প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে DPhil in Biology প্রোগ্রামে গবেষণার সুযোগ লাভ করেছেন। তার গবেষণা কার্যক্রম অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে এপ্রিল ২০৩১ পর্যন্ত চলবে।
বর্তমানে মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (NIB) বায়োইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ২০১৪ সালে মাভাবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক এবং ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পরে ২০২২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাকোলজি অ্যান্ড ড্রাগ ডিসকভারি বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
অক্সফোর্ডে তিনি জীববিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) নিয়ে গবেষণা করবেন। তিনি মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার জিনোম বিশ্লেষণের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা শনাক্ত ও পূর্বাভাস দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবেন।
মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭–৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কেমব্রিজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি অফার পেয়েছিলেন।
এছাড়া, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার পিটার র্যাটক্লিফের ল্যাব থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন উজ্জ্বল। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের গবেষণাগারকেই বেছে নেন।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে উজ্জ্বল হোসেন আরটিভিকে বলেন, "সুযোগটি পাওয়ার পর প্রথম অনুভূতি ছিল গভীর কৃতজ্ঞতার। এ সময় মা-বাবা, পরিবারের ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কথা মনে পড়েছে। আমার কাছে এটি শুধু একটি অর্জন নয়, বরং নতুন দায়িত্বের শুরু।"
একাডেমিক ফলাফল সম্পর্কে তিনি বলেন, "CGPA গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একজন শিক্ষার্থীর ধারাবাহিকতা ও একাডেমিক নিষ্ঠার প্রতিফলন। তবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে শুধু ফলাফলই যথেষ্ট নয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, চিন্তার গভীরতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।"
গবেষণাক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ক্লিনিক্যাল আইসোলেটের জিনোম বিশ্লেষণ, AMR নজরদারি ও ক্যান্সার বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক জার্নালে তার প্রায় ৬০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে গবেষণা উপস্থাপন এবং ‘গবেষণায় বায়োইনফরমেটিক্স’ বই লেখার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
পিএইচডি সম্পন্ন করার পর দেশে ফিরে জাতীয় জিনোমিক ডেটা অবকাঠামো গড়ে তুলতে চান উজ্জ্বল। পাশাপাশি সরকারি নীতিনির্ধারণে AI-ভিত্তিক বায়োইনফরমেটিক্স যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। ইতিমধ্যে তিনি এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং শতাধিক শিক্ষক ও গবেষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন