ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যাদুর্গত এলাকায় জামায়াত আমিরের ত্রাণ বিতরণ


বন্যাদুর্গত এলাকায় জামায়াত আমিরের ত্রাণ বিতরণ

চট্টগ্রামসহ দেশের চারটি বিভাগের মানুষের মধ্যে বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন এসব এলাকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার সকালে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এসময় জামায়াতের আমির বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন।

বাঁশখালী এলাকায় স্লুইস গেট খুলে দেয়ার দাবিও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব এলাকায় মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। জামায়াতের পক্ষ থেকেও যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে। তবে এই পরিস্থিতির রাতারাতি উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সকল স্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসুন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

এদিকে, টানা পাঁচ দিনের ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য পাকা ও আধাপাকা বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাথারিয়া, খানখানাবাদ, গুনাগরী, বাহারছড়া, পূর্ব ইলশা, মোশাররফ আলী হাট, ডুমুরিয়া, গণ্ডামারা, জলদি, শেখেরখীল ও ছনুয়া সহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখনও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এসব এলাকার মানুষদের অনেকের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে, ফলে পরিবারগুলো খাদ্য আশ্রয়কেন্দ্র অথবা আত্মীয়স্বজনের আশ্রয় নিয়েছে।

বন্যার পানিতে কৃষিজমি, মাছের প্রকল্প ও বসতভিটা তলিয়ে যাওয়ার কারণে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ করেছে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ করেছে সরকার

রফতানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে, দেশীয় সুতা বা কাপড় ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে দেওয়া নগদ সহায়তার হার বর্তমানে দেড় শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে সরকার ৫ শতাংশ করেছে।

এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অর্থ মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হচ্ছে যে, এ সুবিধা পাওয়ার জন্য রফতানিকারকদের দেশীয় উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করা আবশ্যক।

সরকারী পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত ১ জুলাই তারিখ থেকে কার্যকর করার কথাও ওই নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমায় জনমনে ফিরছে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


বান্দরবানে  কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমায় জনমনে ফিরছে স্বস্তি

টানা বৃষ্টি ও অতিবর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বান্দরবান সদরের আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স’ মীল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাংগু নদীর তীরবর্তী এলাকা, ক্যাচিংঘাটাসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনও বন্যার পানি রয়েছে।

বান্দরবানের সড়কে নৌকা দিয়ে মানুষ পার হচ্ছে। সদরের আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগরসহ আরও বেশ কিছু এলাকার সড়কের ওপর দিয়ে নৌকা চলছে। যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষদের খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, লামা উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক বিপ্লব দাশ জানান, বন্যার কারণে লামা বাজারে গত বুধবার বিকেলে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ে, ফলে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরাতে পারেননি। তবে বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে লামা উপজেলায় পানি কমতে শুরু করে। পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে পড়ার কারণে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। তবে মূল সড়কে পানি কমে যাওয়ায় লামা-চকরিয়া সড়ক যোগাযোগ আবার চালু হয়েছে। প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পানি নেমে যাওয়ায় দোকান মালিকরা বাজারের দোকান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় রাস্তায় আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কাদার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে এখনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রইেছে।

আলীকদম উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা সুজন চৌধুরী জানালেন, সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ এখনো অবস্থান করছেন। তবে তারা তিন-চার দিন ধরে বিদ্যুতের অভাবে রয়েছে। নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত মানুষগুলো বিশুদ্ধ পানির সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সাধিত হলেও জনজীবন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের থুইলা অং পাড়ায় মধ্যম গর্জনখালের ওপর নির্মিত পাকা ব্রিজটি পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

রুমা ও রোয়াংছড়িতে বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অচল অবস্থা বিরাজ করছে। বান্দরবান জেলা সদরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে পুকুর থেকে পানি তুলতে হচ্ছে এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা পরিশোধন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

থানচি উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক মংবোওয়াচিং মারমা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ আসে। গত ৫ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত টেলিটকের কোনো নেটওয়ার্ক ছিল না। আজ সকালে টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে, তবে রবির নেটওয়ার্ক নেই।

এদিকে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাশ জানান, বান্দরবান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে এখনও সরাসরি বাস চালু করা সম্ভব হয়নি। বান্দরবান কেরানীহাট সড়কে এখনও পানি রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বাস সার্ভিস চালু করা হবে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বাসসকে জানিয়েছেন, সবাই সম্মিলিতভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে কোনো ধরনের ত্রাণের ঘাটতি হয়নি।

এদিকে, বান্দরবানে বন্যায় পানিবন্দী ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি।

আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি শহরের বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাস স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র, ওয়ার্ল্ড ভিশন আশ্রয়কেন্দ্র এবং সাংগু স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন।

সাচিং প্রু জেরী বাসসকে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। আমার সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের নানা উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের নানা উদ্যোগ

ভারী বৃষ্টির ফলে সুনামগঞ্জের সুরমাসহ অন্যান্য নদ নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত জেলার অভ্যন্তরে কোন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির তথ্য শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১,৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ শুক্রবার সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। একইসময়, তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সুরমা নদী ও হাওর এলাকার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী আরও এক দিন সুনামগঞ্জ ও উজানের ভারতের মেঘালয় প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তাহলে সুনামগঞ্জের কিছু কিছু স্থানে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আজ শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় প্রদেশের মাউসিনরাম এলাকায় ১৭৭ মিলিমিটার, মাওকিরওয়াত এলাকায় ১৩৫ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরা এলাকায় ১২০ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জি এলাকায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড হওয়া দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বড়পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, "তিন দিন ধরে দিনে-রাতে বৃষ্টি হচ্ছে, সুরমা নদীর পানিও বাড়ছে। নদীর পানি বাড়লে ২০২২ সালের বন্যা কথা মনে পড়ে। কোন সময় জানি বন্যা হয়ে যায় ও বাড়ি-ঘরে পানি উঠে যায়।"

সুনামগঞ্জ শহরতলীর ধারারগাঁও এলাকার বাসিন্দা দলিল লেখক তাজুল ইসলাম বলেন, "নদী ও আকাশের অবস্থা দেখলে ভয় করে। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে, সুরমা নদীর পানিও বাড়ছে। নদীর ঘোলা পানি দেখে বুঝা যায় পাহাড়ি ঢলের পানি আসতেছে। এভাবে আরও কয়েক দিন বৃষ্টি হলে নদীর পাড়ের রাস্তা ডুবে যেতে পারে।"

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, "আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও এক দিন অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সুরমা ও অন্যান্য নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে কুশিয়ারা ছাড়া অন্য সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত হলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্প মেয়াদী বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।"

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, "বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১,৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১,০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা-উপজেলায় কন্ট্রেল রুম চালু করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, বন্যা কবলিতদের জন্য জিআর চাল ও শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনসচেতন বৃদ্ধি করতে প্রচারণার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৮৪৭৯৭৮৯৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের পরই নববধূ অপহরণ, ‘ফিল্মি স্টাইলে’ ঘটনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


বিয়ের পরই নববধূ অপহরণ, ‘ফিল্মি স্টাইলে’ ঘটনার

ভারতের তেলেঙ্গানার পাপান্নাপেট গ্রামে ভিন্ন জাতে বিয়ে করার জন্য এক নববধূকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে। এটি ঘটে মাত্র বিয়ের দুই দিন পর। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশের মতে, পাপান্নাপেট মণ্ডলের এল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রণয় গত ৬ জুলাই কাউডিপল্লী মণ্ডলের সালাবাতপুর গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক থাকলেও তাদের জাত আলাদা হওয়ায় কনের পরিবার বিয়েতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল। নিরাপত্তা বৃদ্ধির স্বার্থে, বিয়ের পর নবদম্পতি স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেন। তখন পুলিশ উভয় পরিবারকে ডেকে কাউন্সেলিং করে। নববধূ পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়ে জানান, তিনি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং স্বামীর সাথেই থাকতে চান।

প্রণয়ের মা শ্যামলা জানান, ভিন্ন জাতে বিয়ে করায় কনের আত্মীয়রা তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিয়ের দুই দিন পর, বুধবার (৮ জুলাই) কনের পরিবারের কিছু সদস্য চারটি গাড়ি নিয়ে এল্লাপুর গ্রামে প্রণয়দের বাড়ির ওপর চড়াও হন। ঘটনার সময় বাড়ির পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না। সেই সুযোগে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে পড়ে। প্রণয়ের মা বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং উপস্থিত সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে নববধূকে জোরপূর্বক টেনে হিচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এই ঘটনার পুরো দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ওঠে।

ঘটনার পর প্রণয়ের পরিবার পাপান্নাপেট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তবে তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ নববধূকে উদ্ধার করতে পারে নি বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

পাপান্নাপেট থানার পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং নববধূকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। কনেকে উদ্ধারের পর তার জবানবন্দি নেওয়া হবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে তরুণীকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তবে অপহরণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%