ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি


হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হলো। এই ঘটনায়, মোট ৭৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে দেশে, যা ১৫ মার্চ থেকে হাম ও উপসর্গে ঘটেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃ্ত্যুর সংখ্যা ৩ জন। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

একই সময় নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯০১ জনের হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেট বাস্তবায়নে প্রান্তিক মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান মঠবাড়িয়ার তরুণদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


বাজেট বাস্তবায়নে প্রান্তিক মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান মঠবাড়িয়ার তরুণদের

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার চার তরুণের সঙ্গে কথা হয় আরটিভি প্রতিবেদকের। তাদের মতে, কেবল বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করলেই হবে না। বরং সেই বাজেটের সুফল যেন প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, কৃষক ন্যায্য মূল্য পান এবং নতুন উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে সহায়তা পান—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি তরুণদের জন্যও তৈরি হবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

যুব সংগঠক ও সামাজিক উদ্যোক্তা আরাফাত হোসাইন মিরাজ জানান, বর্তমানে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। তাই শুধুমাত্র সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না করে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মঠবাড়িয়া ই-বাজারের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, সামান্য প্রশিক্ষণ, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সহজ অর্থায়নের সুযোগ পেলে গ্রামের অনেক তরুণ-তরুণী সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন। কিন্তু জামানতের জটিলতা, উচ্চ সুদ এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ শুরু হওয়ার আগেই থেমে যায়। তাই আগামী দিনে স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতমুক্ত স্বল্পসুদে ঋণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিল এবং উপজেলা পর্যায়ে বিজনেস সাপোর্ট সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার জন্য বিশেষ সহায়তা থাকলে তারা শুধু চাকরি খুঁজবেন না, বরং নিজেরাও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন। পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ, ই-কমার্স এবং ডিজিটাল ব্র্যান্ডিংয়ে সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো হলে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও বাজেটে আরও গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল।

অর্থনীতিতে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করা শিমু আ্ক্তার জানান, জাতীয় বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোর মূল চাবিকাঠি। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধরনের বাজেটে প্রকাশ হয়, ২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এটা ৫৫ তম বাজেট। এবারের বাজেটের স্লোগান ছিল, গণতান্ত্রিক মানবিক অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তিনি মনে করেন এবারের বাজেট প্রশংসনীয়, তবে বাজেট কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়; তার যথাযথ ব্যবহারিক একটি দেশের উন্নয়ন সুনির্দিষ্ট করে। একটি দেশের উন্নয়ন তৃণমূল পর্যায়ে থেকে শুরু হয়; তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ে বাজেট হল বৈষম্য দূরীকরণ, উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং তাদেরকে স্বনির্ভর করার মূল হাতিয়ার। একটি দেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যতক্ষণ না জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই দেশ বা রাষ্ট্রের উন্নতি অকল্পনীয়। দেশের প্রান্তিক মানুষের অনেকেই কৃষিজীবী; এবারের ২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ক্ষেত্রে বাজেট ধরা হয়েছে ২৮৮২০ কোটি টাকা, কিন্তু এই টাকা সরাসরি প্রতিটি উপজেলার ইউএনও এর মাধ্যমে আবেদনের মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানো উচিত।

নারী উদ্যোক্তা হীরা শ্রাবণী বুশরা বলেন, এবারের জাতীয় বাজেট আকারে বড় হলেও সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা খুব একটা নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোই হওয়া উচিত বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাত, ফ্রিল্যান্সিং এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া তরুণদের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।

শিক্ষিত বেকারদের জন্য তিনি বেকারত্ব ভাতা চালু এবং সরকারি চাকরির আবেদন ফি কমানো বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তির শর্ত সহজ করা, কাগজপত্রের জটিলতা কমান এবং প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আগামী বাজেটে তিনি তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান—বিনা জামানতে সহজ শর্তে উদ্যোক্তা ঋণ, প্রতিটি ইউনিয়নে ফ্রি কম্পিউটার ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধাসহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও সমন্বয় করা।

প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে তিনি স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে স্থায়ী রেশন কার্ড, দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং কৃষকদের ভর্তুকি ও সহায়তা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

গৃহিণী সুমাইয়া আক্তার বলেন, এবারের জাতীয় বাজেটে সরকার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রধান সংকট মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁর মতে, বাজেটে কী ঘোষণা করা হলো, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেগুলোর বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, তরুণদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাত ও ক্ষুদ্র-বড় উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সহায়তা দেওয়া উচিত। এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

আগামী বাজেটে সরকারের কাছে তাঁর প্রধান প্রত্যাশা হলো—কার্যকর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষায় বড় বিনিয়োগ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ঝামেলামুক্ত ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা।

প্রান্তিক মানুষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, কৃষকদের সারের দাম কমানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখাই হওয়া উচিত সরকারের অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষ্যে, প্রান্তিক মানুষ ভালো না থাকলে দেশের অর্থনীতিও কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যাদুর্গত এলাকায় জামায়াত আমিরের ত্রাণ বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


বন্যাদুর্গত এলাকায় জামায়াত আমিরের ত্রাণ বিতরণ

চট্টগ্রামসহ দেশের চারটি বিভাগের মানুষের মধ্যে বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন এসব এলাকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের জেরে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার সকালে বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এসময় জামায়াতের আমির বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন।

বাঁশখালী এলাকায় স্লুইস গেট খুলে দেয়ার দাবিও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এসব এলাকায় মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। জামায়াতের পক্ষ থেকেও যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে। তবে এই পরিস্থিতির রাতারাতি উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সকল স্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসুন।

এদিকে, টানা পাঁচ দিনের ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য পাকা ও আধাপাকা বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাথারিয়া, খানখানাবাদ, গুনাগরী, বাহারছড়া, পূর্ব ইলশা, মোশাররফ আলী হাট, ডুমুরিয়া, গণ্ডামারা, জলদি, শেখেরখীল ও ছনুয়া সহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখনও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এসব এলাকার মানুষদের অনেকের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে, ফলে পরিবারগুলো খাদ্য আশ্রয়কেন্দ্র অথবা আত্মীয়স্বজনের আশ্রয় নিয়েছে।

বন্যার পানিতে কৃষিজমি, মাছের প্রকল্প ও বসতভিটা তলিয়ে যাওয়ার কারণে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ করেছে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ করেছে সরকার

রফতানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে, দেশীয় সুতা বা কাপড় ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে দেওয়া নগদ সহায়তার হার বর্তমানে দেড় শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে সরকার ৫ শতাংশ করেছে।

এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অর্থ মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হচ্ছে যে, এ সুবিধা পাওয়ার জন্য রফতানিকারকদের দেশীয় উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করা আবশ্যক।

সরকারী পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত ১ জুলাই তারিখ থেকে কার্যকর করার কথাও ওই নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমায় জনমনে ফিরছে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


বান্দরবানে  কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমায় জনমনে ফিরছে স্বস্তি

টানা বৃষ্টি ও অতিবর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ দশমিক ২৭ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বান্দরবান সদরের আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স’ মীল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাংগু নদীর তীরবর্তী এলাকা, ক্যাচিংঘাটাসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনও বন্যার পানি রয়েছে।

বান্দরবানের সড়কে নৌকা দিয়ে মানুষ পার হচ্ছে। সদরের আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগরসহ আরও বেশ কিছু এলাকার সড়কের ওপর দিয়ে নৌকা চলছে। যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা থেকে আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষদের খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, লামা উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক বিপ্লব দাশ জানান, বন্যার কারণে লামা বাজারে গত বুধবার বিকেলে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ে, ফলে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরাতে পারেননি। তবে বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে লামা উপজেলায় পানি কমতে শুরু করে। পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে পড়ার কারণে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। তবে মূল সড়কে পানি কমে যাওয়ায় লামা-চকরিয়া সড়ক যোগাযোগ আবার চালু হয়েছে। প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পানি নেমে যাওয়ায় দোকান মালিকরা বাজারের দোকান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় রাস্তায় আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কাদার কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে এখনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রইেছে।

আলীকদম উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা সুজন চৌধুরী জানালেন, সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। লামা-আলীকদম সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ এখনো অবস্থান করছেন। তবে তারা তিন-চার দিন ধরে বিদ্যুতের অভাবে রয়েছে। নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত মানুষগুলো বিশুদ্ধ পানির সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সাধিত হলেও জনজীবন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের থুইলা অং পাড়ায় মধ্যম গর্জনখালের ওপর নির্মিত পাকা ব্রিজটি পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

রুমা ও রোয়াংছড়িতে বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অচল অবস্থা বিরাজ করছে। বান্দরবান জেলা সদরের বাসিন্দাদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে পুকুর থেকে পানি তুলতে হচ্ছে এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা পরিশোধন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

থানচি উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক মংবোওয়াচিং মারমা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যুৎ আসে। গত ৫ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত টেলিটকের কোনো নেটওয়ার্ক ছিল না। আজ সকালে টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া গেছে, তবে রবির নেটওয়ার্ক নেই।

এদিকে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাশ জানান, বান্দরবান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে এখনও সরাসরি বাস চালু করা সম্ভব হয়নি। বান্দরবান কেরানীহাট সড়কে এখনও পানি রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বাস সার্ভিস চালু করা হবে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বাসসকে জানিয়েছেন, সবাই সম্মিলিতভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে কোনো ধরনের ত্রাণের ঘাটতি হয়নি।

এদিকে, বান্দরবানে বন্যায় পানিবন্দী ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি।

আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি শহরের বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাস স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র, ওয়ার্ল্ড ভিশন আশ্রয়কেন্দ্র এবং সাংগু স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন।

সাচিং প্রু জেরী বাসসকে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। আমার সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%