ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, আফনান হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ


চবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, আফনান হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) স্বাস্থ্য সম্পাদক আফনান হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। আফনান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে, জামায়াতে ইসলামী থেকে তাকে বহিষ্কারের যে খবর ছড়িয়েছে, সেটিও মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবির সত্য নয় বলে দাবি করেছেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়। পরে এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এ এফ রহমান হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন ‘লীগ গেছে হিন্দুস্তান, শিবির যাবে পাকিস্তান’, ‘বীর বীর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’ ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন। তিনি চাকসু স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বলেন, চাকসু থেকে এদের বিতাড়িত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বাইতুল মাল নামে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি করতে না পারায় তারা বিভিন্ন জায়গায় তা করছে। ইয়াসিন বলেন, "যারা এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, জনগণের মাধ্যমে প্রকাশ করুন। আর আইনের আওতায় না আনতে পারলে আমরাই তার বিচার করব।"

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চাকসু নির্বাচন করেছিল, সে চাকসু আর চাকসু নেই, সেটি এখন শিবিরসুতে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, "এরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য কাজ করে না, এরা শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে।" তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে চাকসুর নামে চাঁদাবাজি করা হয়। আল নোমান বলেন, "এই চাঁদাবাজেরা চাঁদা তুলে ১০০ টাকা খরচ করে ১০ টাকা। তিন লাখ টাকা খরচ করে শিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠান করে এবং নিজেদের আখের গোছানোতে ব্যস্ত।"

তিনি বলেন, "আমরা দেখেছি, অতি সম্প্রতি আমরা সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম—আপনি যদি স্বচ্ছ থাকেন, আপনি সিটের বণ্টন এবং যে উন্নয়নের খরচ, তার হিসাব দেন।" তিনি অভিযোগ করেন, "সে উন্নয়নের টাকা দিয়ে শিবিরের নবীনবরণে টাকা দিয়েছে। এই টাকা কোথা থেকে এসেছে?"

আব্দুল্লাহ আল নোমান আরও বলেন, "আমি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ যদি বীরের বেশে মব কার্যক্রম চালু করতে চায়, গুপ্ত হামলা করবেন—সুস্পষ্ট বার্তা, আমার বাপ-দাদার যুগ আর নাই, ওই যুগ নাই। ছাত্রসমাজের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ। এই নতুন বাংলাদেশে কেউ যদি ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণের বিপরীতে দাঁড়ায়, ছাত্র সংসদ যদি শিক্ষার্থীদের কল্যাণের বিপরীতে দাঁড়ায়, নিজেদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে, তবে কারও পিঠের চামড়া রাখা হবে না।" তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছে এবং প্রয়োজনে আবার রক্ত দেবে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তিনি ছাত্র সংসদের স্বাস্থ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাকসু সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, চাকসু নিজেদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুই করে না। তিনি প্রশ্ন করেন, "যদি কিছু করেই থাকত, তবে আবাসন কোথায়? যেখানে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা আবাসনের অভাবে রাতের অন্ধকারে মুখ গুঁজে থাকে।" তিনি অভিযোগ করেন, "ইন্টেরিম সরকারের সময় ভাওতাবাজি করে ক্যাম্পাসের প্রতিটি হল যারা দখল করেছে, ইনশাআল্লাহ তাদের পরিচয় উন্মোচিত হবে।"

তিনি চাকসুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইন্টেরিমের সময় আমরা মব দেখেছি। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে বিন্দুমাত্র আঘাত এলে ছাত্রদল সেটি প্রতিহত করবে।" তিনি জানান, "আমরা নির্বাচিত সরকারের অধীনে এখন আছি। আমরা সবকিছু আমাদের বিচারব্যবস্থার হাতে ছেড়ে দেব। এখন যারা নিজের হাতে আইন তুলে নেবে, তাদের বিচার আমরা নিশ্চিত করব।"

এর আগে একই দিন ‘মিরসরাইয়ে বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ, জামায়াতের দুই নেতাকে বহিষ্কার’ শিরোনামে একটি সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সংবাদে চাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক আফনান হাসানকেও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

তবে আফনান হাসান তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, "স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। উনি আমাকে জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সাংবাদিক যোগাযোগ করেনি।" তিনি আরও জানান, "পৌরসভা জামায়াতের একজনের সঙ্গে আমি কিছুক্ষণ আগে বসে ছিলাম। এটার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোনো প্রেস রিলিজ দেবে কি না বা কী প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটা উনারা জানাবেন।"

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে আফনান বলেন, "আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিবিরের সঙ্গে জড়িত এবং এখানকারই সদস্য। জামায়াতের সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িত নই।"

এদিকে আফনানকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের তথ্য অস্বীকার করেছেন মিরসরাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল কবির। তিনি বলেন, "শিবিরের কাউকে জামায়াত কীভাবে বহিষ্কার করতে পারে? যেটা ছড়িয়েছে, এটা সত্য নয়।"

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে নুরুল কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, আফনান হাসানকে এ অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্সফোর্ডে পিএইচডি গবেষণায় মাভাবিপ্রবির উজ্জ্বল হোসেনের সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৮ পি.এম


অক্সফোর্ডে পিএইচডি গবেষণায় মাভাবিপ্রবির উজ্জ্বল হোসেনের সাফল্য

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে DPhil in Biology প্রোগ্রামে গবেষণার সুযোগ লাভ করেছেন। তার গবেষণা কার্যক্রম অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে এপ্রিল ২০৩১ পর্যন্ত চলবে।

বর্তমানে মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (NIB) বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ২০১৪ সালে মাভাবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পরে ২০২২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাকোলজি অ্যান্ড ড্রাগ ডিসকভারি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

অক্সফোর্ডে তিনি জীববিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) নিয়ে গবেষণা করবেন। তিনি মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার জিনোম বিশ্লেষণের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা শনাক্ত ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবেন।

মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭–৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কেমব্রিজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি অফার পেয়েছিলেন।

এছাড়া, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার পিটার র‍্যাটক্লিফের ল্যাব থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন উজ্জ্বল। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের গবেষণাগারকেই বেছে নেন।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে উজ্জ্বল হোসেন আরটিভিকে বলেন, "সুযোগটি পাওয়ার পর প্রথম অনুভূতি ছিল গভীর কৃতজ্ঞতার। এ সময় মা-বাবা, পরিবারের ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কথা মনে পড়েছে। আমার কাছে এটি শুধু একটি অর্জন নয়, বরং নতুন দায়িত্বের শুরু।"

একাডেমিক ফলাফল সম্পর্কে তিনি বলেন, "CGPA গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একজন শিক্ষার্থীর ধারাবাহিকতা ও একাডেমিক নিষ্ঠার প্রতিফলন। তবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে শুধু ফলাফলই যথেষ্ট নয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, চিন্তার গভীরতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।"

গবেষণাক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ক্লিনিক্যাল আইসোলেটের জিনোম বিশ্লেষণ, AMR নজরদারি ও ক্যান্সার বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার প্রায় ৬০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে গবেষণা উপস্থাপন এবং ‘গবেষণায় বায়োইনফরমেটিক্স’ বই লেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

পিএইচডি সম্পন্ন করার পর দেশে ফিরে জাতীয় জিনোমিক ডেটা অবকাঠামো গড়ে তুলতে চান উজ্জ্বল। পাশাপাশি সরকারি নীতিনির্ধারণে AI-ভিত্তিক বায়োইনফরমেটিক্স যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। ইতিমধ্যে তিনি এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং শতাধিক শিক্ষক ও গবেষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ সুরক্ষা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ পি.এম


পরিবেশ সুরক্ষা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য রোড টু আনাতোলিয়া: ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যান্ড এনডিসি ৩.০’ শীর্ষক প্রাক-কপ৩১ আন্তর্জাতিক অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাঠামো সনদের আওতায় অনুষ্ঠিত কপ৩১-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এবং ইউনেস্কো চেয়ার অন এডুকেশন ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট, গ্রিন স্কিলস অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশনস যৌথভাবে এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহরাঞ্চলে বায়ুদূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা, কৃষিজমির উর্বর মাটির ব্যবহার কমানো, পাহাড় ও টিলা কাটা রোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগে সরকার কাজ করছে। একইসাথে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং সৌর ও বায়ুশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইফুম পারভেজ বলেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও যুগোপযোগী করার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের উৎস বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও অন্যান্য সম্ভাব্য উৎস থেকে অর্থায়ন সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের কার্যক্রম সরকারের পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় এবং কার্যকর অংশীদারিত্ব জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং কপ৩১-এর আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে বাস্তবায়নভিত্তিক ফলাফল অর্জনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানো জরুরি।

তিনি বলেন, এনডিসি ৩.০-এর অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে।

আলোচনায় এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নে জলবায়ু অর্থায়নের নতুন ও বহুমুখী উৎস কাজে লাগানো, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক, প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬-এর আওতায় সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা এবং বেসরকারি পুঁজি কাজে লাগিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নের সমন্বয়ে মিশ্র অর্থায়নের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।

কপ৩১ সম্মেলন সামনে রেখে ক্লাইমেট ইমপ্লিমেন্টেশন ব্রিজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামোর মাধ্যমে এনডিসি ও জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তর এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংগ্রহে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, ওয়েবিনারটির আলোচনা ও সুপারিশ আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়ন এবং কপ৩১-এ বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণের প্রস্তুতি জোরদারে সহায়ক হবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নূরুল মুনীরের সঞ্চালনায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ড. লিওনার্দো এ. এ. তেগুহ সাম্বোদো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ড. মারিয়া নেইরা, সিকিউ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ওলাভ মুরলিংক, ইস্তাম্বুল আয়দিন ইউনিভার্সিটির ড. এলিফ কায়া, তুরস্কের ওএমইউডির মহাসচিব উমাই ইলমাজ এবং ক্লাইমেট হাব ইন্টারন্যাশনাল, উগান্ডার কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ক্লিনটন মাওয়ান্ডা প্রমুখ ওয়েবিনারে অংশ নেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিইআরসি সৌরবিদ্যুৎ কেনার দাম ও মাশুল নির্ধারণ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ পি.এম


বিইআরসি সৌরবিদ্যুৎ কেনার দাম ও মাশুল নির্ধারণ করেছে

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র (মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট) থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের পাইকারি দর এবং জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহারের মাশুল (ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ) নির্ধারণ করেছে।

বিইআরসি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

নির্ধারিত দরের ভিত্তিতে, ৩৩ কেভি সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে ৬ টাকা ৯৮ পয়সায়। অন্যদিকে, ১৩২ কেভি সংযোগের জন্য প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৭ টাকা ১১ পয়সা।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করতে হবে।

সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত মাশুলকে ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ বলা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের সংযোগের ধরন অনুযায়ী, প্রতি ইউনিটে এই মাশুল ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে সংযোগের ধরন অনুযায়ী আলাদা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি গ্রিডে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত থাকলে সঞ্চালন ভোল্টেজ অনুযায়ী মোট মাশুল দিতে হবে। ২৩০ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিটে এই মাশুল ১ টাকা ৫৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ৯৭ পয়সা।

এই মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সঞ্চালন মাশুল ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত ৫ পয়সা দিতে হবে।

যদি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে পৃথক বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে। এই ক্ষেত্রে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল দাঁড়াবে ১ টাকা ৮৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা।

তবে, যদি সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকে, তাহলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা মাশুল দিতে হবে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে বিতরণ লসও আরোপ করা হবে না। এই হিসাবের ক্ষেত্রে দেশের সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন একটি বিতরণ সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার না হলে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ২২ পয়সা।

তবে নির্ধারিত মাশুলের বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লসের হিসাবও প্রযোজ্য হবে। সঞ্চালন লসের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিডের প্রতি মাসে প্রকাশিত প্রকৃত গড় হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর বিতরণ লসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোল্টেজ পর্যায়ে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরের অর্জিত হার কার্যকর হবে।

বিতরণ সংস্থাভেদেও পৃথক মাশুল নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। বিপিডিবির জন্য প্রতি ইউনিটে এই হার ৭০ পয়সা। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৮৫ পয়সা এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) জন্য ৯৯ পয়সা। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাশুল ৮৭ পয়সা এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব সংরক্ষণ এবং বিল নিষ্পত্তির সমন্বিত দায়িত্ব পালন করবে বিপিডিবি। নির্ধারিত হারে কেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে বিল আদায় করে পরে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে তাদের প্রযোজ্য মাশুল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে সংস্থাটি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালার আওতায় একটি এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। অবশিষ্ট বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

এর আগে, গত ২৩ আগস্ট মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল।

গণশুনানিতে বড় শিল্পগ্রাহক হারিয়ে রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিপিডিবি ও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিল্পগ্রাহকরা দিনের বেলায় মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতে আবার বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ উদযাপিত হচ্ছে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ পি.এম


আজ উদযাপিত হচ্ছে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস

আজ ৩৬তম ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ হিসেবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস বিশ্বব্যাপী পালন করা হবে। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী প্রদান করেছেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র‌্যালি, আলোচনা সভা, জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে প্রবীণদের মর্যাদা সম্পর্কে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করে বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবেন। প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘প্রবীণ ব্যক্তিগণ আমাদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি। তাদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র- তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

দেশের সব জেলা-উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আজ সেবাগ্রহীতা ও অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে যথাযথ মর্যদায় প্রবীণ দিবসটি পালনের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%