বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৫৯ পি.এম
সংসদ ভবন, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : সরকারি ছুটির দিন এবং ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর বাদে প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।
আজ বৃহস্পতিবার, জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে।
বৈঠকে স্পিকারকে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবসের বিষয়ে প্রয়োজন হলে যেকোনো পরিবর্তন আনার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
অধিবেশনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী জন্য ১৪২টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ২ হাজার ৬৭৬টি, মোট ২ হাজার ৮১৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ৮১টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী ২৪৯টি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের নোটিশও পাওয়া গেছে।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সময় বরাদ্দ এবং অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আগামী এক বছরে সম্ভাব্য অধিবেশনগুলোর দিন ও সম্ভাব্য সময়কাল নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিরোধীদলের উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকারের বিশেষ আমন্ত্রণে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া বৈঠকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশের জনবল বৃদ্ধির জন্য নতুন ৪ হাজার এসআই, ৪ হাজার সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশের জনবল বৃদ্ধি সংক্রান্ত বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা হলো— নতুন ৪ হাজার এসআই (নিরস্ত্র), ৪ হাজার সার্জেন্ট এবং ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃজন করা।
আজ সংসদে রংপুর-৬ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. নুরুল আমীনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, এই পদসমূহ সৃজিত হলে রংপুর জেলাতেও জনবল বৃদ্ধি পাবে।
তিনি জানান, পুলিশের যানবাহন প্রদান সংক্রান্ত বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা নিম্নরূপ: আগামী ৫ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন ও জলযানের ঘাটতি রাজস্ব বাজেটের মাধ্যমে ক্রয়পূর্বক পূরণ করা।
যানবাহনের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে যানবাহনের ঘাটতি পূরণ করা হবে।
নবসৃষ্ট ইউনিট, জনবল এবং কাজের পরিধি বিবেচনায় টিওএন্ডইতে যানবাহন ও জলযানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
পর্যায়ক্রমে মাঠ পর্যায়ের ইউনিটসমূহে প্রয়োজনীয় যানবাহন সরবরাহ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ অভিযানে ১৪ শ’ পিস ইয়াবাসহ মোছাম্মত রুমি (২৪) নামের এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
আটক হওয়া মোছাম্মত রুমি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কালাবাইজাবুনিয়া লিচুবাগান গ্রামের সেগুনবাগান এলাকার বাসিন্দা, যিনি মৃত মো. কবির হোসেনের স্ত্রী।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা মো. সালমান বিন শওকত গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬ টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন কর্তৃক ভোলার সদর থানাধীন ইলিশা লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় গতকাল বুধবার সকাল ৮ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ওই এলাকা থেকে ৭ লাখ টাকা মূল্যের ১৪ শ’ পিস ইয়াবাসহ একজন নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত ইয়াবা এবং আটককৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সিইসি এসব মন্তব্য করেন।
এর আগে, তিন নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। একজন কমিশনার বিদেশে থাকায় এ সাক্ষাতে যোগ দিতে পারেননি।
প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট স্থায়ী এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সিইসি। তিনি বলেন, অভিনন্দনের জবাবে রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও দেশে-বিদেশে প্রশংসিত একটি নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন এবং এ জন্য কমিশনকে অভিনন্দন জানান।
সিইসি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছি, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সমান পেশাদারিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে চাই। রাষ্ট্রপতি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেন, "আপনারা যেভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চান, আমিও তা চাই।" তিনি বলেন, "নিরপেক্ষতা ও স্বাধীন সত্তা বজায় রাখতে আমার পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা থাকবে।"
নাসির উদ্দিন বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদের জানান-তিনি দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও একই বিষয়ে আগ্রহী।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসির সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, "আমাদের দিক থেকে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।" আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত নথি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে ফেরত এসেছে, এখন শুধু সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়াল তৈরির কাজ বাকি। তিনি বলেন, "আমরা সচিবালয়কে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে বলেছি।" সবুজ সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কমিশন নির্বাচনী কাজে নেমে পড়বে।
তফসিল ও ভোটের সময়সূচি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি বলেন, "দুটি নির্বাচনের সময় যাতে পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করেই এগোতে হচ্ছে।" আশা করছেন সেপ্টেম্বরের মধ্যেই একটি তফসিল দিতে সক্ষম হবেন। তবে নির্বাচন শেষ হতে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
এদিকে, বন্যা, দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে রমজান শুরু হয়ে তার পর ঈদুল আজহা, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুম চলে আসায় হাতে থাকা উপযোগী সময় খুবই সীমিত বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, শীতকালে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হওয়ায় এবং সে সময় স্কুলভবন ও শিক্ষকদের ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "পরীক্ষা দ্রুত শেষ হলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ভোট শুরুর চেষ্টা করা হবে।"
কোন এলাকা অগ্রাধিকার পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আইন অনুযায়ী আগেই শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে প্রথমে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি জানান, আগে ছয়টি ধাপে এবং আরও কিছু বিবিধ আসনে মিলিয়ে মোট সাতটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও যেসব ইউনিয়নে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আগে চিহ্নিত করা হবে। এছাড়া, এসব নির্বাচন যেন খারাপ মৌসুমে না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের শুষ্ক মৌসুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
দেশে ও প্রবাসে থাকা ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের সুযোগ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাই সীমিত পরিসরে সেখানে পোস্টাল ব্যালট চালু করা হবে, যা প্রবাসী ভোটারদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতি যাতে ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা যায়, সেজন্য পরামর্শকদের মাধ্যমে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং একটি ম্যানুয়ালও তৈরি করা হচ্ছে। এতে বর্তমান কমিশন দায়িত্বে না থাকলেও ভবিষ্যতে অন্য কমিশন এই ব্যবস্থা চালিয়ে নিতে পারবে।
সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বিরোধ নিরসনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি এসেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এখন পর্যন্ত চিঠি পাননি তারা; পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি কমিশনের ওপর কিছু চাপিয়ে দেননি। তিনি শুধু প্রস্তুতি কেমন চলছে তা জানতে চেয়েছেন এবং কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে, পেশাদারভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে শিগগিরই সমন্বয় সভা শুরু করবেন এবং সংস্থাগুলোকে অ্যালার্ট করা হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীকে 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় সহায়তার জন্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অর্থনীতির ‘কনজিউমার সুভারেনটি’ বা ক্রেতার সার্বভৌমত্ব ধারণার উদাহরণ টেনে এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে ‘ভোটার সুভারেনটি’ বা ভোটার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অর্থাৎ ভোটারদের ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনে আমরা যে মান বজায় রেখেছিলাম, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড, ক্রেডিবিলিটি ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : দীর্ঘ এক যুগ পর ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সময়ে আদালত মামলার বাকি ৯ আসামির জন্য বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করেছেন।
এছাড়া, ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, এবং অনাদায়ে তাদেরকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
২০১৪ সালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় সংঘটিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার প্রায় এক যুগ পর আজ এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় দেন।
রায়ে ১১ আসামির মধ্যে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন ওয়েজখালীর গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া এবং সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া।
অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে সাত বছরের এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া।
রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি শেরেনুর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মামলার রায়ের বিবরণে জানা গেছে, স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। ঘটনার আগের দিন ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষী ফয়জুর রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, যা পরবর্তীতে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
পরদিন ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
এ সময় ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তার মৃত্যুর পর একই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ মামলার চার্জশিট দেওয়ার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলায় আসামি জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিনকে অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন।
এছাড়া শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা অবসান করে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. সালেহ আহমদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ