ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার পর্যটন শিল্পে পতন


ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার পর্যটন শিল্পে পতন

 রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের অবকাশযাপন কেন্দ্র সিমেইজ রয়েছে। এই কেন্দ্রে আইসক্রিম বিক্রেতা আনাতোলির দিনগুলো এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। একসময় তার দোকানে প্রতিদিন ৪০০টি আইসক্রিম পর্যন্ত বিক্রি হতো, কিন্তু এই গ্রীষ্মে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে পর্যটকের সংখ্যা হঠাৎ করে কমে গেছে।

সিমেইজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সিমেইজের বাসিন্দা আনাতোলি এএফপিকে জানান, এ মৌসুমে তাকে লোকসানে পড়তে হয়েছে। বলা যায়, তার ব্যবসার কোনো মৌসুমই নেই।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

একসময় প্রতিবছর লাখো রুশ পর্যটকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ক্রিমিয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে উপদ্বীপে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় পর্যটন শিল্প কার্যত ভেঙে পড়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় হোটেল বুকিং ৭০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রেস্তোরাঁ ও সুইমিং পুলগুলোও প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে।

খাতটিকে সহায়তা দিতে রুশ সরকার পর্যটন খাতের কর্মীদের তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ এককালীন অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ অর্থ ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

আনাতোলি জানান, আগের ব্যবসার সামান্য অংশ দিয়ে তিনি বর্তমান সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। আমরা এখনো টিকে আছি, কারণ সবকিছু আগেই প্রস্তুত করা ছিল।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

যন্ত্রপাতি, মেরামত, লাইসেন্স ও কর— সব কিছু আগেই পরিশোধ করা ছিল।

ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, সারা বছরের রোদ এবং সবুজ জলপাই বাগানের কারণে ক্রিমিয়ার দক্ষিণ উপকূলটি অনেকটা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মতো। ইউক্রেনের কাছ থেকে কৃষ্ণসাগর তীরের এই উপদ্বীপ ২০১৪ সালে রাশিয়া দখল করে।

সোভিয়েত আমল থেকে রুশ নাগরিকরা ছুটি কাটাতে ক্রিমিয়ায় আসতেন। তাদের অনেকেই ক্রিমিয়াকে নিজেদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিমেইজের একটি বিলাসবহুল হোটেলের কর্তৃপক্ষ বলেন, তারা পর্যটক ফিরিয়ে আনতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

হোটেলের এক ব্যবস্থাপক জানান, ‘সপ্তাহের শেষে একটু ভিড় হয়।’

এএফপির প্রতিবেদক দেখেছেন, হোটেলের হাঁটার পথ, রোদ পোহানোর চেয়ার এবং রেস্তোরাঁর খোলা বসার জায়গাগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলায় এক শিশুসহ এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এ দিকে ক্রিমিয়ার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোতে ড্রোন হামলার পর সেভাস্তোপোলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তেল ডিপোতে হামলার পর গত মাসে রুশ নিয়োগকৃত কর্তৃপক্ষ জ্বালানি বিক্রিও স্থগিত করেছিল। তবে ঝুঁকি সত্ত্বেও কিছু পর্যটক নিরুৎসাহিত হননি।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, আগের রাতে সিমেইজ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা চালায়। এতে ১৭ জন আহত হন।

ইউলিয়া নামের এক পর্যটক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কের্চ সেতু হয়ে ট্রেনে ক্রিমিয়ায় এসেছেন। রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়ায় যাওয়ার এটিই এখন কার্যত একমাত্র পথ। কারণ রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দিয়ে সড়কপথে যাতায়াত ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি দুবার ড্রোনের শব্দ শুনেছি। এরপর আর কিছু হয়নি।’

রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চল থেকে সড়কপথে আসা আরেক পর্যটক ভøাদিস্লাভ জানান, পথে জ্বালানি পাওয়া নাও যেতে পারে— এই আশঙ্কায় তিনি পেট্রল ভর্তি জেরিক্যান সঙ্গে এনেছেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

ইউলিয়ার মতো তিনিও জানিয়েছেন, নিয়মিত ড্রোনের শব্দে তিনি এখন অভ্যস্ত, তাই তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন।

রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে নিয়মিত কয়েক শত ড্রোন হামলা চালানোর জবাবে ইউক্রেনও প্রায় প্রতি রাতে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শত ড্রোন পাঠায়।

ভøাদিস্লাভ বলেন, ‘দেখুন, আমাদের ওপর দিয়েও ওগুলো উড়ে যায়। সকাল সাতটায় ঘুম থেকে ওঠার সময় কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়— সব সময়ই ওগুলো মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। তাই কেউই নিরাপদ নয়।

ইউক্রেন বলছে, শান্তি আলোচনায় মস্কোকে চাপ দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

রুশ সরকার পর্যটন খাতের কর্মী, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জন্য এককালীন সহায়তা হিসেবে ৪৩০ কোটির বেশি রুবল (৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার) বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ সহায়তা শুধু পর্যটন খাতের জন্য প্রযোজ্য।

সেভাস্তোপোলের উত্তরের একটি এলাকা থেকে বেড়াতে আসা লিলিয়া বলেন, বেসরকারি খাত এখন সংগ্রাম করছে।

সিমেইজের সৈকতে বসে তিনি এএফপিকে জানান, ‘আমি এমন লোকজনকে চিনি, যারা ড্রাইভিং স্কুল চালান। পেট্রলের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের ব্যবসা পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে। ব্যবসা যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের হামাসের নিরস্ত্রীকরণে চুক্তির ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


ট্রাম্পের হামাসের নিরস্ত্রীকরণে চুক্তির ঘোষণা

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ সম্পর্কে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এটিকে গাজার নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। এদিকে, হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি, উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে ইসরাইল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে অবগত কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ করার বিষয়ে একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আজ বোর্ড অব পিস গাজায় হামাস ও অন্যান্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এটি স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

তিনি জানান, নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া ‘সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে’ সম্পন্ন হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। এরপর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে গাজার বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।’

এ সময় তিনি মিসর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানান।

ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর মধ্যে একটি।

যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার, ইসরাইলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীরা শিগগিরই কায়রোতে একটি বৈঠকে বসবেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং তুরস্ক অংশ নেবে।

বৈঠক কখন হবে তা জানানো হয়নি। তবে বলা হয়েছে, এতে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এ পরিকল্পনার রূপরেখায় সম্মত হয়েছে।

গাজার জন্য ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সময়ে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব নেবে ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের একটি দল— ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)।

এর আগে এক কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ‘নিরস্ত্রীকরণ এবং দায়িত্ব ধাপে ধাপে হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পথ তৈরির লক্ষ্যে রোডম্যাপ বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।’

ওই সূত্র জানায়, ‘কোনো নির্দিষ্ট অস্ত্র বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য কোনো কিছু ব্যতিক্রম থাকবে না। এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন, এক অস্ত্র।’

সূত্রটি জানায়, এই রোডম্যাপের আওতায় ‘সব সুড়ঙ্গ, অস্ত্রের মজুতকেন্দ্র এবং যেকোনো অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করার একটি প্রক্রিয়া’ শুরু করা হবে। সব ধরনের ভারী ও হালকা অস্ত্র এনসিএজির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সমন্বয় ও সহায়তায় তা পরিচালিত হবে।

এদিকে, শান্তি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক হামাস কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সম্প্রতি দেওয়া সংশোধনীর বিষয়ে ইসরাইলের জবাবের অপেক্ষায় আছি।’

তিনি জানান, বোর্ড অব পিসের উপস্থাপিত রোডম্যাপের দুটি ধারায় সংশোধনী চাওয়া হয়েছে।

অস্ত্র সংক্রান্ত ধারার বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

ইসরাইলের একটি রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইসরাইলের দাবিগুলো ‘সন্তোষজনকভাবে’ পূরণ হয়নি। ইসরাইল হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ দাবি করছে। এর মধ্যে গাজা থেকে অস্ত্র অপসারণ এবং উপত্যকার পূর্ণ সামরিকীকরণ বন্ধ করা যেকোনো প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত।

ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘গাজার বিষয়টি নিয়ে একেবারেই কোনো আলোচনা হয়নি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে কয়লাখনি দুর্ঘটনা, আটকে পড়াদের উদ্ধারে চলছে জোর অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


পাকিস্তানে কয়লাখনি দুর্ঘটনা, আটকে পড়াদের উদ্ধারে চলছে জোর অভিযান

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ৩৪ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজ এবং খনিতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।

পাকিস্তানের কোয়েটা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেনের কারণে এ বিস্ফোরণটি ঘটে। সম্পদসমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটার নিকটবর্তী খনিটিতে বিস্ফোরণের পর থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল রাতভর এ অভিযান পরিচালিত হয়।

বেলুচিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ভোরে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মোতায়েন করা দলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আটকে পড়া বাকি শ্রমিকদের শনাক্ত ও উদ্ধার করার জন্য যৌথ উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।’ তবে বিস্ফোরণের সময় খনিটিতে মোট কতজন শ্রমিক ছিলেন, সে বিষয়টি জানানো হয়নি।

পাকিস্তানে, বিশেষ করে বেলুচিস্তান প্রদেশে খনিতে দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ভূখণ্ডের দিক থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ বেলুচিস্তান। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ প্রায় সব সূচকেই দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এ প্রদেশ পিছিয়ে রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে রামগতি-বয়ারচর সড়কে ধস, দুর্ভোগে স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


লক্ষ্মীপুরে রামগতি-বয়ারচর সড়কে ধস, দুর্ভোগে স্থানীয়রা

লক্ষ্মীপুর, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের বোবারপুল সেতুর দুই পাশের থাকা সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সড়কটির যথাযথ সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় বয়ারচরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার লোকজন দুর্ভোগে পড়েছেন।

এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে সেতুর দু-পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, টানা বৃষ্টি ও মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে রামগতি-বয়ারচর সড়কের তেগাছিয়া বাজারের পূর্ব পাশে মোহাম্মদপুর মোল্লার খালের উপর নির্মিত বোবারপুল সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে।

এই পরিস্থিতে ওই সড়কে সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে, সড়কের ব্রিজঘাট এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সামনে সেতুর পূর্ব পাশের অংশও ধসে পড়েছে। এতে করে সড়কটি ব্যবহার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রামগতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, ২০০৫ সালে রামগতি বাজার থেকে বয়ারচরের টাংকির বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক পাকা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে সড়কটি দ্বিতীয় দফায় সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খানাখন্দের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, ফলে বাকি অংশও চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় এলাকাটির যোগাযোগ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা সেতুর দুটি পাশে গাছের ডাল বসিয়ে সতর্কতার ব্যবস্থা করেছেন। সড়কের দুই পাশে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকলে সড়কের আরও অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

প্রধান সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকার বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছে। সেইসঙ্গে অসুস্থ রোগীর, ব্যবসায়ীর, কৃষকের এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার, চৌরাস্তা বাজার, টাংকি বাজার, হাতিয়াবাজার এবং রামগতি উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতেন।

সড়কটি দিয়ে নিয়মিত মালবাহী ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচল করতো। কিন্তু সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিকল্প পথের অভাবে মানুষের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, আবদুস সালাম ও বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে রামগতি-বয়ারচর প্রধান সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে।

এতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা সদরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ জানিয়েছেন, বয়ারচর এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তিনি নিরুপায় হয়ে নিজ উদ্যোগে গাছপালা দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

রামগতি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বাসসকে জানিয়েছেন, মেঘনার জোয়ারের স্রোত ও টানা বৃষ্টির কারণে সড়কটি ধসে পড়েছে। খবর পাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় অভিযানে নষ্ট করা হলো ১০ লাখ টাকার আইসক্রিম, বন্ধ কারখানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


বগুড়ায় অভিযানে নষ্ট করা হলো ১০ লাখ টাকার আইসক্রিম, বন্ধ কারখানা

বগুড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ লাখ টাকার ভেজাল আইসক্রিম জব্দ করে ধ্বংস করেছেন। একই সঙ্গে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে ভেজাল আইসক্রিম তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগে একটি কারখানা সিলগালা করা হয়েছে।

এটি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের মালগুদাম এলাকার আশা আইসবার ফ্যাক্টরিতে অভিযান চলাকালীন ঘটেছে। অভিযানের সময় কারখানার মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালগুদাম এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করে আসছিল। বিশেষ করে শিশুদের আকৃষ্ট করার জন্য বাজারে জনপ্রিয় নানাবিধ ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করা হতো। উৎপাদিত এসব ভেজাল আইসক্রিম সান্তাহারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামীণ হাটবাজারের খুচরা দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএসটিআই ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় অনুমোদনহীন উৎপাদন ও জাল মোড়ক ব্যবহারের সত্যতা মেলায় কারখানার মালিক শহিদুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন কারখানায় থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার আইসক্রিম ও মোড়ক জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

এই অভিযানের পরিচালনা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম। অভিযানের সময় বিএসটিআই বগুড়ার পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম বলেন, "অনুমোদনহীন কারখানা ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%