বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:৪৯ পি.এম
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: নুরুল হক উল্লেখ করেছেন যে, নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা, বিদ্যমান শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ, দক্ষ কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ছয় মাসের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক লোক বিদেশে কর্মসংস্থানে রয়েছে। সরকার প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, তাদের সম্পদের সুরক্ষা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা, বিদ্যমান শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ, দক্ষ কর্মী পাঠানো, বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের সেবার পরিধি বাড়ানো এবং প্রতারণা বন্ধে কঠোর নজরদারি চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনেক কার্যক্রম খুব অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান করা সম্ভব নয়। কারণ নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, একাধিক ফলোআপ বৈঠক, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন হয়। ফলে ছয় মাসে গৃহীত অনেক উদ্যোগের সুফল এখনো দৃশ্যমান না হলেও আগামী দিনে এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে সকল দেশে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য কাজ করি, সেখানে বাইল্যাটারাল মিটিং, ফলোআপ মিটিং, এমইউসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। এজন্য সময় লাগে। সেই দিক থেকে হয়তো অনেক কাজ ছয় মাসে দৃশ্যমান হয়নি। কিন্তু সামনে এগুলোর সুফল দেখা যাবে।’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি ছয় মাসে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন মো: নুরুল হক।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে একক দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। প্রধানমন্ত্রী সফরের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে। আগামী মাসের শুরু থেকেই সেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া শুরু হবে বলে তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হওয়া বাংলাদেশের কর্মপ্রত্যাশী মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা জটিলতা ছিল। সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সেই জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছে।
দুবাইয়ের শ্রমবাজার নিয়েও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১২ সাল থেকে দুবাইয়ে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমে গিয়েছিল। তবে নতুন করে সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি জানান, এ বছরের মধ্যেই দুবাই ট্যাক্সি নামের একটি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬ হাজার চালক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালকের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু সংখ্যার বিচারে বেশি কর্মী বিদেশে পাঠানো নয়, বরং দক্ষতা অনুযায়ী উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এতে কর্মীরা যেমন ভালো আয় করতে পারবেন, তেমনি দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণও বাড়বে।
কাতারের সঙ্গেও বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রিক্যাল, এসি ও অন্যান্য নির্দিষ্ট কারিগরি খাতে কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার।
তিনি জানান, কাতারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি করা এবং সেখান থেকে কর্মী নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মো: নুরুল হক বলেন, দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদেশি শ্রমবাজারে এখন আগের মতো অদক্ষ কর্মীর চাহিদা নেই। ফলে যে দেশের যে ধরনের কর্মীর প্রয়োজন, সেই চাহিদা অনুযায়ী দেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মী পাঠানোই হবে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সৌদি আরবের শ্রমবাজার নিয়েও আশা প্রকাশ করেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আমন্ত্রণ এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে বলে আশা করছে সরকার।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে সৌদি আরবে একাধিক বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন রয়েছে। বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সেখানে বিপুলসংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হবে। নির্মাণ, পরিবহন, সেবা, পর্যটন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আমন্ত্রণ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সফর অনুষ্ঠিত হলে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাহরাইনের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান মো: নুরুল হক। তিনি বলেন, বাহরাইনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে এবং একটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সফরের মাধ্যমে বাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও নতুন শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমঝোতা ও আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, থাইল্যান্ডের শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হলে সেখানে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে থাইল্যান্ডে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত কর্মীর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবাসীদের জন্য সরকারের সবচেয়ে আবেগঘন ও মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি হলো বিদেশে মারা যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মন্ত্রণালয়ে যেসব আবেদন এসেছে, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রবাসীদের মরদেহ বিনা খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। বিদেশে কর্মরত একজন বাংলাদেশি মারা গেলে তার পরিবার যেন আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অসহায় হয়ে না পড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিদেশ থেকে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনার পর পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে যেখানে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজিং ব্যবস্থা ছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে আরও দুটি যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও সম্মানের সঙ্গে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার জন্য ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর কথা জানান মো: নুরুল হক।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, তাদের সম্পদের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং ও পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত করে আগামী মাসেই প্রবাসীদের কার্ড দেওয়া হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা ১১টি বিশেষ সেবায় অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এতে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সময় ও হয়রানি কমবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, এতে কিছুটা হলেও প্রবাসীদের মর্যাদা আগের চেয়ে সমুন্নত থাকবে। প্রবাসী কার্ডের সঙ্গে ডিজিটাল অ্যাপ যুক্ত থাকার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মাধ্যমে কোন প্রবাসী কোন দেশে অবস্থান করছেন এবং তিনি দূতাবাস বা মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো সেবার জন্য আবেদন করেছেন কি না, তা অনুসরণ করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, একজন প্রবাসী সেবা চাওয়ার পর সেটি পেয়েছেন কি না, তার একটি আপডেটও ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কোনো আবেদন দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর সেবা নিয়েও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের প্রতি সরকারের সমান দায়িত্ব রয়েছে। তার পেশা, আয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে প্রয়োজনের সময় তাকে সেবা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার প্রচলিত কূটনীতির পাশাপাশি ‘কালচারাল ডিপ্লোমেসি’ ও ‘লেবার মাইগ্রেশন ডিপ্লোমেসি’র ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতারণা বন্ধে ডিমান্ড লেটার বা কর্মী চাহিদাপত্র যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোন কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চাচ্ছে, সেই কোম্পানি বাস্তবে আছে কি না, সেখানে কর্মপরিবেশ কেমন এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী ধরনের সুযোগ রয়েছেÑএসব বিষয় সরেজমিন পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমবাজারের নামে কোনো ধরনের প্রতারণা বা সিন্ডিকেট যাতে প্রবাসী কর্মীদের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মো: নুরুল হক বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা, দূতাবাসের জবাবদিহিতা এবং প্রবাসীদের সম্পদের সুরক্ষার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান আরও বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আরও অগ্রগতি অর্জিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে। এ উদ্দেশ্যে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ব্যাংকটির একীভূতকরণ ও পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্বিন্যাস, মানবসম্পদ সমন্বয়, শাখা একীভূতকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রমের সমন্বয়ের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, খেলাপি ঋণ আদায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকটি ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ঋণ আদায়ে এক্সিট পলিসি ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)-সহ বিভিন্ন সমঝোতাভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ব্যাংকটির পূর্ববর্তী মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি এবং সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
গত ছয় মাসে ব্যাংকটির পুনর্গঠন ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং গত ১৬ জুলাই থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), সুইফট ও আরএমএ-সহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো একীভূত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে আমানতকারীরা যাতে পাঁচটি ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
শাখার অবস্থান, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্রাহকসেবা ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিটের একীভূতকরণ, যৌক্তিকীকরণ ও পরিচালন সমন্বয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন, ঋণ আদায়, মামলা নিষ্পত্তি, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শাখা ও বিজনেস ইউনিট একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিআরডি নিয়মিতভাবে এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও ফলোআপ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এসব সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ব্যাংকটির সুশাসন, পরিচালন দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, ঋণ আদায় ত্বরান্বিত হবে এবং পরিচালন ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির আটকে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে পুনঃপ্রবাহিত করা সম্ভব হবে।
৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধনসমৃদ্ধ রাষ্ট্র-মালিকানাধীন বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র সম্পদ ও আমানত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাকে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ২৩ আগস্ট মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা।
এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৩ আগস্ট মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা।
এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়া এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তারা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : কোর অব মিলিটারি পুলিশ বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০২৬ এবং রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম (আরভিএন্ডএফ) কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০২৬ আজ সাভারের কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার এন্ড স্কুল (সিএমপিসিএন্ডএস) এবং রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম (আরভিএন্ডএফ) ডিপোতে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান উভয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
কোর অব মিলিটারি পুলিশের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে সেনাবাহিনী প্রধান উপস্থিত অধিনায়কগণ ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোর অব মিলিটারি পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় এ কোরের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোর অব মিলিটারি পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং কোরের প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানান।
পরবর্তীতে, আরভিএন্ডএফ কোরের ৪র্থ বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে সেনাবাহিনী প্রধান উপস্থিত অধিনায়কগণ ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন।
এ সময় তিনি আরভিএন্ডএফ কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশের সেবায় এ কোরের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
সেনাবাহিনীর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ কোরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে তিনি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মতবিনিময় করেন এবং ফার্মসমূহের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানসমূহে মিলিটারি পুলিশের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও কমান্ড্যান্ট, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ; ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড; সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল; কর্নেল কমান্ড্যান্ট, আরভিএন্ডএফসি ও কমান্ড্যান্ট, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ; জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, সাভার এরিয়া; সেনাসদর ও সাভার এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট কোরসমূহের অধিনায়ক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ