প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান ‘খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না’ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ বিষয়টি নিয়ে তার মতামত তুলে ধরেন। খবরটি রয়টার্সের।
ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা খুব শিগগির শেষ হবে। আমার মনে হয় না, তারা আর খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে।’ তিনি এ সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু অস্ত্রের মজুত–সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও কথা বলেন এবং এটি স্বীকার করেন।
গণমাধ্যম রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতাসম্পন্ন দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘কিছু নির্দিষ্ট ধরনের শক্তিশালী অস্ত্রের সীমাহীন মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে। তবে অন্য কিছু অস্ত্রের মজুত তুলনামূলকভাবে কম।’
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিপুল পরিমাণ’ অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো নতুন নতুন উৎপাদন কারখানা তৈরি করছে। উক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাও রয়েছে।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ করার যে দাবি ট্রাম্প শুরুতে করেছিলেন, সেখান থেকে সরে এসে চলমান কূটনৈতিক চেষ্টা ও হুমকি-পাল্টা হুমকির মুখে তিনি এখন চরম উভয় সংকটের মধ্যে রয়েছেন। ট্রাম্পের সামনে বর্তমানে বিকল্প মূলত দুটি।
একদিকে রয়েছে, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান। এই চুক্তির ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের যে কর্তৃত্ব ছিল না, তা তারা পেয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সামনে আরও একটি বিকল্প রয়েছে, যা হলো নতুন করে সামরিক হামলা জোরদার করার হুমকি বাস্তবায়নের সুযোগ, যা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি প্রথম পথটি বেছে নেন, তবে যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে ইরানের সবচেয়ে বড় জয়। এর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ন্ত্রণ করার আনুষ্ঠানিক অধিকার পেয়ে যাবে ইরান। অথচ এই প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব আটকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের সূচনা করেছিল।
দ্বিতীয় পথ হিসেবে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার বিষয়টি রয়েছে। ট্রাম্পের জন্য নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কারণ এর আগে যেসব বিমান হামলা ছিল, সেগুলোতে তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে হামলা চালিয়ে সফল হওয়ার কোন নিশ্চয়তাও নেই।
তিনি চাইলে চলমান এই অস্বস্তিকর অবস্থাটিকে বজায় রাখতে পারেন। এতে বোঝায়, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর থাকবে এবং কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে সময়ে সময়ে পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার যে পূর্বাভাস ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এই পথ অবলম্বন করলে সেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার কোন উপায় থাকবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন