ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ


সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।

মন্ত্রী শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের অন্যতম পথিকৃৎ। তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেশের গণমাধ্যমের বিকাশ ও আধুনিক অনলাইন সাংবাদিকতার প্রসারে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তথ্যমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এর আগে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিনেসোটা: অভিবাসন অভিযান নিয়ে ৭ বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


মিনেসোটা: অভিবাসন অভিযান নিয়ে ৭ বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাত ফেডারেল বিচারকের বিরুদ্ধে বিচারিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে দেশটির বিচার বিভাগ। গত শীতের অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তাদের মন্তব্যের কারণে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারকেরা নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত শীতের ‘মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময় আদালতে চাপ এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মামলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বিচারকদের মধ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের প্রেসিডেন্ট দ্বারা মনোনীত বিচারকও রয়েছেন।

বিচার বিভাগের দাবি, চলমান বা আদালতের সামনে থাকা মামলাগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা এবং রাজনৈতিক বা নীতিগত বিষয়ে বিচারকদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিক বিধিনিষেধ রয়েছে। এই বক্তব্যগুলোর মাধ্যমে বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছে বিভাগটি।

মিনেসোটার ওই সাত বিচারককে অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে বিচারকদের বক্তব্যে পক্ষপাতিত্বের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর মতে, এর ফলে ওই বিচারকদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারক হিসেবে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগটি অষ্টম ফেডারেল আপিল আদালতের প্রধান বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা বিচারকদের মধ্যে প্যাট্রিক শিল্টজের বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তিনি গত জানুয়ারিতে অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০টি আদালতের আদেশ মানেনি।

একটি রায়ে শিল্টজ বলেছিলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, গত শীতে মিনেসোটার ফেডারেল আদালতে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। উল্লেখ্য, শিল্টজকে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।

তবে মিনেসোটা ফেডারেল আদালতের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আইন বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় বিচারকেরা তাদের ওপর প্রযোজ্য নৈতিক বিধির মধ্যে ছিলেন।

শিল্টজও নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার মন্তব্য কোনো নৈতিক বিধি লঙ্ঘন করেনি। তাঁর দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিচারিক আচরণবিধি–সংক্রান্ত একটি পরামর্শে বলা হয়েছে, বিচারকেরা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি ঠিক সেটিই করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেডারেল আদালতের সঙ্গে বিচার বিভাগের টানাপোড়েন এর আগেও দেখা গেছে। প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু পদক্ষেপ আদালত স্থগিত করেছে। আবার কিছু উচ্চপর্যায়ের ফৌজদারি মামলাও আদালতে বাধার মুখে পড়েছে।

মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিচারককে ‘প্রশাসনের নীতির পথে বাধা’ হিসেবে সমালোচনা করে আসছে। তবে সমালোচিত কিছু সিদ্ধান্ত আবার ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারকদের কাছ থেকেও এসেছে।

নতুন অভিযোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ও ফেডারেল বিচার বিভাগের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

সূত্র: দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরায় ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে ২৯ হাজার টাকার বিলের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


মাগুরায় ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে ২৯ হাজার টাকার বিলের অভিযোগ

মাগুরায় বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একটি মিটারে চার মাস ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার পর মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক বাবু মোল্যা অভিযোগ করেছেন, অন্য এক গ্রাহকের বকেয়া বিল তার বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

বাবু মোল্যা মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে থাকলেও চলতি মাসে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল এসেছে।

বাবু মোল্যা বলেন, "বিল দেখে আমি খুবই চিন্তিত ও অবাক হয়েছি। আমার বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অন্য একটি মিটারের বকেয়া টাকা যোগ করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।"

তিনি আরও জানান, মাগুরার পথেরহাট স্ট্যান্ডে তার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে হারুন নামের এক ব্যক্তিকে মিটার স্থাপনের জন্য ৯ হাজার টাকা দেন তিনি। পরে আলাউদ্দিন নামের এক গ্রাহকের পুরোনো একটি মিটার তার দোকানে স্থাপন করা হয়।

বাবু মোল্যার ভাষ্য, "ওই মিটার প্রায় সাত মাস চালানোর পর আগের গ্রাহকের নামে ২৬ হাজার টাকা বকেয়া দেখিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর থেকে প্রায় চার মাস ধরে দোকানের মিটারটি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিল এসেছে। একই সঙ্গে আগের গ্রাহকের বকেয়া বিল তার বাড়ির মিটারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাকে কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি।"

তবে মাগুরা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) এস এম শাহিন আহসান জানিয়েছেন, "ওই গ্রাহকের নামে অন্য একটি মিটারের বিল বকেয়া ছিল। এ বিষয়ে কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় বর্তমান মিটারের সঙ্গে পুরোনো বিল যোগ করা হয়েছে। এ কারণেই বিলের পরিমাণ বেড়েছে।"

এর আগে, মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক নারী গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি বিল দেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম), ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ (ডিজিএম) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বিলের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ ও বকেয়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক বছরে ৩৯৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


এক বছরে ৩৯৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে গেছে, যা তৈরি পোশাক খাতের পুনরুদ্ধারের প্রভাবে ঘটেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় যা ছিল, চলতি বছরের একই মাসে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও মাসভিত্তিক হিসেবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় কমেছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মাসভিত্তিক আয় কমলেও বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে, বলে জানিয়েছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তারা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এক বছরের ব্যবধানে শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১৩ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ, তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক হত্যার বর্ণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক হত্যার বর্ণনা

হংকংয়ের মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই হত্যার বিচার চলাকালে আদালতে নৃশংস হত্যার ভয়াবহ বিবরণ উঠে এসেছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যার পর অ্যাবির দেহকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।

পরে গাজর ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপের একটি বড় পাত্রে তার খুলি পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তার সাবেক স্বামীসহ তিনজন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে অ্যাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। ২৮ বছর বয়সী এই মডেল ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর হংকংয়ের তাই পো এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলায় অ্যাবির সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়ং, সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ এবং দেবর অ্যান্থনি কোয়ংকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে তারা তিনজনই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ তার দুই ছেলেকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর পেছনে মূল কারণ ছিল একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ।

হো ম্যান টিনের কাদোরিয়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার। ২০১৯ সালে অ্যাবি ৬ কোটি হংকং ডলারে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তার দুই সন্তান যেন তাদের বাবার পরিবারের দাদা-দাদির কাছে থাকতে পারে, সেই সুবিধার কথা বিবেচনা করেই তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক সম্পত্তির মালিকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি এড়াতে ফ্ল্যাটটি কোয়ং কাউয়ের নামে নিবন্ধন করা হয়েছিল। পরে অ্যাবি ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে চাইলে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।

আদালতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর অ্যাবির দেহ খণ্ডিত করা হয়েছিল। তাই পো এলাকার ভাড়া বাসাটি কার্যত অস্থায়ী কসাইখানার মতো ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

পুলিশ ওই বাসা থেকে মাংস কাটার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক করাত ও পোশাক উদ্ধার করে। অ্যাবির খুলি গাজর ও অন্যান্য সবজিসহ একটি বড় পাত্রে পাওয়া যায়। তার দুই পা উদ্ধার করা হয় বাসাটির একটি ফ্রিজ থেকে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রক্তের দাগ আড়াল করতে বাসার দেয়াল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। দেহ খণ্ডিত করার সময় রক্ত যাতে পোশাকে না লাগে, সে জন্য মুখের ঢাল ও রেইনকোটও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।

শুনানিতে অ্যাবির মায়ের কাছে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত অডিও বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে সাবেক শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি। কোয়ং কাউকে ‘প্রতারক’ এবং তার স্ত্রীকে ‘ভূত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবি মনে করতেন, কোয়ং কাউ তার সঙ্গে এবং তার দুই সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সাবেক শ্বশুরকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এরপর কোয়ং কাউকে তার বড় ছেলের সঙ্গে শুং ম্যান কোর্টের একটি এক শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটে থাকতে হয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাবির পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল। তার নতুন সঙ্গী ক্রিস টামের পরিবারও ধনী ছিল। বিপরীতে, কোয়ং পরিবার তুলনামূলকভাবে কম সচ্ছল ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, সম্পত্তি ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

অ্যাবি চোই একটি সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ১৮ বছর বয়সে অ্যালেক্স কোয়ংকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে দুই সন্তান ছিল। পরে বিচ্ছেদ হলেও সাবেক স্বামীর পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন অ্যাবি।

পরবর্তী সময়ে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তার আরও দুই সন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যাশন শো, ফটোশুট ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের একটি শোতে অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন এই মডেল।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, অ্যাবির দেহের কিছু অংশ হয়তো ফেলে দেওয়া হয়েছিল। দেহের সব অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও ধারণা প্রকাশ করেছিলেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অ্যাবি চোই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন অব্যাহত রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%