প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সুনামগঞ্জ, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : দীর্ঘ এক যুগ পর ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সময়ে আদালত মামলার বাকি ৯ আসামির জন্য বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করেছেন।
এছাড়া, ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, এবং অনাদায়ে তাদেরকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
২০১৪ সালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় সংঘটিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার প্রায় এক যুগ পর আজ এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় দেন।
রায়ে ১১ আসামির মধ্যে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন ওয়েজখালীর গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া এবং সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া।
অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে সাত বছরের এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া।
রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি শেরেনুর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মামলার রায়ের বিবরণে জানা গেছে, স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। ঘটনার আগের দিন ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষী ফয়জুর রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, যা পরবর্তীতে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
পরদিন ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
এ সময় ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তার মৃত্যুর পর একই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ মামলার চার্জশিট দেওয়ার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলায় আসামি জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিনকে অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন।
এছাড়া শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা অবসান করে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. সালেহ আহমদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন