০১:৫২ পি.এম
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়, রাজধানী ঢাকা ধানমন্ডির এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া (ফারহান ফাইয়াজ-১৭)। তিনি সাধারণ জনগণের কাছে ফারহান ফাইয়াজ নামে পরিচিত। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম কনিষ্ঠ শহীদ হিসেবে আজ তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
আন্দোলনে তার আত্মত্যাগের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে, রাজধানীর ধানমন্ডির পুরোনো ২৭ নম্বর সড়কের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সড়ক রাখা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই সড়কের নামফলক উন্মোচন করেছে। এছাড়া, জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্মিত শহীদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠ উদ্বোধন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে মাঠটি চালু করার পরিকল্পনা হয়েছে।
১৭ বছর বয়সী ফারহান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালে তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যদের লোকমouth অনুযায়ী, তিনি গবেষণামূলক কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে পরে দেশে ফিরে দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জানা গেছে, ১৮ জুলাই সকালে ফারহান বন্ধুরা সহ আন্দোলনে যোগ দিতে ধানমন্ডিতে গিয়েছিলেন। দুপুরের পরে, ধানমন্ডির পুরোনো ২৭ নম্বর সড়কের রাপা প্লাজা ও জেনেটিক প্লাজার মাঝামাঝি এলাকায় গুলি করার শিকার হন তিনি। সহপাঠীরা তাকে হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা করতে করতে পথেই তার মৃত্যু ঘটে।
ফারহানের মৃত্যুর পর তার পরিবার গভীর শোকে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার বাবা শহিদুল ইসলাম সে সময় মন্তব্য করেন, নিজেদের সুখের সংসারটি থমকে গেছে ছেলেকে হারিয়ে। তাঁর মা ফারহানা দিবা বলেন, তিনি হত্যার বিচার চান। বোন সায়ীমা ইসলামও ভাইকে হারিয়ে তার কষ্টের কথা প্রকাশ করে।
বন্ধুদের কাছে ফারহান ছিলেন প্রাণবন্ত, নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন এবং সকলের প্রিয় একজন মানুষ। সহপাঠীরা জানান, পড়াশোনা ছাড়াও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে পছন্দ করতেন, নতুন কিছু শিখতে চাইতেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতেন।
ফারহান ফাইয়াজের স্বপ্ন ছিল এমন একটি জীবন গড়া, যা মৃত্যুর পরও মানুষ মনে রাখবে। মৃত্যুর আগে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বায়োতে তিনি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আভিচির ‘দ্য নাইটস’ গানের একটি লাইন উল্লেখ করেছিলেন— "একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে, তাই এমন জীবন গড়ো, যা মানুষ মনে রাখবে।"
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তার আত্মত্যাগের পর অনেকেই বলেছেন, ফারহান যেন বাস্তবে সেই কথাই প্রমাণ করে গেছেন।
এদিকে, ফারহান ফাইয়াজ হত্যার ঘটনায়, তার বাবা শহিদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ আনা করেছেন। অভিযোগে তৎকালীন সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং পুলিশ কর্মকর্তার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফারহান ফাইয়াজের আত্মত্যাগ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, তার স্মৃতিতে নামকরণ করা সড়ক ও খেলার মাঠ নতুন প্রজন্মের কাছে তার অবদান সম্পর্কে সচেতন করবে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন