প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ভাষণ প্রদান করেছেন, সেটি আমার দৃষ্টিতে বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ। তার বক্তব্য ছিল গভীর ব্যঞ্জনাময়।
ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসানের অন্যতম অগ্রনায়ক হিসেবে, তিনি জনগণের ব্যাপক সমর্থনপ্রাপ্ত ও নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজ দেশের জনগণের কণ্ঠস্বর, প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি করেছেন। যাদের পেছনে গণমানুষের সমর্থন নেই কিংবা যারা সঠিকভাবে জননির্বাচিত নয়, তারা এমন কিছু করতে পারে না। অতীতের ঘটনা আমাদের স্মৃতিতে স্বৈরশাসনের অহম ও আত্মপ্রচারণার প্রভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
তারেক রহমান, যিনি তার পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেওয়ার বিরল সুযোগ পেয়েছেন, তিনি এই সৌভাগ্যটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে অর্জন করেছেন। এটি কোনো রাজতান্ত্রিক ধারা নয়।
যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মারণাস্ত্রের ঝনৎকার, এবং হানাহানির ক্লিষ্ট সময়ে, বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, ‘মারণাস্ত্রে নয়, বিশ্ব বদলাবে মানবতায়।’ মানবতার এই আহ্বানের মাধ্যমে তিনি ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দুনিয়ায় নিজেকে তার শহীদ পিতার মতো শান্তির দিশারী হিসেবে তুলে ধরেছেন। শহীদ রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকার কথা তিনি তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন। ফিলিস্তিনের পক্ষে দৃঢ় সমর্থনও ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি এবং এই বিপদ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়গুলোও তিনি নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
ফ্যাসিবাদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে, তার সরকার যে ‘থ্রি আর’ কর্মকৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটি তিনি যথার্থভাবে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, তরুণরা যেন নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং প্রতিটি শিশু যেন তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়— এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান সরকার। সর্বোপরি, জনগণকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ও সমগ্র বিশ্বকে নিয়ে তারেক রহমান যে প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তুলে ধরেছেন, তাতে তার অভিব্যক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হলেও, তার মধ্যে দ্বিধা ও আনাড়িপনার পরিবর্তে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে বিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতা, পারঙ্গমতা, প্রস্তুতি ও আত্মপ্রত্যয়।
নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ ও অনুষ্ঠানমালার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই উপলক্ষকে কাজে লাগিয়ে সময়ের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার করেছেন। বহুপাক্ষিকতার গণ্ডির বাইরেও দ্বিপক্ষীয় এন্তার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালনে গতি, দ্রুতি ও কর্মব্যস্ততার বিরল নজির স্থাপন করেছেন তারেক রহমান।
লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন