ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এক বছরে ৩৯৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়


এক বছরে ৩৯৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে গেছে, যা তৈরি পোশাক খাতের পুনরুদ্ধারের প্রভাবে ঘটেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় যা ছিল, চলতি বছরের একই মাসে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও মাসভিত্তিক হিসেবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় কমেছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

মাসভিত্তিক আয় কমলেও বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখনও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে, বলে জানিয়েছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তারা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এক বছরের ব্যবধানে শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১৩ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

অর্থাৎ, তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক হত্যার বর্ণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


গাজর-সবজির স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের খুলি, আদালতে রোমহর্ষক হত্যার বর্ণনা

হংকংয়ের মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই হত্যার বিচার চলাকালে আদালতে নৃশংস হত্যার ভয়াবহ বিবরণ উঠে এসেছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যার পর অ্যাবির দেহকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।

পরে গাজর ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপের একটি বড় পাত্রে তার খুলি পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত তার সাবেক স্বামীসহ তিনজন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে অ্যাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। ২৮ বছর বয়সী এই মডেল ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর হংকংয়ের তাই পো এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলায় অ্যাবির সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়ং, সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ এবং দেবর অ্যান্থনি কোয়ংকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার হংকংয়ের হাইকোর্টে তারা তিনজনই হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ তার দুই ছেলেকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর পেছনে মূল কারণ ছিল একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে বিরোধ।

হো ম্যান টিনের কাদোরিয়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার। ২০১৯ সালে অ্যাবি ৬ কোটি হংকং ডলারে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তার দুই সন্তান যেন তাদের বাবার পরিবারের দাদা-দাদির কাছে থাকতে পারে, সেই সুবিধার কথা বিবেচনা করেই তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক সম্পত্তির মালিকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি এড়াতে ফ্ল্যাটটি কোয়ং কাউয়ের নামে নিবন্ধন করা হয়েছিল। পরে অ্যাবি ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে চাইলে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে।

আদালতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর অ্যাবির দেহ খণ্ডিত করা হয়েছিল। তাই পো এলাকার ভাড়া বাসাটি কার্যত অস্থায়ী কসাইখানার মতো ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

পুলিশ ওই বাসা থেকে মাংস কাটার যন্ত্র, বৈদ্যুতিক করাত ও পোশাক উদ্ধার করে। অ্যাবির খুলি গাজর ও অন্যান্য সবজিসহ একটি বড় পাত্রে পাওয়া যায়। তার দুই পা উদ্ধার করা হয় বাসাটির একটি ফ্রিজ থেকে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, রক্তের দাগ আড়াল করতে বাসার দেয়াল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। দেহ খণ্ডিত করার সময় রক্ত যাতে পোশাকে না লাগে, সে জন্য মুখের ঢাল ও রেইনকোটও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতে জানানো হয়।

শুনানিতে অ্যাবির মায়ের কাছে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত অডিও বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে সাবেক শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি। কোয়ং কাউকে ‘প্রতারক’ এবং তার স্ত্রীকে ‘ভূত’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের দাবি, অ্যাবি মনে করতেন, কোয়ং কাউ তার সঙ্গে এবং তার দুই সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সাবেক শ্বশুরকে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এরপর কোয়ং কাউকে তার বড় ছেলের সঙ্গে শুং ম্যান কোর্টের একটি এক শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটে থাকতে হয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাবির পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিল। তার নতুন সঙ্গী ক্রিস টামের পরিবারও ধনী ছিল। বিপরীতে, কোয়ং পরিবার তুলনামূলকভাবে কম সচ্ছল ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, সম্পত্তি ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।

অ্যাবি চোই একটি সচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ১৮ বছর বয়সে অ্যালেক্স কোয়ংকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের সংসারে দুই সন্তান ছিল। পরে বিচ্ছেদ হলেও সাবেক স্বামীর পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন অ্যাবি।

পরবর্তী সময়ে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে তার আরও দুই সন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যাশন শো, ফটোশুট ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের একটি শোতে অংশ নেওয়ার ছবি প্রকাশ করেছিলেন এই মডেল।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, অ্যাবির দেহের কিছু অংশ হয়তো ফেলে দেওয়া হয়েছিল। দেহের সব অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও ধারণা প্রকাশ করেছিলেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অ্যাবি চোই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও আট সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন অব্যাহত রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের কপালে ব্রোঞ্জও জুটল না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের কপালে ব্রোঞ্জও জুটল না

এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়াইয়ে বাংলাদেশ হতাশার মুখোমুখি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়ে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দলটি পদক ছাড়াই তাদের অভিযান শেষ করেছে।

বাংলাদেশ ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে মাঠে নেমে মাত্র ৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানেই গুটিয়ে যায় দলের ইনিংস।

শনিবার নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের ইনিংস ১০২ রানে থেমে যায়।

লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারের শেষ বলে নুয়ান থুশারার শিকার হন সাইফ হাসান। তিনি ৬ বল খেললেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। পরের ওভারে থারিন্দু রাত্নায়েকের বলে শূন্য রানে ফেরেন তানজিদ হাসান। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে অধিনায়ক লিটন দাসও থুশারার বলে বোল্ড হয়ে যান। তিনিও কোনো রান করতে পারেননি।

বাংলাদেশ মাত্র ৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে। তাওহিদ হৃদয় ৬ বলে ১১ রান করে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর দলটি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

পারভেজ হোসেন ইমন ও ইয়াসির আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ইমন ২৬ বলে ২২ এবং ইয়াসির ১৬ বলে ২১ রান করেন। তবে ৫০ রানে পরপর দুই বলে ইমন ও মেহেদী হাসানের বিদায়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

রিশাদ হোসেন ৫ বলে ১০ রান করে সাময়িক ঝলক দেখালেও দলের হাল ধরতে পারেননি। শেষদিকে নাসুম আহমেদ ২৮ বলে ২৬ রান করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। আলিস আল ইসলাম ৪ রান করেন এবং মোস্তাফিজুর রহমান ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

শ্রীলঙ্কার হয়ে নুয়ান থুশারা, থারিন্দু রাত্নায়েকে, বিজয়কান্ত ভিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট নেন।

এর আগে বল হাতে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ২১ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কার ৪ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। তবে পঞ্চম উইকেটের পর ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগে ও থারিন্দু রাত্নায়েকে।

ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। রাত্নায়েকে মাত্র ৩২ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। আরাচ্চিগে ৩৭ বলে ৩৩ রান করেন।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান ১৯ রান দিয়ে এবং সাইফ হাসান দুটি উইকেট নেন। মোস্তাফিজুর রহমান দুটি উইকেট পেলেও ৩ ওভারে খরচ করেন ৪৩ রান। অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।

এ ছাড়া অতিরিক্ত থেকে ২২ রান দেওয়াও বাংলাদেশের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর মধ্যে ১৭টিই ছিল ওয়াইড।

বোলারদের দারুণ শুরুর পরও শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশের টপ অর্ডারের চরম ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত জয় অধরাই থেকে যায়। ফলে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকও জেতা হলো না বাংলাদেশের।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এপস্টেইনের মৃত্যুর নতুন রহস্য, আসছে ফরেনসিক বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


এপস্টেইনের মৃত্যুর নতুন রহস্য, আসছে ফরেনসিক বিশ্লেষণ

জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল কি না, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। এক ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ জানিয়েছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা এবং হত্যাকাণ্ড—দুই সম্ভাবনাই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এপস্টেইনের ভাই মার্ক এপস্টেইন শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ মাইকেল ফ্রিম্যান তার ভাইয়ের ময়নাতদন্তের নথি বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। তিনি আগামী ১৬ নভেম্বর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে এ বিষয়ে তার গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করবেন। এর পরেই গবেষণা ও নিউইয়র্ক নগরীর প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষকের ময়নাতদন্তের নথি প্রকাশ করা হবে।

মার্ক এপস্টেইন বলেন, ফ্রিম্যানের বিশ্লেষণ তার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, তার ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়ে আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজন ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুসনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, সেটি নতুন করে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার দাবি, যদি এ ধরনের বিশ্লেষণ আগে করা হতো, তাহলে হয়তো মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্ত করা হতো না।

মার্ক আরও জানান, প্রতিবেদনটি তার অনুরোধে করা হয়নি। গবেষকরা নিজেদের উদ্যোগে এই কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

ফ্রিম্যানের পর্যালোচনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্তে কিছু বিষয়কে অস্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৃত্যুর ঘটনাস্থলে এপস্টেইনের মরদেহের কোনো ছবি না থাকা এবং যে কাপড় বা ফাঁসের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি সংরক্ষণ বা পরীক্ষা না করা।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের ক্ষেত্রে বিছানার চাদর ব্যবহার করে ফাঁস দেওয়া হয়েছিল। ফ্রিম্যান ফাঁসের দাগের ধরন নিয়ে শারীরিক গতিবিদ্যার বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি এমন কিছু ছবিও পর্যালোচনা করেছেন, যেগুলোতে চিকিৎসা পরীক্ষকের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা না করা কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে ফ্রিম্যান এখনই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, এপস্টেইনের মৃত্যু হয় আত্মহত্যা, নয়তো হত্যাকাণ্ড—দুটি সম্ভাবনার একটিই সত্য হতে পারে। তার আসন্ন বক্তব্যে দুই সম্ভাবনার পক্ষে থাকা প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

ফ্রিম্যান ফরেনসিক চিকিৎসাবিদ্যার একজন অধ্যাপক এবং একটি আন্তর্জাতিক ফরেনসিক ও আইনবিষয়ক চিকিৎসা সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রেও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। এর আগে তিনি মেরিল্যান্ডের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়ের নিরীক্ষা নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন।

২০১৯ সালে যৌন অপরাধের অভিযোগে কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মৃত্যু ঘটে। তখন তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে ফেডারেল মামলা চলছিল। নিউইয়র্কের চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় তার মৃত্যুকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করে।

তবে তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক বিদ্যমান। সম্প্রতি এপস্টেইনকে ঘিরে নথি প্রকাশের আইন কার্যকর হওয়ার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালে পাস হওয়া ওই আইনের আওতায় এপস্টেইন ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিপুলসংখ্যক তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে মে মাসে একজন ফেডারেল বিচারক এপস্টেইনের মৃত্যুর এক মাসেরও কম সময় আগে লেখা একটি সম্ভাব্য আত্মহত্যার চিঠি প্রকাশের নির্দেশ দেন। ২০২১ সালে একটি হত্যা মামলার অংশ হিসেবে চিঠিটি আদালতে জমা দিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল।

এপস্টেইনের সাবেক কারাবন্দি নিকোলাস টারটাগ্লিওনি দাবি করেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর পরদিন সকালে একটি বইয়ের ভেতর তিনি ওই চিঠিটি পান এবং পরে তাঁর আইনজীবীদের কাছে দেন।

হাতে লেখা ওই চিঠিতে দেখা যায়, এপস্টেইন লিখেছিলেন—তাকে এক মাস ধরে তদন্ত করেও কিছু পাওয়া যায়নি এবং ১৫ বছর আগের অভিযোগের কারণে বিষয়টি সামনে এসেছে। চিঠিতে ‘বিদায় বলার সময়’ এবং ‘কোনো আনন্দ নেই—মূল্য নেই’—এ ধরনের কথাও লেখা ছিল।

এপস্টেইনের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন ফরেনসিক বিশ্লেষণ সামনে আসার পর সেই পুরোনো প্রশ্নগুলো আবার আলোচনায় এসেছে।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রুনাইয়ে সরকারিভাবে ১৪৮ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


ব্রুনাইয়ে সরকারিভাবে ১৪৮ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে সরকারিভাবে ব্রুনাইয়ে ১৪৮ জন পুরুষ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।

চাকরির বিবরণ

কোম্পানির নাম: Unity Land Sdn Bhd

পদের নাম ও পদসংখ্যা

১. কাঠমিস্ত্রি–২০

২. নির্মাণশ্রমিক–৭০

৩. রাজমিস্ত্রি–২০

৪. ইলেকট্রিশিয়ান–৫

৫. ট্রাক ড্রাইভার–২

৬. ভারী যানবাহন চালক–২

৭. অপারেটর–৪

৮. প্লাম্বার–১০

৯. ওয়েল্ডার–১৫

বেতন/মজুরি (ব্রুনেই ডলার)

১ থেকে ৩ নম্বর পদে ২০ ডলার (২,৪৫৮.৮৫ টাকা) বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪ থেকে ৯ নম্বর পদে ২২ ডলার (২,৭০৪.৭২ টাকা) বেতন দেওয়া হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬।

বয়স

আবেদনকারীদের বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

অন্যান্য সুবিধা

কোম্পানি কর্মীদের থাকার খরচ বহন করবে, এবং বিমান ভাড়া নিয়োগকর্তা প্রদান করবে।

অভিজ্ঞতা

আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম ২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

আবেদন করতে হবে brms.boesl.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। আবেদন ফি ১০০ টাকা।

নিয়োগকর্তা কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা উত্তীর্ণ হলে বোয়েসেলের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ দক্ষ কর্মীদের ৫৬,৩৫০ টাকা জমা দিতে হবে। আধা-দক্ষ/অদক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৪৪,৮৫০ টাকা জমা দিতে হবে।

দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত ভিসা ফি এবং বাংলাদেশের মেডিক্যাল টেস্টের ফি কর্মীদের বহন করতে হবে।

শর্তাবলী

১. শ্রম চুক্তির মেয়াদ হবে দুই বছর এবং এটি নবায়নযোগ্য।

২. কর্মঘণ্টা হবে দৈনিক ৮ ঘণ্টা ডিউটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%