০৫:৪৫ পি.এম
বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া সিলকিবান্ধা এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসের নিচে চাপা পড়ে ৭ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে এ দূর্ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার কথা জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া সিলকিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে কাজের জন্য অপেক্ষারত কৃষি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— তাজিমুল (৪৭), বেল্লাল হোসেন, আবু সাঈদ (৪৫), আনারুল (৫৫), আমিরুল (৪০), নূর আলম (৪৫) ও জমির মালিক নূর মোহাম্মদ (৭৬)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বামী আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন স্ত্রী রিনা বেগম। কখনো মরদেহটি জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন, আবার কখনো বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে?’ পাশেই থাকা স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তার বুকের শূন্যতা পূরণ করতে পারছিল না।
আবু সাঈদ ও আমিরুলের স্বজন সানাউল প্রধান বলেন, এদের দুইজনই দিনমজুর ছিলেন। সাঈদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। সংসারের সব দায়িত্ব ছিল তার ওপর। তিনি কাজের সন্ধানে বগুড়ায় এসেছিলেন, কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হলো না।
তিনি আরও বলেন, নিহত আমিরুলও ছিলেন ভূমিহীন। এক শতক জমির ওপর একটি ছোট্ট ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের মারা যাওয়াতে তাদের পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
নিহত নূর মোহাম্মদের ভাতিজা আল আমিন জানান, ফজরের নামাজ পড়ে চাচা কামলার হাটে গিয়েছিলেন কৃষি শ্রমিক নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কে জানতো, সেটাই হবে তার জীবনের শেষ পথচলা।
কৃষি শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ভোর ৫টার পর থেকেই এরুলিয়ার কামলার হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা জড়ো হন। কৃষিজমির মালিকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে থেকে শ্রমিক নিয়ে যান। নিহত ও আহতদের অনেকেই সেখানে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষে থাকতেন।
তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো আমারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি দেরি হয়ে যাই। পরে গিয়ে দেখি চারদিকে মানুষের ভিড়, রক্তাক্ত মানুষ এবং আর্তনাদ। তখন injuredদের উদ্ধারে অন্যদের সাথে আমিও এগিয়ে যাই।
আরেক শ্রমিক মোশাররফ হোসেন সরকার জানান, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শ্রমিকরা এই হাটে আসেন। বর্তমানে কৃষি কাজে একজন শ্রমিক দৈনিক প্রায় ৭০০ টাকা মজুরি পান। সেই সামান্য আয়ের ওপরই নির্ভর করে অসংখ্য পরিবারের জীবন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন