০৬:১৮ পি.এম
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এক গৃহবধূ ও তার দুই শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ঘরের দেয়ালে হাতে লেখা কিছু আবেগঘন ও স্পর্শকাতর বার্তা পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, মোস্তফাপুর গ্রামের মাহাতাব হোসেনের ছেলে শাকিলের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার (২৩), তার চার বছর বয়সী ছেলে সাফায়েত হোসেন এবং এক বছর বয়সী মেয়ে রাইসা আক্তার।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহের কারণে রোববার বিকেলে স্বর্ণা নিজ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর নিজে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
তবে নিহতের স্বজনরা এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, স্বর্ণা ও তার দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, নিহতের শোয়ার ঘরের দেয়ালে হাতে লেখা কয়েকটি বার্তা পাওয়া গেছে। একটি দেয়ালে লেখা ছিল, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ। আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দিয়েন না। আমি অভাগি মা নিজে মারছি। আমাদের লাশ পলাশবাড়ি মাটি দেন। সাকিল যেন না ছোঁয়। মা-বাবা সরি, আই লাভ ইউ।’
অন্য একটি দেয়ালে লেখা ছিল, ‘সাফায়াত রাইসা-মনি, আই লাভ ইউ কলিজা পাখিরা আমার।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ঘটনার পর পুলিশ নিহত স্বর্ণার স্বামী শাকিল, শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন এবং শাশুড়ি ইসমত আরাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঝুলন্ত মরদেহ নিচে নামিয়ে মাটিতে শোয়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন