ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ব্যয় কমিয়ে নতুন কর্মসংস্থান উদ্যোগ


ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ব্যয় কমিয়ে নতুন কর্মসংস্থান উদ্যোগ

সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে এবং মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ডাক বিভাগ ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লেটার রাইটার মডিউল’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের ১২টি এলাকায় প্রাথমিকভাবে এই সেবা চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা থেকে গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি বলেন, দেশে ১২টি ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় এ সেবা চালু হয়েছে। শিগগিরই বান্দরবান এবং সুনামগঞ্জের সাল্লা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

২৯ জুলাই ডাক ভবনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই সেবার উদ্বোধন করেন। প্রথম পর্যায়ে ঢাকার ভেতরে চারটি এবং ঢাকার বাইরে চারটিসহ মোট আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালু করা হয়েছে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের কারিগরি প্রস্তুতি সম্পর্কে ‘মেইল প্রসেসিং এবং লজিস্টিক সার্ভিস টেকসই ও আধুনিকীকরণ’ প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহ আলম ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পের আওতায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লেটার রাইটার মডিউল পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অনেকের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সারা দেশে ৬ হাজার মোবাইল সেট ও ৫০০ কম্পিউটার সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণ করে ডাক বিভাগ আটটি সুনির্দিষ্ট কাজ হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালু করা অন্যতম।

তিনি উল্লেখ করেন, এসব উদ্যোগের ফলে মৌসুমি ফলসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনে ডাক বিভাগের সক্ষমতা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের ফলের ক্রেটসহ বিভিন্ন পণ্য নিরাপদে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের যেকোনো জেলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত উপজেলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা সময় লাগছে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই এসব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

পার্সেল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহ আলম বলেন, আগে পরিবহনের সময় কোন পণ্য কোথায় রয়েছে, তা জানার সুযোগ ছিল না। বর্তমানে প্রতিটি পার্সেলের গায়ে বারকোড ব্যবহার করে ডমেস্টিক মেইল সিস্টেমের (ডিএমএস) মাধ্যমে তা ইস্যু ও বিলি করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা ঘরে বসেই তাদের পণ্যের হালনাগাদ তথ্য জানতে পারছেন।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আরও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভূমির দলিল, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সেবা। ই-কমার্স পণ্যের ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবা চালুর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিদেশে পার্সেল পাঠাতে স্বল্প মাশুলে এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস (ইএমএস) সুবিধাও রয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ডাক বিভাগের সেবার ধরনে পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক বলেন, চিঠি, দ্রুতগামী পত্র, পার্সেল ও প্যাকেটজাতীয় ডাকদ্রব্য গ্রহণ, পরিবহন ও বিলি করা ডাক বিভাগের মূল কাজ বা কোর সার্ভিস। এর বাইরে সঞ্চয় ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র পরিচালনা, পাঠ্যবই ও টিকা বিতরণ, লটারির টিকিট বা প্রাইজবন্ড বিক্রির মতো কাজগুলো মূলত এজেন্সি ফাংশন, যা সরকার বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগকে দিয়ে থাকে।

ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক চিঠি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রযুক্তির প্রসারে এখন মানুষ লাইভ ভিডিও কল ও এসএমএসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারছেন। ফলে চিঠির উত্তরের জন্য আগের মতো মাসের পর মাস অপেক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে না। একইভাবে সরকারের সার্বিক নীতির কারণে সবকিছু অনলাইনে করার প্রবণতা বেড়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোও এখন কাগজের নথির পরিবর্তে ই-নথি ও ডি-নথি ব্যবহার করছে। ফলে দাপ্তরিক চিঠিপত্রের ব্যবহারও ক্রমে কমছে।

চিঠির প্রচলন কমলেও ই-কমার্সের হাত ধরে ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে বলে মহাপরিচালক মনে করেন। তিনি বলেন, দেশের নাগরিকরা অনলাইনে যেসব পণ্য কেনাবেচা করেন, তার সবই ডাকদ্রব্য। বর্তমানে চিঠির জায়গা দখল করছে পার্সেল ও পণ্য পরিবহন। তাই এই কোর সার্ভিসকে ঘিরেই নতুনভাবে ডাক বিভাগের কার্যক্রম সাজানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের মতো উদ্যোগে যেমন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, তেমনি ই-কমার্সের সম্ভাবনাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন সেবা ও সুযোগ তৈরির মধ্য দিয়েই ডাক বিভাগ নতুন রূপে ফিরে আসবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

উল্লেখ্য, ডাক বিভাগের সেবা সম্প্রসারণ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লেটার রাইটার মূলত একই কাজের দুটি ভিন্ন রূপ হিসেবে কাজ করবে। ডাক বিভাগের নাম ও ব্র্যান্ড ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় পণ্য সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করলে তা ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ হিসেবে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি এককভাবে বা নিজস্ব উদ্যোগে একই দায়িত্ব পালন করলে তাকে ‘লেটার রাইটার’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তার পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকাকে ন্যায্য স্থান দেওয়ার আহ্বান জানালেন খলিলুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকাকে ন্যায্য স্থান দেওয়ার আহ্বান জানালেন খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার জন্য স্থায়ী ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দীর্ঘকালীন প্রতিনিধিত্বের অভাব দূর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র একটি শর্তাধীন বিষয় নয়, বরং এটি সরাসরি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে সম্পর্কিত।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ড. খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আফ্রিকাকে আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে, মেনুতে নয়।’

ড. খলিলুর রহমান জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আফ্রিকাকে নিরাপত্তা পরিষদে তার যথাযথ স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিনিধিত্বের অভাব দূর করা প্রয়োজন। তার মতে, আফ্রিকাকে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র ন্যায্যতার প্রশ্ন নয়; এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যে বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসেন শাহেদ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসেন শাহেদ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তার জন্য কেন্দ্র থেকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়, যা এই তথ্য জানায়।

এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, "আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।"

এছাড়া, নোটিশে আরও বলা হয়েছে, "অভিযোগের তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী আপনাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।"

এদিকে, অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে এনসিপির ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত এনসিপি নেতার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের কারখানায় জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চন্দনপুরায় তারেক-হারুন চক্রের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্যাতন ও বাড়ি দখলের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২২ পি.এম


চন্দনপুরায় তারেক-হারুন চক্রের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্যাতন ও বাড়ি দখলের অভিযোগ

চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকার একটি সম্পত্তি ও বসতবাড়ি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তারেক ও হারুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, জমি ও ভবন দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, প্রতারণা এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়ে আসছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো-প্রবাসে কর্মরত গণির পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে তাঁর নিজ বসতঘরে নানা ধরনের হয়রানি ও ভয়ভীতির মধ্যে রাখা হয়েছে। তাঁর ঘরের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পরিবারটির দাবি, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে প্রয়োজনীয় পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার ফলে তাঁর শারীরিক নিরাপত্তা ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, বিষয়টি শুধু একটি ব্যক্তিগত জমি বা সম্পত্তি বিরোধ নয়; এর সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ভয়ভীতি, প্রভাব বিস্তার এবং একাধিক পুরোনো অভিযোগের বিষয়ও জড়িয়ে আছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

যৌথ মালিকানাধীন ভবন নির্মাণের চুক্তি নিয়ে বিরোধ: অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, চন্দনপুরা এলাকায় একটি যৌথ মালিকানাধীন বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালের ৭ এপ্রিল তারেক, পিতা-মুনাফ, একটি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিলের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ভবনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নকশা, নির্মাণের বৈধতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয়দের মতে, বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা, অগ্নিনিরাপত্তা, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না-তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ওয়ারিশদের জমি দখলের অভিযোগ: অভিযোগকারীদের দাবি, আহমদ উল্লাহর অন্যান্য ওয়ারিশদের জমি থেকে সরিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিকানা, ওয়ারিশানা, দলিল, খতিয়ান, নামজারি, রেজিস্ট্রি এবং দখল-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সময় কয়েকজনকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এবং তাঁদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিলকিস বেগম নামের এক নারীর পরিবারের পক্ষ থেকেও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁর স্বামীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের তিন ভাইয়ের নামে ভবনসংক্রান্ত রেজিস্ট্রি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি দলিল, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনে আদালতের নথি পরীক্ষা করা জরুরি।

পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ: এই ঘটনার সবচেয়ে মানবিক ও উদ্বেগজনক দিক হিসেবে সামনে এসেছে প্রবাসী গণির স্ত্রীকে ঘিরে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, গণি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তাঁর স্ত্রী স্থানীয়ভাবে বসতবাড়িতে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তিনি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর বসতঘরের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির সংকট এবং রান্নার জন্য গ্যাসের সুবিধা না থাকায় ওই নারী চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগও করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের আশঙ্কা, প্রবাসী স্বামী দেশে না থাকায় তাঁরা আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ করে ওই নারী ও তাঁর অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ: ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই তাঁদের বাসার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি অভিযোগটি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এ ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া কীভাবে এবং কার নির্দেশে করা হয়েছে-তা তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড যাচাই করেও প্রকৃত ঘটনা বের করা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

সামরিক কর্মকর্তা ও আইনজীবী পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ: স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, তারেক বিভিন্ন সময় নিজেকে সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এ ছাড়া নিজেকে হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। কেউ যদি আইনজীবী পরিচয় দিয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতি বা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। একইভাবে সামরিক পরিচয়ের দাবির সত্যতাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে। মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, অভিযোগকারীদের দাবি, আইনজীবী পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মামলা বা আইনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে।

কারও কাছ থেকে এ ধরনের অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের প্রমাণ, ব্যাংক রেকর্ড, মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য, রসিদ এবং সাক্ষীদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সুদের কারবার ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সুদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করে অনেককে আর্থিকভাবে চাপে ফেলা হয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, কেউ ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাঁর জমি বা বসতবাড়ি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভুক্তভোগী, লেনদেনের নথি, দলিল এবং সাক্ষ্য যাচাই করা প্রয়োজন। মোবারককে ঘিরেও অভিযোগ, তারেক ও হারুনের সঙ্গে তাঁদের ভাই মোবারকের নামও স্থানীয় অভিযোগে উঠে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মোবারক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন এবং মাদক ব্যবসার মতো অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছেন, এলাকায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে কয়েকজনকে ব্যবহার করা হয়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেই তিনি আইনগতভাবে অপরাধী হয়ে যান না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে মামলা, তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মসজিদের দানবাক্স চুরির অভিযোগ, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৭ মে চন্দনপুরার একটি স্থানীয় মসজিদের দানবাক্স চুরির ঘটনায় তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগটি সত্য কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের থানার রেকর্ড, জিডি, মামলা ও তদন্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।মসজিদের দানবাক্সের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ চুরির অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাংবাদিকের বাসায় লুটপাটের অভিযোগ, অভিযোগকারীদের দাবি, একজন ভাড়াটিয়া সাংবাদিক মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়িতে গেলে তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগে বাসায় প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিবারটির দাবি, ওই ঘটনায় প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের বাসা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, মালামালের তালিকা, সাক্ষী, জিডি বা মামলার নথি এবং তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন। ভাইয়ের পরিবারের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ, তারেকের ভাই ফারুকের স্ত্রীকে ঘিরেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর জমিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে তাঁকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ, সাক্ষ্য, লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অস্ত্রের মুখে বসতবাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ, স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, তারেকের এক চাচাতো ভাই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে বসতবাড়িতে লুটপাট চালানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন বলে দাবি করা হয়েছে, তাই আদালতের নথি ও মামলার বর্তমান অবস্থান যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন। মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ, স্থানীয় হাবিব মিস্ত্রির পরিবারকে ঘিরেও একটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য জমিয়ে রাখা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোবারক ও তারেকের নাম অভিযোগে এসেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা বা জিডি এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই প্রয়োজন। চাচা হত্যার অভিযোগ, সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে তারেকের আপন চাচাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ। তবে এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ। কোনো আদালতের রায় বা তদন্তের নির্ভরযোগ্য নথি ছাড়া এ অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। তাই এ অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার মামলা, এজাহার, চার্জশিট, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের রেকর্ড যাচাই করা জরুরি।

২০২৫ সালের চকবাজার থানার মামলা: নথিতে যা রয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। মামলার তথ্য: থানা: চকবাজার, জেলা/মেট্রোপলিটন: সিএমপি, মামলা নম্বর: ৭, তারিখ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বার্ষিক নম্বর: ৯৮ আইন: Penal Code, 1860, ধারা: ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৪২৭/৩০৭/৩৫৪/৫০৬, ঘটনার তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ঘটনার সময়: রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত, থানা থেকে আদালতে প্রেরণের তারিখ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫,মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, বেআইনি জনতাবদ্ধে গৃহে প্রবেশ, মারধর করে গুরুতর জখম, ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন, চুরি, শ্লীলতাহানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এজাহার ও মামলার নথিতে থাকা অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল রয়েছে কি না, তা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আদালতের নথি যাচাইয়ের বিষয়।

ঘটনার সময় ও মামলার নথি নিয়ে প্রশ্ন, প্রদত্ত নথির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনা ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রাতে। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মামলা রুজু করা হয়।তবে আপনার সরবরাহ করা তথ্যে “সংবাদ প্রাপ্তির তারিখ” অংশে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ লেখা রয়েছে, যা মামলার ২০২৫ সালের তারিখের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এ কারণে প্রকাশের আগে মূল এজাহার বা থানার নথি দেখে এই তারিখটি সংশোধন করা জরুরি। ২০২৬ সালের জিডির তথ্য,প্রাপ্ত তথ্যে জিডি নম্বর ২৭৫, তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি জিডি-সংক্রান্ত নম্বর ও তারিখের তথ্য দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ করা লেখায় সেটির কিছু অংশ অস্পষ্ট। সুতরাং মূল জিডির কপি দেখে- জিডি নম্বর, ট্র্যাকিং নম্বর, তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট থানার নাম, হুবহু মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট থানার জিডি ও এজাহার। এসব নথি যাচাই ছাড়া সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা বা দখলের বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, চন্দনপুরার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিরোধ ও অভিযোগের কারণে এলাকায় এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করলে পরবর্তীতে হয়রানি বা ভয়ভীতির আশঙ্কা থাকে। তবে এই দাবিরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যের পাশাপাশি থানার রেকর্ড, মামলা ও প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করলে পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। প্রশাসনের প্রতি স্থানীয়দের দাবি, চন্দনপুরার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত, তারেক, হারুন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা নারীর নিরাপত্তা

প্রবাসী গণির পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিক সুবিধা, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ তদন্ত করে আইনসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্পত্তির নথি যাচাই, জমি ও ভবনের প্রকৃত মালিকানা দলিল, খতিয়ান, রেজিস্ট্রি ও ওয়ারিশানা নথির মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। ভবনের অনুমোদন পরীক্ষা, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নকশা ও নির্মাণ নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হবে। মামলার নথি যাচাই, ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলা, জিডি ও আদালতের নথি পর্যালোচনা করতে হবে। বিচারাধীন মামলায় আদালতের নির্দেশনা,l যেসব মামলা আদালতে বিচারাধীন, সেগুলোর ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করতে হবে। সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগী, সাক্ষী ও অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযুক্তদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তারেক, হারুন, মোবারক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। চন্দনপুরার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর। বিশেষ করে একজন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্যাতন এবং তাঁর মৌলিক নাগরিক সুবিধা বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ দ্রুত তদন্তের দাবি রাখে। অন্যদিকে, জমি ও ভবনসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে দলিল, রেজিস্ট্রি, খতিয়ান ও আদালতের নথিই হবে প্রকৃত মালিকানা ও অধিকার নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একইভাবে হত্যা, ডাকাতি, চুরি, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি কিংবা প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলা ও আদালতের নথি যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। তাই ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চন্দনপুরার সম্পত্তি বিরোধ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা এবং পূর্বের মামলাগুলোর নথি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলবে.........

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারে সেমিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারে সেমিনার

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নৈতিক ও কার্যকর ব্যবহারের উপর একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘Working Smarter with AI: Practical Productivity for Academics’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ আয়োজন করে।

সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং একাডেমিক কর্মকর্তাগণ।

মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডনে Wipro Ltd.-এর পরিচালক এনামুল হক। তিনি উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, বিশেষ করে পাঠদান, গবেষণা, একাডেমিক লেখালেখি এবং প্রশাসনিক কাজে AI ব্যবহারের বিভিন্ন বাস্তব দিক তুলে ধরেন।

সেমিনারে AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, গবেষণার সততা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত AI disclosure বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের তথ্য প্রকাশের নীতিমালা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় একটি সরাসরি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাহিত্য পর্যালোচনা (Literature Review), নথি বিশ্লেষণ, একাডেমিক লেখালেখি এবং গবেষণা ব্যবস্থাপনায় AI কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা তুলে ধরা হয়।

পরে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তারা। প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে সেমিনারটি শেষ হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদের AI ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি এর দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%