সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৬ পি.এম
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। ভিসা বাতিলের ফলে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত এসব ভিসা বাতিল করছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, ভিসা বাতিলের সংখ্যা বর্তমানে ৪ হাজার ৮০০-তে উন্নীত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে এবং বিষয়টি এভাবে হওয়া উচিত নয়। যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, জুলাই মাস থেকে অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইলে, কারও মোবাইলে আবার সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা যাচ্ছে। অনেকেই ছুটিতে দেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পেয়ে আমিরাতে ফিরতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই জানান, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত অভিযোগ নেই। তারা আমিরাতে ব্যবসা ও পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় দেশে ফিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে ব্যবসা ও জীবিকা—সবকিছু হারানোর আশঙ্কা করছেন।
এ পরিস্থিতিতে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনায় দেশটির শ্রমবাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা জরুরি।
এ বিষয়ে সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরী মনে করেন, এই পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশিদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
এদিকে যেসব প্রবাসীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে, তাদের দূতাবাসের নির্ধারিত ইমেইলে তথ্য জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে রাজশাহীর চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্কের মাত্রা কমেনি। পানি কিছুটা কমলেও স্বস্তি ফিরে আসেনি। বরং পানির সাথে ভেসে আসা কিংবা নিচু এলাকা থেকে উঠে আসা সাপ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর পানি বাড়ার ফলে নিচু এলাকা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ লোকালয় ও বসতবাড়ির নিকট চলে আসছে। রাজশাহী নগরীর সীমান্ত অবকাশ এলাকায় বিষধর রাসেল ভাইপারও দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২৯ মিটার। আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় এই উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩৩ মিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি কমেছে ৪ সেন্টিমিটার। তবে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার হওয়ায় নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার মাত্র ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক পানির উচ্চতা কমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কয়েক দিন ধরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছিল। এর ফলে শহরের পাশের ভারত সীমান্তঘেঁষা চর খিদিরপুর ও খানপুরসহ নদীর ওপারের বিভিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
রাজশাহীর সীমান্ত অবকাশ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে তারা একাধিক বিষধর সাপ দেখেছেন। তাদের দাবি, নদীর পানি বাড়ার কারণে নিচু জায়গা থেকে সাপগুলো উঁচু ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে উঠে আসছে। পরে সেখান থেকে সাপ লোকালয় ও বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় আতঙ্ক বেড়েছে।
আল আমিন নামের এক কিশোরের ভাষ্য, পানির মধ্য থেকে বড় একটি সাপ উঠে আসতে দেখেছে সে। পরে ঘাটের কাছে সাপটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা সেটি মেরে ফেলে।
তমিজা খাতুন নামের এক নারী জানায়, সে-ও একটি বড় সাপ দেখেছে। সেটিকে মারার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত চলে গেছে।
আহাদ আলী নামের আরেক বাসিন্দা বললেন, পানি বাড়ার কারণে নদী ও আশপাশের নিচু জায়গা থেকে সাপগুলো উঁচু স্থানে উঠে আসছে। সেখান থেকে লোকালয়ের দিকে চলে আসায় মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে।
এই আতঙ্কের মধ্যে চিকিৎসা প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। সাপে কাটা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। অ্যান্টিভেনম বিনামূল্যেই দেওয়া হচ্ছে।
পানিবন্দি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শাহিদুল ইসলাম জানালেন, পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। আকস্মিক বন্যার ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণও শুরু হয়েছে।
এদিকে পদ্মার পানি এখনো বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় নগরীর টি-বাঁধেও সতর্কতা বহাল রয়েছে। জনপ্রিয় এই বিনোদনকেন্দ্রে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেছেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে জরুরি সতর্কতা হিসেবে টি-বাঁধ এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কাউকে প্রবেশ বা জড়ো না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় যেখানে পদ্মার পাড়ে মানুষের ভিড় জমে, সেখানে এখন নীরবতা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি নগর রক্ষা বাঁধের স্থিতিশীলতাও পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, যোগ করেন তিনি।
আরিফুর রহমান অঙ্কুর বললেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি নগর রক্ষা বাঁধ ও নদীতীরবর্তী অন্যান্য অবকাঠামোর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি হিসেবে ভবিষ্যৎমুখী আইন প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
তিনি বহুদলীয় আমেরিকান ককাসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এই মন্তব্য করেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তার মাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি নিশ্চিত করেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বার্তায় বহুদলীয় আমেরিকান ককাসের প্রতিনিধিদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আলোচনা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ। তিনি ভবিষ্যৎমুখী আইন কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে উল্লেখ করেন, আধুনিক ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এবং অগ্রগতির ধারাকে আরও গতিশীল করবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ ব্যালন ডি’অর নিয়ে উত্তেজনা বর্তমানে তুঙ্গে অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে লামিন ইয়ামাল এবং কিলিয়ান এমবাপের মধ্যে পুরস্কার জয়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ইয়ামাল, যিনি জানাচ্ছেন যে, এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য তিনি নিজেকে সবচেয়ে যোগ্য মনে করছেন।
মুভিস্টারের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইউনিভার্সো ভালদানো’তে ইয়ামালের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। যদিও পুরো সাক্ষাৎকারটি আগামী শুক্রবার প্রচারিত হবে, তবুও আগেই প্রকাশিত অংশগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ট’ এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের পছন্দের কথা বলতে গিয়ে বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা বলেছেন, "আমি ব্যালন ডি’অর কাকে দেব? সত্যি বলতে, আমার মনে হয় দুজন খেলোয়াড় আছে, যারা বিশ্বসেরা। তবে এই বছর আমি এটি পাওয়ার যোগ্য।"
বিশ্বসেরার সেই দুজন খেলোয়াড় কারা, সেই প্রশ্নের উত্তরও ইয়ামাল এড়িয়ে যাননি। তিনি বলেন, "আমার কাছে কিলিয়ান এমবাপে ও আমি সেরা দুই খেলোয়াড়। যারা ম্যাচ দেখে, তারা এটা ভালোভাবেই জানে।"
এর কয়েকদিন আগে এমবাপে নিজেকে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ব্যক্তিগত পুরস্কার হওয়ায় দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ফরাসি তারকা বলেছিলেন, "আমি বিশ্বাস করি, এ বছর আমি এটি জিততে পারি। এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য, একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যও।"
এমবাপে তার ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায় সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে তিনি এবারও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
ব্যালন ডি’অরের মাপকাঠিতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ। সেই হিসেবে এবারের প্রতিযোগিতায় ইয়ামাল কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন। দুজনের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নজরকাড়া হলেও সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে জাতীয় দলের সাফল্য। বিশ্বকাপে এমবাপের ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে ইয়ামালের স্পেন এবং তারা শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। প্রথমবারের বিজয়ী স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসকে সম্মান জানাতে এবার লন্ডনে আয়োজন করা হচ্ছে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ইতোমধ্যে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট শেষ পর্যন্ত কার মাথায় ওঠে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনের কারণে একটি মসজিদ সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মুসল্লিরা ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে ফজরের সময় গিয়ে তারা দেখতে পান, মসজিদটির সেখানে কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পাড়জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পূর্বেই বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তবে কয়েক দিনের প্রবল স্রোতে সেই প্রতিরোধব্যবস্থার একটি বড় অংশও ধসে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা থামায়নি, কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই তীব্র যে, প্রতিরোধব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থার মধ্যেই রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি শেষ পর্যন্ত পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
মাদরাসার ছাত্র সোহেল জানান, "আমরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।"
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু মন্তব্য করেন, "কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় নদী গভীর হয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।"
মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, "আমাদের এখানে ৫ বছর ধরে নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি এখানে স্থায়ী বাঁধ দেবে। কিন্তু পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়ি-ঘর, মসজিদ সব পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।"
শুধু সদর উপজেলা নয়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকায়ও তীব্র নদীভাঙন চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় মো. হোসেন লিটন খান বলেন, "আমরা এই এলাকার লোকজন পদ্মার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। আমাদের এখানকার মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ ভালো একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর মাহফিলের সময় অনেক লোক হয়। মাহফিল করার যে মাঠ ছিলো, সেটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদানী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আকুল আবেদন প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে একটি স্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হোক।"
স্থানীয় জামাল জানান, "নদীটা ছোট ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে আশে-পাশের অনেকগুলো বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এখানে মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নাই। অনেকে এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এখানে একটি মাদরাসায় এলাকার ছাত্ররা লেখাপড়া করে, সেই মাদরাসার মসজিদটিও ভেঙে গেলো।"
এদিকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙন কবলিত সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তারা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, "এই এলাকার ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকা নিয়ে কাজ করছি আমরা।"
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে আমরা আন্তরিক। সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, "পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ