে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এতদিন এফ-১ শিক্ষার্থীরা সাধারণত ‘অবস্থানের মেয়াদ পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতেন। অর্থাৎ, শিক্ষার্থী যতদিন অনুমোদিত শিক্ষাক্রমে নিয়ম মেনে পড়াশোনা করতেন, ততদিন তাদের অবস্থানের মেয়াদ বহাল থাকত। নতুন নিয়মে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শেষ তারিখ দেওয়ার বিধান করা হচ্ছে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর, যদি কোনো শিক্ষার্থীর অনুমোদিত অবস্থানের সময় শেষ হয়ে যায় এবং তিনি আরও সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তাহলে তাকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করতে হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে নতুন মেয়াদে অবস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে।
শুধু এফ-১ শিক্ষার্থী নয়, জে-১ বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ওপরও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ব্যবহৃত আই শ্রেণির অবস্থানের মেয়াদও নির্দিষ্ট সময়ের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে পরিবর্তনটি শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নয়, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরও কিছু অস্থায়ী ভিসাধারীর ওপরও প্রভাব ফেলবে।
তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে আলাদা বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মের কারণে বৈধভাবে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে ১৫ সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নয়। তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের পরিবর্তনকালীন বিধান এবং অনুমোদিত অবস্থানের তথ্য বিবেচনা করা হবে।
নতুন বিধানে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য এফ-১ শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময়ের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর নতুন করে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা বা অনুমোদিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় ৩০ দিন করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনকালীন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর নিয়মটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে অস্থায়ী ভিসাধারীদের অবস্থান ও ভিসার শর্ত মানার বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, এফ ও জে শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থান চালু করার পাশাপাশি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন প্রক্রিয়া থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা যথেষ্ট হবে না; যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বৈধ অবস্থানের সময়সীমার দিকেও নিয়মিত নজর রাখতে হবে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় শিক্ষাক্রমের মেয়াদ বেড়ে গেলে, পড়াশোনার পরিকল্পনায় পরিবর্তন হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাক্রম শেষ করা সম্ভব না হলে আগেভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে। নিজের অবস্থানের নথি, শিক্ষাক্রমের শেষ তারিখ এবং অবস্থান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এর বিরুদ্ধে করা মামলার কারণে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও নজরে থাকবে। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ