শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৯ পি.এম
ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) বোম্বের একটি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়াই ক্যাম্পাসের আবাসিক কক্ষ থেকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, গত ছয় মাসে এই ক্যাম্পাসে এটি তৃতীয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা।
মৃত শিক্ষার্থীর নাম সাহিল ওয়াকোড়ে। তিনি এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আইআইটি বোম্বে কর্তৃপক্ষ জানায়, সাহিল একটি পরীক্ষার সময় উত্তর খুঁজতে প্রশ্নপত্রের ছবি চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করেছিলেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে তিনি ধরা পড়েন। তবে, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিভাগের প্রধান সাহিলের সঙ্গে কথা বলেন। তাকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি আশ্বস্ত করা হয় যে, এ ঘটনার কারণে তার শিক্ষাজীবনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। আলোচনা শেষে সাহিল নিজ কক্ষে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যায় সেখান থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সাহিলের মৃত্যুতে আইআইটি বোম্বে শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, তার বন্ধু, সহপাঠী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, সাহিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসন পুরো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত হলে তাকে আবাসিক হল ছাড়তে হতো এবং ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হতো। তাদের আরও দাবি, এতে চার বছরের প্রকৌশল কোর্স দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে এসব দাবি আইআইটি বোম্বের প্রকাশিত বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শাস্তির আশঙ্কা ও মানসিক চাপ সাহিলের মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তারা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার দাবি জানান।
বিক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দত্তাত্রেয় নালাওয়াড়ে জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক শাস্তিমূলক কোনো সিদ্ধান্ত সাহিলের মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
৩৪ দিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে চতুর্থবারের মতো দানের টাকা গণনা করা হবে। এর আগে সর্বশেষ ১৫ আগস্ট দানের ডেগ ও দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়েছিল।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকাল থেকে ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে দানবাক্সের টাকা গণনা অনুষ্ঠিত হবে। এই কমিটি মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত হয়েছে। গণনা শেষে, দানের টাকাগুলি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নির্ধারিত হিসাব নম্বরে জমা রাখা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনকালে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ ঘোষণা করেন। এর ধারাবাহিকতায়, ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
পরবর্তীতে, ২২ জুন প্রায় সাতশ বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে ঐতিহাসিক দানের ডেগ ও দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। ওইদিন মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। সাথে কিছু স্বর্ণও পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, যা সোনালী ব্যাংকের একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি, আধুনিক ও স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২৬ জুন ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতাওয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। জেলা প্রশাসক এ কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শেষ হতে যাচ্ছে। হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা আবশ্যক। তবে কিছু শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা আগামী বছরের হজে অংশগ্রহণের অনুমতি পাবেন না।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের পর হজের প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। নিবন্ধনের পর বাংলাদেশ থেকে কতজন মানুষ হজ পালনে আগ্রহী, সেই চূড়ান্ত সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে প্রকাশিত এক সার্কুলারে হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া হজের প্রাথমিক নিবন্ধন ২৪ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত হবে এবং এর সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২৭ জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে, ২০২৭ সালের হজ পালনের ক্ষেত্রে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্রোগ, ফুসফুস, লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজে যেতে পারবেন না। একইভাবে স্নায়বিক রোগ, গুরুতর মানসিক অসুস্থতা এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন ক্যানসার রোগীদের জন্যও হজে যাওয়ার অনুমতি থাকবে না। জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজে যেতে পারবেন না, যার মধ্যে যক্ষ্মা (টিবি) ও হেমোরেজিক ফিভারের মতো রোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা নারী এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীদেরও হজের জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে না। ফলে, তারাও ২০২৭ সালের হজে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন না।
হজের প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ ও টিকাদানের জন্য একটি জেলা নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি, হজের ধরন ও প্যাকেজও নির্বাচন করতে হবে।
এছাড়া, হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে হজে যেতে ইচ্ছুক মানুষের চূড়ান্ত সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা একসময় দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আকৃষ্ট করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই চিত্র পরিবর্তিত হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিকীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা, আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সময়ের অস্থিরতা বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হ্রাসের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে রাবিতে স্নাতক পর্যায়ে তিনজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন একজন। এরপর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। তবে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে আটজন এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে নয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। কিন্তু পরবর্তী শিক্ষাবর্ষেই আবার এ সংখ্যা কমে আসে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।
বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে রাবিতে ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। তাদের মধ্যে জিওলজি অ্যান্ড মাইনিং বিভাগে দুজন, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে তিনজন এবং কেমিস্ট্রি বিভাগে একজন রয়েছেন।
এছাড়া এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়েও ছয়জন বিদেশি শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন। তাদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগে এমফিল পর্যায়ে সোমালিয়ার একজন, ফোকলোর বিভাগে ভারতের দুজন, ইতিহাস বিভাগে ভারতের একজন এবং আরবি বিভাগে ভারতের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। পাশাপাশি ফোকলোর বিভাগে পিএইচডি পর্যায়ে ভারতের আরও একজন শিক্ষার্থী গবেষণা করছেন।
বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে ভর্তি প্রক্রিয়া ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিকে দায়ী করেছেন নেপালের শিক্ষার্থী সুমিত। তিনি আরটিভিকে বলেন, "বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ রয়েছে, সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। ফলে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে ভর্তি হওয়ার পরও অনেকে চলে যান।"
ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, "এম্বাসির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া ও ভর্তির সুযোগ থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়তে পারে।" পাশাপাশি ভিসা জটিলতার কারণেও অনেকে রাবিতে আসতে আগ্রহী হন না।
বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশিদ আলম আরটিভিকে বলেন, "আগে রাবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু মাঝের সময়ের বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তাদের সংখ্যা কমেছে। বিশেষ করে আন্দোলনসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী হয়তো এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয়নি কিংবা ভর্তিপ্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসেনি।"
তিনি আরও বলেন, "বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবারও রাবির প্রতি আকৃষ্ট করতে একাডেমিক প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ আরটিভিকে বলেন, "বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে তাদের সার্টিফিকেট ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র সব সময় স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। সংশ্লিষ্ট দেশের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাগজপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ করে যথাযথভাবে আনা হলে বিষয়টি যাচাই করা সহজ হয়।"
তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক আলাদা ক্রাইটেরিয়া ও গাইডলাইন রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী সেই শর্ত পূরণ করলে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাকে গ্রহণ করলে ভর্তি করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী শরিয়তে পবিত্রতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুসলমানদের জন্য বিভিন্ন কারণে ফরজ গোসল আবশ্যক হতে পারে। তবে অনেকেই গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বাদ দিয়ে ফেলেন।
ফরজ গোসলের সময় নাকের ভেতরে পানি পৌঁছানো নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার। সম্প্রতি তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক আলোচনায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মুফতি রেজাউল করীম আবরারের বক্তব্য অনুযায়ী, ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই শাওয়ারের নিচে গোসল করেন কিংবা পুকুরে নেমে সরাসরি গোসল করেন। এ সময় নাকের ভেতরে পানি যথাযথভাবে পৌঁছেছে কি না, তা অনেকেরই খেয়াল থাকে না।
আঙুল দিয়ে নাক মাসাহ করলেই কি গোসল হবে?
মুফতি আবরার বলেন, সমাজে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো আঙুল ভিজিয়ে নাকের নরম অংশে মাসাহ করলেই নাক ধোয়া হয়ে যায়। তবে শুধু এভাবে মাসাহ করলে ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পানি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় না।
নাক ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি কী?
তিনি বলেন, নাক ধোয়ার ক্ষেত্রে হাতে পানি নিয়ে তা শ্বাসের মাধ্যমে নাকের ভেতরে পৌঁছাতে হবে। এরপর নাকের ভেতরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে কোনো অংশ শুকনো না থাকে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, পানি দিয়ে নাক ধোয়ার সময় ডান হাত দিয়ে পানি নেওয়া এবং বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করা যেতে পারে। তিনি এভাবে তিনবার নাক ধোয়ার কথা উল্লেখ করেন।
গোসল সঠিক না হলে কী হবে?
ফরজ গোসলের কোনো আবশ্যকীয় অংশ বাদ পড়ে গেলে পবিত্রতা অর্জন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে শরিয়তি বিধান প্রযোজ্য হয়। তাই গোসলের নিয়ম সঠিকভাবে জানা এবং তা যথাযথভাবে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ।
মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, অপবিত্র অবস্থায় নামাজ আদায় করা শরিয়তসম্মত নয়। তাই ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে অবহেলা না করে এর সঠিক নিয়ম জেনে সতর্কতার সঙ্গে গোসল করা উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ