রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৯ পি.এম
বাংলাদেশ সফলভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টি নিরসন করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, অবশিষ্ট বাধাগুলোও দ্রুত সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইইউ’র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, গত মার্চে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তড়িৎ পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব সমস্যার বড় অংশ নিরসন করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সমাধান হওয়া প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিকস কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন জটিলতা দূর করা, বাণিজ্যিক নমুনার বার্ষিক আমদানি সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা এবং রপ্তানি পণ্যের গতিপথ ট্র্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ‘স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ড’-এর শুল্কায়ন জটিলতা নিরসন করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ।
এলডিসি উত্তরণে ইইউ’র সহযোগিতা কামনা :
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। এটি আগামী জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে। এ ক্ষেত্রে ইইউ’র শক্তিশালী রাজনৈতিক ও নীতিগত সমর্থন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এফটিএ আলোচনায় ইইউ’র ইতিবাচক সাড়া :
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইইউ’র সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউ’র অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় থাকলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যবর্তী বাণিজ্যিক ও আকাশপথের যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ‘এয়ারবাস’ ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা দ্রুত ত্বরান্বিত হওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমদানি সিদ্ধান্ত :
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং জনগণের চাহিদাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই যেকোনো বাণিজ্যিক ও আমদানি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, জ্বালানি (বিশেষ করে এলএনজি) এবং খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দর, পণ্যের গুণগত মান ও পরিবহন অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করেই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক নীতি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা শক্তির প্রভাবে পরিচালিত নয়; বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণই সরকারের সব সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইইউ’র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধসহ সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোতে নতুন বাজার ও বিদেশি বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য বাধাগুলো সম্পূর্ণ দূর হলে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান আরও গতি পাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাড়াপড়শীর হাঁড়ির খবর রাখা অনেকেরই স্বভাব। তবে গুজব ছড়িয়ে আয় করা যায় এমন চিন্তা কারো মনে আসার কথা নয়। কলম্বিয়ার ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা এই স্বভাবকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি রমরমা ব্যবসা।
প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত জীবন, গোপন বিষয়াদি এবং সম্পর্কের রসালো সব তথ্য অন্যদের কাছে বিক্রি করে তিনি অর্জন করেছেন দুটি বাড়ি।
কিন্দিও বিভাগের আর্মেনিয়া শহরের বাসিন্দা মিরিয়াম। তিনি অন্যদের দাম্পত্য কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে শুরু করে পাড়ার খুঁটিনাটি সব খবর খাতায় টুকে রাখেন। পরবর্তীতে কৌতূহলী গ্রাহকদের কাছে চড়া দামে সেই তথ্য বা গুজব বিক্রি করাই তার প্রধান আয়ের উৎস।
এক সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে একজন পেশাদার পরচর্চাকারী হিসেবে দাবি করেন এই নারী। তিনি বলেন, "আমি হয়তো আপনার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছি, কিন্তু আমার দুটো কান ঠিকই সতর্ক থাকে পাশে মানুষজন কী বলছে-করছে তা শোনার জন্য।"
মিরিয়ামের ব্যবসার দরদাম নির্ভর করে তথ্যের গভীরতা বা তথ্যের স্পর্শকাতরতার ওপর। সাধারণ গুজবের দাম কয়েক হাজার কলম্বিয়ান পেসো হলেও সংবেদনশীল তথ্যের মূল্য বেশ চড়া।
মিরিয়াম জানান, একবার এক ভদ্রলোকের গোপন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা চেপে রাখার বিনিময়ে তিনি সর্বোচ্চ ৭ লাখ কলম্বিয়ান পেসো আয় করেছিলেন। কারণ, ওই ব্যক্তির স্ত্রী যখনই বাইরে ভ্রমণ করতেন, তখনই তিনি অন্য নারীকে সঙ্গে নিতেন। তার দাবি, এই পেশা তার দৈনন্দিন সংসারের যাবতীয় খরচ তো মেটাচ্ছেই, একই সঙ্গে অর্জিত এই অর্থ তার স্বপ্নও পূরণ করছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে আরো সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং সিস্টেম চালু হতে যাচ্ছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে (ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে অধিকতর সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে।
এসব শাখার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসির ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১০৫টি শাখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এর আওতায় রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরো দু’টি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি আরো বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ই-পাসপোর্ট জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, এবং দালাল চক্রের প্রতারণা। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার প্রবাসীদের কর্মসংস্থান এবং তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এই নোটিশটি দেন, যা সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ছিল।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের জটিলতা, সৌদি আরবে অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গামকা মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম, বিএমইটির দুর্নীতি, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তা—এই ১০টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, "প্রকৃত অর্থে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। এর জন্য ওনাকে স্টাডি করতে হয়েছে, এক প্রকার রিসার্চ করতে হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "প্রবাসীদের সমস্যাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।"
মন্ত্রী বলেন, "যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ করে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, প্রবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা—এই বিষয়টি আমাদের একটা বড় অগ্রাধিকার।"
সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে কর্মীর চাহিদা নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেই অনুযায়ী ‘ডিমান্ড ম্যাপিং’ করে প্রয়োজনীয় জনশক্তি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নোটিশে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, "প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করে। কিন্তু তারা নানা হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।"
তিনি ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সামান্য অসঙ্গতির কারণে পাসপোর্ট আটকে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন, যা প্রবাসীদের ইকামা নবায়ন ও ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দিচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে দূতাবাসে বিশেষ ই-পাসপোর্ট সেল গঠন এবং আগের এমআরপি পাসপোর্টের ধারাবাহিকতা রেখে নবায়নের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।
এছাড়া সৌদি আরবে প্রবাসীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধে দূতাবাস ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি আইনি সহায়তা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম ও ‘ফিট-আনফিট’ বাণিজ্য বন্ধ, বিএমইটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধ, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশ যেতে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবিও জানান মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
তিনি প্রবাসীদের জন্য দূতাবাস থেকে সরাসরি আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন ও মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও বিনামূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থার দাবিও জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি অমিমুল হাসান সাদ (১৯) গ্রেপ্তার হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাব-১১ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১-এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এফরান খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া অমিমুল হাসান সাদ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকার হাবিবুর রহমানের পুত্র।
র্যাব-১১ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে অমিমুল হাসান সাদ ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে তার নিজ বাড়ির চারতলার একটি নির্মাণাধীন কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। কিশোরী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ইট দিয়ে মুখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে অমিমুল হাসান সাদ ওই কিশোরীকে চারতলা থেকে টেনে হিঁচড়ে নিচে এনে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ডিবিকেপি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে কিশোরীকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে অমিমুল হাসান সাদকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ