প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাগুরায় বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একটি মিটারে চার মাস ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার পর মাত্র ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক বাবু মোল্যা অভিযোগ করেছেন, অন্য এক গ্রাহকের বকেয়া বিল তার বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
বাবু মোল্যা মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সংকোচখালি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে থাকলেও চলতি মাসে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ২৯ হাজার ১৩৮ টাকার বিল এসেছে।
বাবু মোল্যা বলেন, "বিল দেখে আমি খুবই চিন্তিত ও অবাক হয়েছি। আমার বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অন্য একটি মিটারের বকেয়া টাকা যোগ করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।"
তিনি আরও জানান, মাগুরার পথেরহাট স্ট্যান্ডে তার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে হারুন নামের এক ব্যক্তিকে মিটার স্থাপনের জন্য ৯ হাজার টাকা দেন তিনি। পরে আলাউদ্দিন নামের এক গ্রাহকের পুরোনো একটি মিটার তার দোকানে স্থাপন করা হয়।
বাবু মোল্যার ভাষ্য, "ওই মিটার প্রায় সাত মাস চালানোর পর আগের গ্রাহকের নামে ২৬ হাজার টাকা বকেয়া দেখিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর থেকে প্রায় চার মাস ধরে দোকানের মিটারটি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিল এসেছে। একই সঙ্গে আগের গ্রাহকের বকেয়া বিল তার বাড়ির মিটারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাকে কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি।"
তবে মাগুরা জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) এস এম শাহিন আহসান জানিয়েছেন, "ওই গ্রাহকের নামে অন্য একটি মিটারের বিল বকেয়া ছিল। এ বিষয়ে কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় বর্তমান মিটারের সঙ্গে পুরোনো বিল যোগ করা হয়েছে। এ কারণেই বিলের পরিমাণ বেড়েছে।"
এর আগে, মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক নারী গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি বিল দেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম), ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ (ডিজিএম) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বিলের অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ ও বকেয়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন