০৯:৩৯ পি.এম
উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা নদী অববাহিকায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, ‘জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সব সময়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে। দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকার উজানে এই সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটে, যা দেশে বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।’
তিনি আরও বলেন, সেই কারণে চলতি বছরের জুলাই এবং আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের এই মধ্যবর্তী সময়ে দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলি সংঘটিত হয়েছে। ১৯৮৮ সালে এসে ভয়াবহ বন্যার কারণে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অতিবৃষ্টির ফলে দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছিল, যা প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ডকে প্রভাবিত করেছিল।
এভাবে ১৯৯৮ সালে ঐতিহাসিক বন্যা জুলাই ও আগস্ট মাসের জন্য দু'মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল। তাতে এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল এবং প্রায় ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত অথবা পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা— এই দুটি বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২০০৪ সালের জুলাই মাসের শেষদিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানির সর্বোচ্চ প্রবাহ মিলিত হওয়ার কারণে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল এবং শুধুমাত্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
এছাড়াও ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা উজানের অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
সারদার উদয় রায়হান বলেন, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।
তিনি দেশের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অববাহিকা এবং উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী কয়েক দিন মেঘনা নদী অববাহিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।
এফএফডব্লিউসির এই নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
বৃহস্পতিবার এফএফডব্লিউসি প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কমেছে। কিন্তু আগামী চার দিনের মধ্যে পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
এখন নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন