শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রপ্তানি সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, রপ্তানি কমানোর ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমার পরিবর্তে উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক বাজার উভয় জায়গাতেই দাম বাড়াতে পারে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে প্রতি লিটারের দাম প্রায় ২১০ টাকা। এক মাস আগে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার, যা প্রতি লিটারের জন্য প্রায় ১৮১ টাকা।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) দৈনিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ। দেশটির উৎপাদিত ডিজেলের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে চলে যায়। তাই অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর জন্য রপ্তানি কমানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, সম্ভাব্য স্বেচ্ছামূলক রপ্তানি সীমাবদ্ধতা নিয়ে বড় তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণা করা হয়নি। হোয়াইট হাউজও জানিয়েছে, প্রশাসন বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্স/ইপসসের আগস্টের এক জরিপে ৪৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ডিজেলের সংকট শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও সরবরাহ কমেছে। রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় কয়েকটি বড় শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটির কোথাও ডিজেল উৎপাদন কমেছে, আবার কোথাও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ডিজেল মজুতও কমছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুত কমে ১০৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এটি চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন মজুত।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিক মনে করছেন, সাময়িকভাবে রপ্তানি বন্ধ করলে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমতে পারে। আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর চাক গ্রাসলি এবং আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান সাময়িক রপ্তানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। টেনেসির কংগ্রেসম্যান টিম বারচেটও ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার বিষয়ে দুটি বিল উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে একটি বিলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
বিশ্লেষকদের প্রধান উদ্বেগ এখানেই। রপ্তানি বন্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। কারণ, রপ্তানি বন্ধের ফলে দেশের অভ্যন্তরে ডিজেলের মজুত দ্রুত বেড়ে গেলে সংরক্ষণ সক্ষমতা কমে আসতে পারে। মজুত রাখার জায়গা পূর্ণ হয়ে গেলে শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ কমিয়ে দিতে পারে।
উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণেও এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক বিশ্লেষণ বলছে, পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল উৎপাদন দৈনিক সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত কমতে পারে। এর ফলে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্র পেট্রল আমদানিকারক দেশেও পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি কমালে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে দেশটির ওপর নির্ভরশীল বাজারগুলো। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে। ইউরোপের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ কমে গেলে এসব দেশের ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল কিনতে হবে। এতে সীমিত সরবরাহের জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। আর তার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারদরেও।
উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহের ঘাটতি পূরণের মতো অতিরিক্ত শোধন সক্ষমতা বড় দেশগুলোর মধ্যে চীনের রয়েছে। তবে চীন সেই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার প্রভাব শুধুমাত্র সড়ক পরিবহন বা পণ্য পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ কমে গেলে অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির দামেও চাপ তৈরি হতে পারে। এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা জানিয়েছে, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব যাত্রীদের ওপরও পড়তে পারে।
সব ধরনের রপ্তানি বন্ধ না করে সীমিত বা স্বেচ্ছামূলকভাবে রপ্তানি কমানোর পথও বিবেচনায় রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ র্যাচেল জিয়েমারের মতে, এমন ব্যবস্থায় কিছু দেশের জন্য ছাড় রাখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে, তাদের ক্ষেত্রে রপ্তানি সীমাবদ্ধতায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মূল উদ্বেগ, ডিজেলের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত উল্টো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও ডিজেলের সংকট ও দাম দুটিই বাড়তে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ভাষণ প্রদান করেছেন, সেটি আমার দৃষ্টিতে বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ। তার বক্তব্য ছিল গভীর ব্যঞ্জনাময়।
ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসানের অন্যতম অগ্রনায়ক হিসেবে, তিনি জনগণের ব্যাপক সমর্থনপ্রাপ্ত ও নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজ দেশের জনগণের কণ্ঠস্বর, প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি করেছেন। যাদের পেছনে গণমানুষের সমর্থন নেই কিংবা যারা সঠিকভাবে জননির্বাচিত নয়, তারা এমন কিছু করতে পারে না। অতীতের ঘটনা আমাদের স্মৃতিতে স্বৈরশাসনের অহম ও আত্মপ্রচারণার প্রভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
তারেক রহমান, যিনি তার পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেওয়ার বিরল সুযোগ পেয়েছেন, তিনি এই সৌভাগ্যটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে অর্জন করেছেন। এটি কোনো রাজতান্ত্রিক ধারা নয়।
যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মারণাস্ত্রের ঝনৎকার, এবং হানাহানির ক্লিষ্ট সময়ে, বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, ‘মারণাস্ত্রে নয়, বিশ্ব বদলাবে মানবতায়।’ মানবতার এই আহ্বানের মাধ্যমে তিনি ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দুনিয়ায় নিজেকে তার শহীদ পিতার মতো শান্তির দিশারী হিসেবে তুলে ধরেছেন। শহীদ রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকার কথা তিনি তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন। ফিলিস্তিনের পক্ষে দৃঢ় সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি এবং এই বিপদ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়গুলোও তিনি নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
ফ্যাসিবাদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে, তার সরকার যে ‘থ্রি আর’ কর্মকৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটি তিনি যথার্থভাবে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তরুণরা যেন নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং প্রতিটি শিশু যেন তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়— এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান সরকার। সর্বোপরি, জনগণকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ও সমগ্র বিশ্বকে নিয়ে তারেক রহমান যে প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তুলে ধরেছেন, তাতে তার অভিব্যক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হলেও, তার মধ্যে দ্বিধা ও আনাড়িপনার পরিবর্তে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে বিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতা, পারঙ্গমতা, প্রস্তুতি ও আত্মপ্রত্যয়।
নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ ও অনুষ্ঠানমালার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই উপলক্ষকে কাজে লাগিয়ে সময়ের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার করেছেন। বহুপাক্ষিকতার গণ্ডির বাইরেও দ্বিপক্ষীয় এন্তার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালনে গতি, দ্রুতি ও কর্মব্যস্ততার বিরল নজির স্থাপন করেছেন তারেক রহমান।
লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আকাঙ্ক্ষার এক তাৎপর্যপূর্ণ, সময়োপযোগী ও ভারসাম্যের প্রতিফলন।
মাতৃভাষা বাংলায় প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর ১৭ মিনিটের এই ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসন ও বহুপাক্ষিকতার বৈশ্বিক দাবিগুলোকে ধারণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারগুলোকে যথাযথভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দেড় দশকের বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বৈধতা ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই ভাষণে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই স্ট্র্যাটেজি স্পষ্ট প্রমাণ করে বর্তমান সরকার কেবল কোনো জোড়াতালির সংস্কারে বিশ্বাসী নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেমেছে। ফ্যাসিবাদের অন্ধকার ফুঁড়ে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছেন।
আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোর প্রদান এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশ আর কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক শক্তির করতলগত নয় এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া পবিত্র আমানত নিয়েই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
‘গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশ’—প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি পরিপক্ক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে।
আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সহযোগিতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্ব আরোপ এবং সামরিক বাজেট উন্নয়ন খাতে স্থানান্তরের আহ্বান বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৫টি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ বা ক্লাইমেট জাস্টিস নিশ্চিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ অভ্যন্তরীণ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মহলে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিয়েছেন। সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন।
জিয়া পরিবারের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা রয়েছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এক বিরল ইতিহাসও। ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ দেন। ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বাংলায় ভাষণ দিলেন তারেক রহমান। এটি কেবল পারিবারিক ধারাবাহিকতাই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই ও স্বমহিমায় টিকে থাকার এক চিরন্তন স্মারকও।
‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই প্রত্যয় নিয়ে দেওয়া এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছে।
লেখক: প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, তথ্য অধিদপ্তর
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। ঘটনার পর ক্লিনিকটির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাত ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত ক্লিনিকটিতে হামলার ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে একজনের নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে মামলা করা হয়।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম মামলার বিষয়টি ও তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার রাতে ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি মুখ লুকিয়ে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে ক্লিনিকটিতে প্রবেশ করে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ক্লিনিকের একটি পাকা ও তিনটি সেমি-পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। পরে ধ্বংসস্তূপের ওপর সমমনা দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
ডা. নাসরিন আখতারের অভিযোগ, এই ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্লিনিক থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকার ওষুধ ও ভ্যাকসিন, আনুমানিক ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, স্টিলের আলমারি, ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে দাবি করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। ক্লিনিকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং সরকারি ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির সেবা প্রদান করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে এখান থেকে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা উচ্ছেদের বিষয়ে তারা আগে থেকে পুলিশ কিংবা কোনো সরকারি দপ্তরের কাছ থেকে কোনো নোটিশ পায়নি। তাদের দাবি, গভীর রাতে হঠাৎ করে ট্রাক ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে স্থাপনাটি উচ্ছেদ ও ভাঙচুর করা হয়।
তবে জমিটির মালিকানা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির দাবি, ২০০৬ সালে জমিটি তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ২০২১ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) থেকে জমিটি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।
সমিতির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ক্লিনিকটি উচ্ছেদের জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কমিশনার কাসেম মোল্লাসহ অন্যান্য নেতাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন জমিটি উদ্ধার বা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সমিতির সদস্যরা জমিটি ভোগ করতে পারছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতির পরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ঘটনায় মো. হানিফ মিয়া (৫০) নামে একজনের নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্তের মাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল এবং জমির মালিকানা ও উচ্ছেদের দাবির পক্ষে কী ধরনের বৈধ নথি রয়েছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়াসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের জালে ধরা পড়েছে একটি রুপালি ইলিশ, যার ওজন ৩ কেজি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের এনায়েত মৎস্য আড়তে মাছটি নিলামে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন মাছটি ক্রয় করেন।
হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের জেলে মো. মিলন হোসেন জানান, তিনি ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি ট্রলার নিয়ে ৯ জন মাঝিমাল্লাসহ বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারে যান। টানা ছয় দিন সাগরে মাছ ধরার পর অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে তাদের জালে ধরা পড়ে এই বড় আকারের ইলিশটি।
আজ সকালে মাছটি চেয়ারম্যান ঘাটে নিয়ে আসার পর এনায়েত মৎস্য আড়তে নিলামে তোলা হয়। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মাছটি কেনার জন্য দর হাঁকাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকায় মাছটি ক্রয় করেন ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন।
এনায়েত মৎস্য আড়তের মালিক এনায়েত হোসেন বলেন, সকালে জেলেরা মাছটি ঘাটে নিয়ে আসেন। এত বড় একটি ইলিশ দেখে আড়তে আসা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। নিলামে মাছটির দাম ১০ হাজার টাকা ওঠে এবং পরে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী সেটি কিনে নেন।
জেলে মো. মিলন হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আমরা ৯ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ছয় দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরতে যাই। অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে জালে বড় এই মাছটি ধরা পড়ে। এত বড় ইলিশ পাওয়ায় আমরা সবাই আনন্দিত। ভালো দাম পাওয়ায় আমাদেরও ভালো লাগছে।
হাতিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শাহেদ হোসেন জানান, সাগরে জেলেদের জালে মাঝে মাঝে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ে। তবে ৩ কেজি ওজনের ইলিশ সব সময় পাওয়া যায় না। বড় ইলিশের চাহিদাও বেশি। এ কারণে নিলামে মাছটির ভালো দাম উঠেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। সাগরে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া স্বাভাবিক। তবে ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন বাড়াতে সরকার নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা এবং জাটকা সংরক্ষণ করা জরুরি। জেলেদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ