০৫:০৭ পি.এম
টানা বৃষ্টি ও অতিবর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আজ শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বান্দরবান সদরের আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স’ মীল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাংগু নদীর তীরবর্তী এলাকা, ক্যাচিংঘাটাসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনও বন্যার পানি রয়েছে।
বান্দরবানের সড়কে নৌকা দিয়ে মানুষ পার হচ্ছে। সদরের আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগরসহ আরও বেশ কিছু এলাকার সড়কের ওপর দিয়ে নৌকা চলছে। যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষদের খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, লামা উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক বিপ্লব দাশ জানান, বন্যার কারণে লামা বাজারে গত বুধবার বিকেলে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ে, ফলে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরাতে পারেননি। তবে বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে লামা উপজেলায় পানি কমতে শুরু করে। পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে পড়ার কারণে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। তবে মূল সড়কে পানি কমে যাওয়ায় লামা-চকরিয়া সড়ক যোগাযোগ আবার চালু হয়েছে। প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পানি নেমে যাওয়ায় দোকান মালিকরা বাজারের দোকান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় রাস্তায় আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কাদার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে এখনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রইেছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
আলীকদম উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা সুজন চৌধুরী জানালেন, সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ এখনো অবস্থান করছেন। তবে তারা তিন-চার দিন ধরে বিদ্যুতের অভাবে রয়েছে। নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত মানুষগুলো বিশুদ্ধ পানির সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সাধিত হলেও জনজীবন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের থুইলা অং পাড়ায় মধ্যম গর্জনখালের ওপর নির্মিত পাকা ব্রিজটি পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রুমা ও রোয়াংছড়িতে বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অচল অবস্থা বিরাজ করছে। বান্দরবান জেলা সদরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে পুকুর থেকে পানি তুলতে হচ্ছে এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা পরিশোধন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
থানচি উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক মংবোওয়াচিং মারমা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ আসে। গত ৫ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত টেলিটকের কোনো নেটওয়ার্ক ছিল না। আজ সকালে টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে, তবে রবির নেটওয়ার্ক নেই।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
এদিকে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাশ জানান, বান্দরবান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে এখনও সরাসরি বাস চালু করা সম্ভব হয়নি। বান্দরবান কেরানীহাট সড়কে এখনও পানি রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বাস সার্ভিস চালু করা হবে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বাসসকে জানিয়েছেন, সবাই সম্মিলিতভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে কোনো ধরনের ত্রাণের ঘাটতি হয়নি।
এদিকে, বান্দরবানে বন্যায় পানিবন্দী ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি।
আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি শহরের বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাস স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র, ওয়ার্ল্ড ভিশন আশ্রয়কেন্দ্র এবং সাংগু স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
সাচিং প্রু জেরী বাসসকে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। আমার সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন