ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্ষীর সন্দেশ তৈরির সহজ রেসিপি: উপকরণ ও প্রক্রিয়া বিস্তারিত


ক্ষীর সন্দেশ তৈরির সহজ রেসিপি: উপকরণ ও প্রক্রিয়া বিস্তারিত

বাঙালির শারদীয় পূজা ও উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের খাবারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পূজার খাবারের তালিকায় ক্ষীর সন্দেশ একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে। এই মিষ্টিজাতীয় সুস্বাদু খাবারটি বাড়িতে সহজেই তৈরি করা সম্ভব। দুর্গাপূজার নবমীতে আসুন, সুস্বাদু এই খাবারের রেসিপিটি এক নজরে দেখে নিই।

প্রয়োজনীয় উপকরণ: ঘন দুধ ১ লিটার, ছানা ১ কাপ, গুঁড়ো দুধ ৫ টেবিল চামচ, চিনি স্বাদমতো, ঘি ১ চামচ, এলাচ গুঁড়ো সামান্য।

যেভাবে তৈরি করবেন

আরও পড়ুন: শীত পড়ার আগেই ঠোঁট ফাটছে? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

১. ছানা তৈরি ও মাখা: প্রথমে দুধকে জ্বাল দিয়ে লেবুর রস বা ভিনেগার দিয়ে ছানা কাটতে হবে। ছানাটি ভালোভাবে জল ঝরিয়ে হাতের তালু দিয়ে আলতো করে মেখে নরম করে রাখতে হবে।

২. ক্ষীরসা তৈরি: একটি কড়াইতে দুধ ভালোভাবে জ্বাল দিয়ে ঘন করে ক্ষীরসা প্রস্তুত করতে হবে।

৩. মিশ্রণ তৈরি: এরপর কড়াইতে ক্ষীরসা, ছানা, গুঁড়ো দুধ এবং চিনি একসঙ্গে দিয়ে মিডিয়াম আঁচে নাড়াতে হবে।

৪. পাক দেয়া: মিশ্রণটি ঘন হয়ে যখন সসপ্যানের গা ছেড়ে আসবে এবং আঠালো রূপ নেবে, তখন সামান্য এলাচ গুঁড়ো ও ঘি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে চুলা বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শেফ দিবস, শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো হচ্ছে

৫. শেপ বা আকার দেয়া: মিশ্রণটি হালকা গরম অবস্থায় হাত দিয়ে সামান্য ঘি লাগিয়ে গোল বলের মতো করে ছাঁচে (মোল্ডে) চাপ দিয়ে সন্দেশের আকার দিতে হবে। অথবা সাধারণ বরফির আকারে কেটে নিতে পারেন।

৬. পরিবেশন: কিছুক্ষণ বাতাসে রেখে সেট হতে দিতে হবে। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল মজাদার ক্ষীর সন্দেশ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর সাংবাদিক ফোরামের বিআরটি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ পি.এম


গাজীপুর সাংবাদিক ফোরামের বিআরটি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে এবং এর পেছনের কারণ জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান করেছে। সংগঠনটি অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও আহ্বান জানায়। ফোরামের উদ্বেগ, যদি নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকায় যানজট এবং জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক এক বিবৃতিতে এসব দাবি উত্থাপন করেন।

তারা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যানজট এবং যাতায়াতের দুর্ভোগ ভোগ করছেন। প্রকল্পটি বাতিলের পর নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ৩+৩ লেনের মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত তাদের নতুন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

ফোরামের নেতারা সরকারের কাছে জানতে চান, প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী এবং এর পেছনে কোন যুক্তি রয়েছে, তাও স্পষ্ট করা উচিত। তারা বলেন, যদি প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, পরিকল্পনাগত ত্রুটি বা অর্থের অপচয় হয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তের ফলাফলও জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের বিকল্প বিবেচনা না করে হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

ফোরামের নেতাদের আশঙ্কা, নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি ১৮ জেলার যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার আগে এর ব্যবহারযোগ্যতা, নতুন নির্মাণের ব্যয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর মানুষ এমন একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যা যাতায়াতের সময় কমাবে এবং যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, আর্থিক দায় এবং দেশের যোগাযোগব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত।

ফোরামের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিআরটি প্রকল্প বাতিল ও নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। গাজীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের তিন নেতা গ্রেফতার, কার্যক্রম নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ পি.এম


মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের তিন নেতা গ্রেফতার, কার্যক্রম নিষিদ্ধ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জুয়েল রানা এই তথ্য প্রকাশ করেন।

গ্রেফতারকৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ, একই উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান এবং আটঘরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল রানা জানান, সোমবার বিকেল চারটার দিকে মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা তিনজন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ রেখে ঢাকায় দলীয় কার্যক্রম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ জানায়, তিনজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য সীমান্তের ওপার থেকে আসছে টাকা : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য সীমান্তের ওপার থেকে আসছে টাকা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কলকারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে স্পষ্ট তথ্য যে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারীরা সেখানে অর্থ পাঠাচ্ছে। একটি গোষ্ঠী দেশের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজ করছে, যারা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল; এই দুই পক্ষ একত্রিত হয়েছে। একজন সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিচ্ছে, অন্যজন এখানে বসে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণের সচেতন হওয়ার। আমাদের সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে; বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।’

রাজপথে বিশৃঙ্খলাকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি সরকারের অধীনে দেশে স্থিতিশীলতা আনতে ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছি। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু ও বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হয় এবং উৎপাদিত পণ্য বিদেশে যেতে পারে। কিন্তু একটি বিশেষ দল আরও কয়েকটি দলের সহযোগিতায় রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তারা সরকারের জনবান্ধব কার্যক্রমগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। যারা জনগণের ক্ষতি করে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’

একাত্তর ও চব্বিশের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত ছাত্র ও নিরীহ মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল। বিএনপি একুশ, একাত্তর ও চব্বিশকে ধারণ করে বলেই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। গতকাল (সোমবার) সেই শহীদদের স্মরণে আমরা ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। যারা মুখে চব্বিশকে ধারণ করার কথা বলে, সেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তাদের মুখে এক কথা, আর কর্মে আরেক প্রতিফলন।’

ষড়যন্ত্র রুখতে ঐক্যের ডাক দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়েও যখনই তারা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজে হাত দিয়েছিলেন, তখনই দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে গতিরোধ করার চেষ্টা করেছে। সেই কুচক্রী মহল আবার সজাগ হয়ে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তাই উন্নয়নের গতি ধরে রাখতে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

জনসভায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে বেকার না থাকেন, সেজন্য সরকার গঠনের সাত মাসের মধ্যে সারা দেশে ৬টি বন্ধ মিল-কারখানা উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে চালু করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সারা দেশের প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার আখচাষির জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে এবং এ বছরই ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, সেচ ও পানির সংকট নিরসনে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে, যার মধ্যে গেল আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা, পরিবেশ রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রদান এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৩ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


১৩ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের পূর্বে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেছে। বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত আখচাষিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজারের মতো আখচাষি ভাইদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রণোদনা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে আগামী মৌসুমে আখ চাষের জন্য তাদের কষ্ট কিছুটা কম হয়। কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে, এই দেশের কৃষক বাঁচলে এবং কৃষি বাঁচলে তাহলেই দেশ বেঁচে থাকবে।’

কৃষকদের সহায়তায় ‘ফার্মারস কার্ড’ বা কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে চলছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হবে। এ বছরেই সমগ্র বাংলাদেশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক ভাইয়ের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। যদি কোনো কৃষক ভাই বছরে দুটো বা তিনটি ফসল উৎপাদন করেন, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ ও কীটনাশক যতটুকু সম্ভব পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব, যাতে তার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।’

কৃষক কার্ডের অন্যান্য সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চাষিরা যেমন ক্ষেতের ফসলের বীমা করতে পারবেন, তেমনি সহজেই ব্যাংকঋণও গ্রহণ করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, এই কার্ডের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে জানা যাবে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি হবে না। ফলে কৃষক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তিনি বীজ বপন করবেন নাকি সার দেবেন। এরকম প্রায় ১০টি সুবিধা থাকবে সেই কৃষক কার্ডে।’

সেচ সুবিধা ও খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কৃষক ভাইয়েরা যাতে সঠিকভাবে সেচ সুবিধা পান এবং গ্রামের মা-বোনদের যাতে দূর থেকে কষ্ট করে পানি আনতে না হয়, সেজন্য সারা দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এর মধ্যে গেল আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পানির সমস্যা দূর করতে উত্তরাঞ্চলে তিস্তা এবং রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে আমরা দুটো ব্যারেজ তৈরি করব। বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর যেতে হয় আমরা যাব এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু ও শেষ করব।’

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ বেড থেকে ১৫০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। সেখানে শিশু এবং মা-বোনদের জন্য আলাদা বেড ও কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া গেল জুনের বাজেটে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের ওষুধ এবং হার্টের চিকিৎসার সরঞ্জামের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে চিকিৎসার খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে বেকার না থাকেন, সেজন্য সরকার গঠনের পর সাত মাসে সারা দেশে বন্ধ থাকা ৬টি মিল-কারখানা বিভিন্ন উদ্যোক্তার মাধ্যমে চালু করা হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মা-বোনদের শিক্ষা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে করা এবং ভালো ফলাফলকারীদের উপবৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার।’

দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের পরিষ্কার তথ্য আছে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশে ভ্রান্তি ছড়ানো একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের উন্নয়নের গতি এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%