০৯:০০ এম
ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটের (ন্যাটো) গুরুত্বপূর্ণ একটি সদস্য রাষ্ট্র তুরস্ক। তবে বরাবরই দেশটিকে জোটের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। আঙ্কারার নিজস্ব কিছু স্বাধীন নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে দেশটির দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই তুরস্কই এখন ন্যাটো জোটে ক্ষমতাধর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
বছরের পর বছর ন্যাটোর গলার কাঁটা হিসেবে সমালোচনায় থাকা তুরস্ক এবার নিজেকে তুলে ধরেছে জোটের অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে। আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনকে শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই সীমাবদ্ধ রাখেননি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। বরং এটিকে তিনি পরিণত করেন কূটনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পসহ ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশের নেতারা। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তুরস্কের ভূমিকাই।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই আঙ্কারায় যান ট্রাম্প। এরদোয়ান আয়োজক না হলে এই সম্মেলনে হয়তো তিনি আসতেন না বলে প্রকাশ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানান এরদোয়ান। দুই নেতার উষ্ণ সম্পর্ক পুরো সম্মেলনজুড়েই ছিল আলোচনায়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পকে ন্যাটো সম্মেলনে ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তুরস্ক।
সম্মেলনের ফাঁকেই ঘটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা। সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। পরে সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত দেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে দামেস্ক ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে তুরস্ক যে ভূমিকা রেখে আসছে, এই বৈঠক সেই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাতেও বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০২০ সালে তুরস্কের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে তুরস্কের ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। যদিও এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা, সিরিয়া প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প সব মিলিয়ে তুরস্ক এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের কাছেই আঙ্কারা অপরিহার্য অংশীদার। বিশ্লেষকরা বলছেন, সমালোচনা থাকলেও, তুরস্ককে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সবচেয়ে বড় বার্তাও ছিল সেটিই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন