বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৩২ পি.এম
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিড ডে খাবার পরিদর্শনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান গিয়েছিলেন। সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে পচা ডিম তিনি পান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাবারের মান পরিদর্শনের জন্য বিদ্যালয়ে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া খাবার পর্যবেক্ষণকালে তিনি পচা ডিম পান। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
আরও জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি জনাব আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য কলা ও ডিম সরবরাহ করেন।
নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা বলেন, "আজকে ইউএনও পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনি এসে একটি ডিম পচা পেয়েছেন। তবে ততক্ষণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম বিতরণ করা হয়নি। এছাড়া, বিদ্যালয়ের সব দিক তিনি ভালো পেয়েছেন।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, "আজকে নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, সেখানে খাবারের মান ঠিক আছে কিনা দেখতে। তবে সেখানে ডিম নষ্ট ছিল। সার্বিক বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসারকে তদারকি করার জন্য বলেছি।"
নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং উত্তাল সাগরের কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প।
এদিকে, পর্যটকশূন্য সৈকতের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রিসোর্ট মালিকসহ সবাই চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। ইতোমধ্যে পর্যটকরা তাদের হাজার হাজার রুম বুকিং বাতিল করেছেন। এছাড়াও, বন্ধ রয়েছে শত শত দোকানপাট ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজমান। লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যাদের এসে উপস্থিতি ছিল, তাদেরও বৃষ্টির কারণে সৈকতে বেশি সময় অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যেতে দেখা গেছে। সৈকতের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ, খোলা থাকা দোকানগুলোও ক্রেতাশূন্য। ঝালমুড়ি, চটপটি, কিটকট, বিচ বাইক ও ঘোড়ার ব্যবসাসহ প্রায় সব ধরনের পর্যটননির্ভর কর্মকাণ্ডে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
লাবণী পয়েন্টে ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. আল আমিন বলেন, 'টানা চার দিনের ভারী বর্ষণের কারণে সমুদ্রসৈকতে এসে ব্যবসা করতে পারিনি। জীবিকার তাগিদে বুধবার দোকান নিয়ে এলেও বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছে না। দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১০০ টাকার ঝালমুড়িও বিক্রি হয়নি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকার বিক্রি হতো।'
বিচ বাইক চালক মহিউদ্দিন বলেন, 'সমুদ্রসৈকতে বিচ বাইক চালিয়েই আমার সংসার চলে। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে পর্যটক না থাকায় ব্যবসা একেবারেই বন্ধ। তিন দিন পর সৈকতে এলেও কোনো আয় হয়নি।'
ঘোড়াওয়ালা মো. নিশান জানান, 'কক্সবাজার সমুদ্রসৌন্দর্যের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ৪৫ জন ঘোড়াওয়ালা রয়েছেন। কিন্তু টানা ভারী বর্ষণ ও পর্যটক সংকটের কারণে আমাদের সকলের আয়-রোজগার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন থমকে যাওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।'
কিটকট ব্যবসায়ী মফিজ বলেন, 'বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও কিছু পর্যটক সৈকতে এলেও টানা বৃষ্টির কারণে তারা বেশিক্ষণ অবস্থান না করে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে সৈকতের কিটকটগুলো সারাদিনই প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকছে, আর ব্যবসাও একেবারে স্থবির হয়েছে।'
রাসেল চটপটির স্বত্বাধিকারী মো. আরিফ বলেন, 'প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিক্রি হতো, সেখানে এখন সারাদিনেও এক হাজার টাকার ব্যবসা হচ্ছে না।'
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টজুড়ে থাকা সহস্রাধিক বার্মিজ পণ্যের দোকানেও নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। যেসব দোকান খোলা আছে, সেগুলোও ক্রেতাশূন্য।
লাবণী ছাতা মার্কেটের ব্যবসায়ী মোরশেদ আলম মন্তব্য করেন, 'এই মার্কেটে প্রায় ২০০টি বার্মিজ পণ্যের দোকান রয়েছে। কিন্তু গত চার দিন ধরে কার্যত কোনো বেচাকেনাই নেই। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিটি দোকানে দৈনিক ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো, সেখানে এখন অনেক দোকানে সারাদিনে একটি পণ্যও বিক্রি হচ্ছে না।'
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী মো. ফারুক বলেন, 'স্বাভাবিক সময়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে প্রতিদিন ৫০ হাজারেরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। তবে টানা বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে গত চার দিনে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজারে। আগত পর্যটকরাও কিছুক্ষণ সৈকতে অবস্থান করে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে লাইফগার্ডরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং কাউকে সমুদ্রে নেমে গোসল করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।'
মেরিন ড্রাইভ-কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, 'টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে কক্সবাজারে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। গত চার দিনে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৬০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক অবস্থান করলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তারাও নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।'
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর জানিয়েছেন, 'টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত চার দিনেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিজ মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে শহীদুল ইসলাম দেওয়ান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ জুলাই) রাতে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। সে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের পাঁচক গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর থেকে ঘরে একা থাকার সুযোগে বাবা বিভিন্ন সময় তাকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করতেন। দীর্ঘদিন বিষয়টি কাউকে বলতে না পারলেও কয়েকদিন আগে কৌশলে বাবার এমন কর্মকাণ্ডের কয়েকটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
নড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলায় ৭ বছরের একটি শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের ৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি দেব চন্দ্র (২২) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫। গ্রেপ্তারকৃত আসামি চারঘাট উপজেলার আরজিসাদিপুর গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র দাসের ছেলে।
শুক্রবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে মতিহার থানাধীন মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে র্যাব-৫ এর মিডিয়া সেল থেকে প্রদান করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুটি প্রতিবেশী দেব চন্দ্র দাসের বাসায় টিভি দেখতে যায়। তখন বাসায় অন্য কেউ না থাকার সুযোগে আসামি শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে টিভি রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে এই ঘটনার তথ্য জানাজানি হয় এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা শ্রী রতন চন্দ্র দাস বাদী হয়ে চারঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর র্যাব-৫ আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তাকে চারঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনার মামলায় মিতালী খাতুন নামে এক অভিভাবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মিতালী খাতুন ওই পাড়ার সামসউর রহমান শুভর স্ত্রী।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) সকালে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশ চলার সময় কানে হাত দেওয়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্যকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম। বিষয়টি জানতে পেরে দুপুরে ওই ছাত্রীর অভিভাবক সামসউর রহমান শুভ ও তার স্ত্রী মিতালী খাতুন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে যান। এ সময় ওই ছাত্রীকে শাসন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাব শুভ প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর করেন। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা। রাতে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন ওই প্রধান শিক্ষিকা।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মামলার দ্বিতীয় আসামি মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, তার স্বামী শুভ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ