প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে এবং এর পেছনের কারণ জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান করেছে। সংগঠনটি অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও আহ্বান জানায়। ফোরামের উদ্বেগ, যদি নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকায় যানজট এবং জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক এক বিবৃতিতে এসব দাবি উত্থাপন করেন।
তারা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যানজট এবং যাতায়াতের দুর্ভোগ ভোগ করছেন। প্রকল্পটি বাতিলের পর নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ৩+৩ লেনের মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত তাদের নতুন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
ফোরামের নেতারা সরকারের কাছে জানতে চান, প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী এবং এর পেছনে কোন যুক্তি রয়েছে, তাও স্পষ্ট করা উচিত। তারা বলেন, যদি প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, পরিকল্পনাগত ত্রুটি বা অর্থের অপচয় হয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তের ফলাফলও জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের বিকল্প বিবেচনা না করে হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
ফোরামের নেতাদের আশঙ্কা, নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি ১৮ জেলার যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার আগে এর ব্যবহারযোগ্যতা, নতুন নির্মাণের ব্যয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর মানুষ এমন একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যা যাতায়াতের সময় কমাবে এবং যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, আর্থিক দায় এবং দেশের যোগাযোগব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত।
ফোরামের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিআরটি প্রকল্প বাতিল ও নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। গাজীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন