১১:৩৭ এম
সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বীমা দাবি জমা হলেও পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৮৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রাহকদের পাওনার ৭৩ শতাংশের বেশি অর্থ এখনো পরিশোধ করেনি বীমা কোম্পানিগুলো। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (ইডরা)। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম বলছে, কেন গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করা যাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। আর খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্ধতিগত ত্রুটি দূর না হলে এই সংকটের সমাধান হবে না।
স্বামী-সন্তান নিয়ে এক বছর ধরে বীমার টাকা তুলতে বীমা প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নরসিংদীর হামিদা বেগম। তিনি বলেন, বিশ্বাস করে আমরা টাকা জমা দিয়েছি। ১২ বছর ধরে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাদের প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু এখনো নিজের জমা টাকাটাই ফেরত পাইনি।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি
শুধু হামিদা বেগমই নন, অনেক গ্রাহকই অভিযোগ করছেন, মেয়াদ শেষে বীমার টাকা তুলতে গিয়ে নানা অজুহাত শুনতে হচ্ছে। একজন গ্রাহক বলছেন, ‘কোম্পানি বলছে ফান্ড শর্টেজ। কিন্তু আমার টাকাই যদি না পাই, তাহলে এই ঘাটতির দায় কেন আমার হবে?’
আরেক গ্রাহকের সেলিম মোল্লার অভিযোগ, ‘২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আমার কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর অনেকবার অফিসে গেছি। অফিসে কাউকে পাওয়া যায় না। ফোন করলেও কেউ ধরেন না।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না করায় দিনে দিনে নাজুক অবস্থা ফুটে উঠছে বীমা খাতে; বাড়ছে দায়। ইডরার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে বীমা খাতে গ্রাহকদের মোট দাবি দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬১০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৮৩১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, এই সময়ে ৭ হাজার ৭৭৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার দাবি এখনো পরিশোধ করতে পারেনি বীমা কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে জীবন ও সাধারণ বীমা মিলিয়ে ফারইস্ট, গ্রীন ডেলটাসহ ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছেই আটকে আছে মোট বকেয়া দাবির প্রায় ৮৭ শতাংশ, যার পরিমাণ ৬ হাজার ৭৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে
এ অবস্থায় বীমা খাতের ভাবমূর্তি রক্ষায় গ্রাহকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধে প্রয়োজন হলে সরকারেরও হস্তক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব এস এম নুরুজ্জামান বলেন, অনেকে নতুন করে পলিসি করছেন না, আবার অনেকেই কিস্তি বন্ধ করে দিচ্ছেন। কারণ তারা দেখছেন, মেয়াদ শেষে টাকা পাওয়া যায় না। ফলে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আমার মনে হয়, ইডরার চেয়ারম্যান যদি বীমা দাবি নিষ্পত্তির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন, তাহলে ৯০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু দাবি পরিশোধ করলেই হবে না, পুরো বীমা ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, বীমা শিল্পকে কীভাবে মানুষের কাছে আরও আস্থাশীল করা যায়, সে বিষয়ে আগে থেকেই গবেষণা প্রয়োজন ছিল। বাজারকে কার্যকর করতে হলে চাহিদা ও সরবরাহ-দুই দিকই বিবেচনায় নিতে হবে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা কোথায়, আইনে কোনো ফাঁকফোকর আছে কি না, সেগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। এসব জায়গায় সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বীমা খাতকে আরও কার্যকর ও সম্প্রসারণে সময়োপযোগী নতুন পলিসি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন