বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:২৯ পি.এম
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র (মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট) থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের পাইকারি দর এবং জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহারের মাশুল (ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ) নির্ধারণ করেছে।
বিইআরসি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
নির্ধারিত দরের ভিত্তিতে, ৩৩ কেভি সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে ৬ টাকা ৯৮ পয়সায়। অন্যদিকে, ১৩২ কেভি সংযোগের জন্য প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৭ টাকা ১১ পয়সা।
মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করতে হবে।
সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত মাশুলকে ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ বলা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের সংযোগের ধরন অনুযায়ী, প্রতি ইউনিটে এই মাশুল ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে।
বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে সংযোগের ধরন অনুযায়ী আলাদা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি গ্রিডে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত থাকলে সঞ্চালন ভোল্টেজ অনুযায়ী মোট মাশুল দিতে হবে। ২৩০ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিটে এই মাশুল ১ টাকা ৫৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ৯৭ পয়সা।
এই মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সঞ্চালন মাশুল ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ১৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত ৫ পয়সা দিতে হবে।
যদি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে পৃথক বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে। এই ক্ষেত্রে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল দাঁড়াবে ১ টাকা ৮৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা।
তবে, যদি সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকে, তাহলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা মাশুল দিতে হবে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে বিতরণ লসও আরোপ করা হবে না। এই হিসাবের ক্ষেত্রে দেশের সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন একটি বিতরণ সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার না হলে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ২২ পয়সা।
তবে নির্ধারিত মাশুলের বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লসের হিসাবও প্রযোজ্য হবে। সঞ্চালন লসের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিডের প্রতি মাসে প্রকাশিত প্রকৃত গড় হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর বিতরণ লসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোল্টেজ পর্যায়ে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরের অর্জিত হার কার্যকর হবে।
বিতরণ সংস্থাভেদেও পৃথক মাশুল নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। বিপিডিবির জন্য প্রতি ইউনিটে এই হার ৭০ পয়সা। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৮৫ পয়সা এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) জন্য ৯৯ পয়সা। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাশুল ৮৭ পয়সা এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা।
মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব সংরক্ষণ এবং বিল নিষ্পত্তির সমন্বিত দায়িত্ব পালন করবে বিপিডিবি। নির্ধারিত হারে কেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে বিল আদায় করে পরে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে তাদের প্রযোজ্য মাশুল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে সংস্থাটি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালার আওতায় একটি এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। অবশিষ্ট বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।
এর আগে, গত ২৩ আগস্ট মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল।
গণশুনানিতে বড় শিল্পগ্রাহক হারিয়ে রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিপিডিবি ও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিল্পগ্রাহকরা দিনের বেলায় মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতে আবার বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ ৩৬তম ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ হিসেবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস বিশ্বব্যাপী পালন করা হবে। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী প্রদান করেছেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে র্যালি, আলোচনা সভা, জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে প্রবীণদের মর্যাদা সম্পর্কে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করে বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবেন। প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘প্রবীণ ব্যক্তিগণ আমাদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি। তাদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র- তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
দেশের সব জেলা-উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আজ সেবাগ্রহীতা ও অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে যথাযথ মর্যদায় প্রবীণ দিবসটি পালনের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ উদ্দেশ্যে বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ, ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি এক বাণীতে এ কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে; একইসঙ্গে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন এবং সতর্ক। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের প্রবীণ জনগণের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার প্রধান জানান, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়ে আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগণের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র- তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এ শুভক্ষণে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তার সরকারের লক্ষ্য, যেখানে বয়সে তরুণ কিংবা প্রবীণ প্রতিটি মানুষ তাঁর সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।
সবশেষে বাণীতে তারেক রহমান ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং জামায়াতের নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুতির কারণে চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভা জামায়াতের দুই নেতা দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ইমরান হাসান আফনান এবং মিরসরাই পৌরসভা জামায়াতের যুব বিভাগের সাইদুল ইসলাম।
সম্প্রতি মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের একটি দায়িত্বশীল রোকন বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বহিষ্কারের বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, সাইদুল ও আফনান জামায়াতের মূল আদর্শ থেকে সরে গিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদেরকে সংশোধনের জন্য একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা নিজেদের সংশোধন করেননি। জামায়াতের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকেও তারা চাঁদা দাবি করেছেন। ফলে দলের রোকন সদস্যদের আপত্তি ও দাবির মুখে দলের শৃঙ্খলা ও নীতি-আদর্শ রক্ষার জন্য তাদের দায়িত্বশীল বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মিরসরাই পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা শিহাব উদ্দিন বলেন, "জামায়াতের নীতি আদর্শ হলো সৎলোকের শাসন ও আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করা।" তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, বহিষ্কৃতরা তার বিপরীত পথে হাঁটছিলেন। তাদেরকে সতর্ক করার পরেও সংশোধন না হওয়ায় শাস্তি স্বরূপ বহিষ্কার করা হয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল কবির বলেন, "প্রয়োজনে ৫ জন নিয়ে রাজনীতি করব তবুও অসৎ লোকদের জায়গা দেওয়া হবে না।" তিনি বলেন, তাদের সততার ঘাটতি ছিল, তাই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংগঠনিক নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাদেরকে এড়িয়ে চলার জন্য।
এ বিষয়ে ইমরান হাসান আফনান মন্তব্য করেন, "আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সর্বশেষ কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। চাকসুর নির্বাচিত স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। আমি তো জামায়াতের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হইনি। তাহলে জামায়াত কীভাবে আমাকে বহিষ্কার করবে?"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি আবেদনের দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে।
দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া ২৮ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর এ আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এই তথ্য বাংলাদেশ আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র অনুযায়ী, ১ অক্টোবর রাত ৮টায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশিত হবে। ফল প্রকাশের পর ৩ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবেন। যদি কোনো শিক্ষার্থী এই সময়ের মধ্যে নিশ্চয়ন না করেন, তাহলে তার নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
এছাড়া, পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল ৪ অক্টোবর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রম ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ