রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৮ পি.এম
কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনে দেশের সেরা কোম্পানির স্বীকৃতি অর্জন করেছে রিমার্ক-হারল্যান। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী কসমেটিকা ঢাকা প্রদর্শনীর শেষ দিনে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রিমার্কের প্যাভিলিয়নে প্রতিষ্ঠানটির হাতে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সার্বিক বিবেচনায় দেশসেরা কসমেটিকস উৎপাদক কোম্পানি এবং সেরা প্যাভিলিয়নের স্বীকৃতির ক্রেস্ট প্রদর্শনীর আয়োজক স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়সাল মুনিম তুলে দেন। রিমার্কের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান এবং হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিবসহ রিমার্ক-হারল্যানের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
ফয়সাল মুনিম মন্তব্য করেন, "কসমেটিকস শিল্পে রিমার্কের অবদান ঈর্ষণীয়। কসমেটিকায় আধুনিক উৎপাদন সক্ষমতার প্রদর্শন, ব্যতিক্রমী স্টল ডিজাইন ও পেশাদার উপস্থাপন তাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।" তিনি আরও বলেন, রিমার্কের প্যাভিলিয়ন শুধুমাত্র পণ্য প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকেও দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে।
তিনি জানান, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে রিমার্ককে এই বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
রিমার্কের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাশ এই স্বীকৃতিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "আজকের এই অর্জন শুধু রিমার্কের নয়, দেশের কসমেটিকস উৎপাদন সক্ষমতারও স্বীকৃতি। ১৬ দেশের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে রিমার্কের সেরা হওয়া অবশ্যই দেশীয় উৎপাদকদের আরও উৎসাহিত করবে।" তিনি উল্লেখ করেন, নকল-ভেজালের ভিড়ে ভোক্তাদের জন্য অথেনটিক পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রিমার্ক কাজ করছে। "আজকের এই অর্জন আমাদের ওপর আরও বেশি দায়িত্ব তুলে দিয়েছে।"
রিমার্কের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, "আমরা উৎফুল্ল, আনন্দিত। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই এমন স্বীকৃতি আমাদের অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে দিয়েছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে তারা আরও জোরালোভাবে মানুষের সামনে রিমার্কের নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পণ্য নিয়ে আসতে পারবেন। পাশাপাশি কসমেটিকস খাতে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অবস্থানও তুলে ধরতে পারবেন।
হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিব জানান, "রিমার্ক তার পণ্য শুধু দেশের বাজারের জন্য নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নতুন এই অর্জন আমাদের আগামীর পথচলাকে আরও মসৃণ করে তুলবে।"
রিমার্কের এ অর্জনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, "বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে রিমার্কের অবদান অফুরন্ত। দেশে আন্তর্জাতিক মানের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়েছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, রিমার্কের দেখানো পথে বাংলাদেশ কসমেটিকস খাতে আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারবে।
দর্শনার্থীদের আগ্রহ রিমার্কের প্যাভিলিয়নে
তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর শেষ দিনেও রিমার্কের প্যাভিলিয়ন ঘিরে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। মডেল ও অভিনেত্রী নাজিফা তুষি, শার্লিন ফারজানা, শবনম ফারিয়া সহ ইনফ্লুয়েন্সার ও দর্শনার্থীদের মধ্যে রিমার্কের কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়।
খ্যাতনামা তারকারা রিমার্কের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করলে সেখানে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তারা রিমার্কের কসমেটিকস পণ্যের প্রশংসা করেন এবং অথেনটিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে জনসাধারণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ‘স্পিন অ্যান্ড উইন’ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। ফলে প্যাভিলিয়নজুড়ে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়।
প্যাকেজিং ও করপোরেট সেলসে অর্ডার
তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীজুড়ে রিমার্কের প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যের পাশাপাশি বিশ্বমানের প্যাকেজিং, প্রিন্টিং ও ইনগ্রেডিয়েন্টস সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
শেষ দিনে নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যেও রিমার্কের প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং সক্ষমতা নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। তারা নিজেদের ব্র্যান্ডের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজিং আইটেমের অর্ডারসহ নানা বিষয়ে তথ্য নেন।
রিমার্কের হেড অব প্যাকেজিং মো. আলী রেজা জানান, প্রদর্শনী চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি প্রিন্টিং, প্যাকেজিং ও করপোরেট সেলস খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাণিজ্যিক অর্ডার নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে রিমার্কের বিশ্বমানের প্যাকেজিং, প্রিন্টিং ও ইনগ্রেডিয়েন্ট নিয়ে বিশেষ আগ্রহ ছিল।
তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বায়ার ও কোম্পানিগুলোও রিমার্কের উৎপাদিত পণ্য ও সক্ষমতা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সহযোগিতা ও বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
রিমার্ক সূত্র জানায়, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), আন্তর্জাতিক মানের ফর্মুলেশন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে উৎপাদিত প্রতিষ্ঠানটির কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য বর্তমানে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদন সক্ষমতা ও মান নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি হিসেবে রিমার্ক আইএসও, সিজিএমপি, বিএসটিআই হালাল সার্টিফিকেশন এবং গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন— সংঘাত নয়, সংঘর্ষ নয়, প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসা এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা সমাজ গড়ে তুলতে চাই।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার নিজ জেলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর দেশ এক নতুন পথচলার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের মূল দায়িত্ব হলো, এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, তবে সংঘাত-সংঘর্ষে না জড়িয়ে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, মুই জানু তোমরা মোক ভালবাসেন। সুতরাং যতক্ষণ কাঁতা কহিম, তোমরা শুনিবেন। ঠিক না? উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে উঠলে তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, ক্যাঙ্গাতি আছেন তোমরা বারে? ভালো আছেন তো?
এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি ঘোষণা দেন, আগামীকালই ইনশাআল্লাহ্ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্মাণ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং শিবগঞ্জ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার বিষয়ে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি চাকরি বা ঠিকাদারির ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আহ্বান জানান।
দেশের রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা ফেরানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ট্রলারেন্স বা সহিষ্ণুতা। বিভেদ ভুলে সবাই যেন এক বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারি, সেই পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে।
বক্তব্যের শেষভাগে নিজের শৈশব ও জন্মভূমির স্মৃতি স্মরণ করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মঞ্চে উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক-শ্রমিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ স্থানীয় রাজবংশী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অকুতোভয়ে পাশে থাকার জন্য নিজের সহধর্মিণীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার দারুস সালাম এলাকায় জেসমিন আক্তার নামের এক নারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তার স্বামী ও দুইজনকে আটক করেছে র্যাব। এ সময় ব্যবহৃত পিস্তলটিও জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আহত নারীর স্বামী মো. আব্দুল মান্নান, যিনি আব্দুল হান্নান নামেও পরিচিত (৪৫), তার ছেলে মো. রাকিব (২৫) এবং ছেলের বন্ধু মো. হাতিম মিয়া (২১)।
মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঝগড়ার সময় মাতাল অবস্থায় ওই নারীকে গুলি করেন তার স্বামী।
গতকাল সন্ধ্যায় দারুসসালাম থানার মসজিদ গলি এলাকায় নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হন ওই নারী। তাকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তের সময় র্যাব জানতে পারে, গৃহবধূকে গুলি করেন তার স্বামী আব্দুল মান্নান। পরে রাত সাড়ে ৩ টায় দারুস সালাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটও উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তারের পর আব্দুল মান্নান জানান, যে অস্ত্র দিয়ে তিনি তার স্ত্রীকে গুলি করেছেন, তা ঘটনার পর তিনি তার ছেলে রাকিবের কাছে লুকিয়ে রাখতে বলেন। এরপর র্যাব-৪ ও দারুস সালাম থানার দুটি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রাকিবকে গ্রেপ্তার করে। রাকিব জানায়, অস্ত্রটি তার এক বন্ধুর বাসায় লুকিয়ে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হাতিমের বাসার একটি কক্ষের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ার থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি গৃহবধূকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় আব্দুল মান্নান, তার ছেলে রাকিব এবং অস্ত্র লুকাতে সহায়তা করায় তার ছেলের বন্ধু, এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আব্দুল মান্নান ওই এলাকার একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।
স্ত্রীকে গুলি করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আব্দুল মান্নান বেশির ভাগ সময় মাদকাসক্ত থাকতেন। গত রাতেও তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে মাদক গ্রহণ ও মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি তার স্ত্রীকে গুলি করেন। গুলিটি তার স্ত্রীর ডান হাতের বাহুতে লাগে।
আহত গৃহবধু ও তার ছেলে কি মাদকের সঙ্গে জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই নারী মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি একজন ভালো নারী। তার স্বামী মাদক ব্যবসা করতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। এ কারণে তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও অশান্তি লেগে থাকত। আব্দুল মান্নানের ছেলে রাকিব মাদকাসক্ত কিনা এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর অস্ত্রটি লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত নিজেকে বাঁচানোর জন্য আব্দুল মান্নান ঘটনার পর অস্ত্রটি তার ছেলের কাছে দিয়েছিলেন। পরে তার ছেলে অস্ত্রটি তার বন্ধুর কাছে লুকিয়ে রাখার জন্য দেয়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার পর আব্দুল মান্নানের ছেলে একটি গল্প তৈরি করেছিল যে, জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে। তবে তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, সেটি তার বানানো গল্প। মূলত ঘটনাটি ঘরের ভেতরেই ঘটেছে এবং আব্দুল মান্নান ঘরের ভেতর থেকেই তার স্ত্রীকে গুলি করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সফলভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টি নিরসন করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, অবশিষ্ট বাধাগুলোও দ্রুত সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইইউ’র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গত মার্চে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তড়িৎ পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব সমস্যার বড় অংশ নিরসন করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সমাধান হওয়া প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিকস কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন জটিলতা দূর করা, বাণিজ্যিক নমুনার বার্ষিক আমদানি সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা এবং রপ্তানি পণ্যের গতিপথ ট্র্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ‘স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ড’-এর শুল্কায়ন জটিলতা নিরসন করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ।
এলডিসি উত্তরণে ইইউ’র সহযোগিতা কামনা :
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। এটি আগামী জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে। এ ক্ষেত্রে ইইউ’র শক্তিশালী রাজনৈতিক ও নীতিগত সমর্থন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এফটিএ আলোচনায় ইইউ’র ইতিবাচক সাড়া :
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইইউ’র সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউ’র অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় থাকলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যবর্তী বাণিজ্যিক ও আকাশপথের যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ‘এয়ারবাস’ ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা দ্রুত ত্বরান্বিত হওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমদানি সিদ্ধান্ত :
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং জনগণের চাহিদাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই যেকোনো বাণিজ্যিক ও আমদানি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, জ্বালানি (বিশেষ করে এলএনজি) এবং খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দর, পণ্যের গুণগত মান ও পরিবহন অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করেই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক নীতি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা শক্তির প্রভাবে পরিচালিত নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণই সরকারের সব সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ’র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধসহ সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোতে নতুন বাজার ও বিদেশি বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য বাধাগুলো সম্পূর্ণ দূর হলে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান আরও গতি পাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাড়াপড়শীর হাঁড়ির খবর রাখা অনেকেরই স্বভাব। তবে গুজব ছড়িয়ে আয় করা যায় এমন চিন্তা কারো মনে আসার কথা নয়। কলম্বিয়ার ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা এই স্বভাবকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি রমরমা ব্যবসা।
প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত জীবন, গোপন বিষয়াদি এবং সম্পর্কের রসালো সব তথ্য অন্যদের কাছে বিক্রি করে তিনি অর্জন করেছেন দুটি বাড়ি।
কিন্দিও বিভাগের আর্মেনিয়া শহরের বাসিন্দা মিরিয়াম। তিনি অন্যদের দাম্পত্য কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পাড়ার খুঁটিনাটি সব খবর খাতায় টুকে রাখেন। পরবর্তীতে কৌতূহলী গ্রাহকদের কাছে চড়া দামে সেই তথ্য বা গুজব বিক্রি করাই তার প্রধান আয়ের উৎস।
এক সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে একজন পেশাদার পরচর্চাকারী হিসেবে দাবি করেন এই নারী। তিনি বলেন, "আমি হয়তো আপনার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছি, কিন্তু আমার দুটো কান ঠিকই সতর্ক থাকে পাশে মানুষজন কী বলছে-করছে তা শোনার জন্য।"
মিরিয়ামের ব্যবসার দরদাম নির্ভর করে তথ্যের গভীরতা বা তথ্যের স্পর্শকাতরতার ওপর। সাধারণ গুজবের দাম কয়েক হাজার কলম্বিয়ান পেসো হলেও সংবেদনশীল তথ্যের মূল্য বেশ চড়া।
মিরিয়াম জানান, একবার এক ভদ্রলোকের গোপন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা চেপে রাখার বিনিময়ে তিনি সর্বোচ্চ ৭ লাখ কলম্বিয়ান পেসো আয় করেছিলেন। কারণ, ওই ব্যক্তির স্ত্রী যখনই বাইরে ভ্রমণ করতেন, তখনই তিনি অন্য নারীকে সঙ্গে নিতেন। তার দাবি, এই পেশা তার দৈনন্দিন সংসারের যাবতীয় খরচ তো মেটাচ্ছেই, একই সঙ্গে অর্জিত এই অর্থ তার স্বপ্নও পূরণ করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ