মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১০ পি.এম
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণ নিয়ে বিতর্ক চলছে, যা সড়ক প্রশস্তকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের আওতায় হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা , তুরস্কের বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইহলাস নিউজ এজেন্সি (আইএইচএলএএস) -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মসজিদের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করার প্রতিবাদে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে মুসলিম বাসিন্দারা সেখানে অবস্থান নেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসন ওই অংশ অপসারণের কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন, যার ফলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংঘর্ষের ঘটনায় সাতটি মামলা করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিপুলসংখ্যক পুলিশ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। উজ্জয়িনী প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো শাহী মসজিদ ভাঙা হচ্ছে না। সড়ক প্রশস্তকরণের নির্ধারিত অংশের মধ্যে পড়া মসজিদের একটি ছোট অংশ অপসারণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক রোশন সিং জানিয়েছেন, ওই অংশটি মসজিদ কমিটির সম্মতিতে সরানো হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, মসজিদের যে অংশটি প্রকল্পের আওতায় পড়েছে, তা মোট মসজিদ চত্বরের ১০ শতাংশেরও কম। মসজিদ কমিটি প্রথমে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ওই অংশ সরাতে সম্মত হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো মসজিদ ভেঙে ফেলার দাবি ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বাড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কেন মসজিদের অংশ সরানো হচ্ছে
উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের অংশ অপসারণের কাজটি একটি বড় সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ। ২০২৮ সালের সিংহস্থ ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে শহরের সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি ১৫ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সিংহস্থ উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ উজ্জয়িনীতে আসবেন। তাদের চলাচল, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও মসজিদের অংশ অপসারণের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করার সময় জননিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।
৬০০ বছরের পুরোনো মসজিদ নিয়ে আপত্তি
মুসলিম প্রতিনিধিদের দাবি, শাহী মসজিদটি প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো এবং এটি ওয়াকফ সম্পত্তি। মসজিদের যে অংশটি সরানোর কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে নামাজের কক্ষের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উঁচু মিনার ও মাজহার চৌক এলাকার অংশ রয়েছে। মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা বলছেন, মসজিদ অক্ষত রেখে রাস্তার বিপরীত পাশ থেকে জমি নিয়ে সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব। তাদের প্রশ্ন, বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়ে ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনার অংশ কেন সরাতে হবে।
মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাকির বলেন, তারা মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাতভর মসজিদ এলাকায় অবস্থান করেন। ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, এর আগে সড়ক প্রশস্ত করার কাজে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আশপাশের দোকান ও অন্যান্য সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালতেও গড়িয়েছে বিরোধ
শাহী মসজিদের অংশ অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চে আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হয় মসজিদ কমিটি। ৯ সেপ্টেম্বর আদালত ওই আবেদনগুলো খারিজ করে দেয়। আদালত বলেছে, উজ্জয়িনী পৌর কর্তৃপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, একই সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ১০টি মন্দির ও একটি মসজিদের অংশ অপসারণ করা হয়েছে। উজ্জয়িনীতে প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনা-সংক্রান্ত নির্মাণের বিরুদ্ধেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেছে। আদালত আরও বলেছে, শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ার কারণে কোনো স্থাপনা আইনসম্মত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবে—এমন নয়।
মুসলিম বাসিন্দাদের আপত্তি
স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা ও মসজিদ প্রতিনিধিরা অবশ্য মসজিদের অংশ অপসারণের বিরোধিতা করেছেন। তাদের দাবি, মসজিদ অক্ষত রেখে সড়কের বিপরীত পাশ থেকে জমি নিয়ে রাস্তা প্রশস্ত করার বিকল্প রয়েছে। মসজিদ রক্ষার দাবিতে স্থানীয় মুসলিমদের একটি অংশ রাতভর সেখানে অবস্থানও করেন। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর মসজিদ কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরানোর বিষয়ে সম্মত হলেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ অব্যাহত থাকে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উজ্জয়িনীর ঘটনা ভারতে ধর্মীয় স্থাপনা ও মুসলিমদের সম্পত্তি অপসারণ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে আসাম, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বিক্ষোভের পর ১২৮টি সম্পত্তি ভাঙার তথ্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে মুসলিমদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থান ছিল। সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনায় অন্তত ৬১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অ্যামনেস্টি এসব ভাঙাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও শাস্তিমূলক উচ্ছেদ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এটি সংস্থাটির নিজস্ব গবেষণা ও মূল্যায়ন—ভারতীয় কর্তৃপক্ষের স্বীকৃত সরকারি পরিসংখ্যান নয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৫ সালের ভারতবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কয়েকটি রাজ্যে মুসলিমদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাড়িঘর ভাঙার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশনা দেয়।
সড়ক প্রশস্তকরণেও মসজিদ-মাজার অপসারণ
সড়ক প্রশস্তকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের সাম্প্রতিক আরও কিছু ঘটনা সংবাদে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সাধারণত সরকারি জমি, রাস্তার নির্ধারিত সীমানা বা কথিত অবৈধ নির্মাণ অপসারণকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২০২৬ সালের জুনে গুজরাটের আহমেদাবাদে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় তিনটি মাজার ও একটি কবরস্থানের অংশ অপসারণের খবর প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস । প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, স্থাপনাগুলো সরকারি জমিতে ছিল এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে ফরিদাবাদে সড়ক ও দ্রুতগতির রেলপথ প্রকল্পের জন্য একটি মসজিদ ও একটি মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণের খবরও প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস । সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আগাম নোটিশ না পাওয়ার অভিযোগ করেন। কর্তৃপক্ষ অবশ্য স্থাপনাগুলোকে কথিত অবৈধ নির্মাণ হিসেবে উল্লেখ করে।
বারাণসীতেও সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মসজিদ অপসারণের ঘটনা সামনে এসেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে জানায়, একটি মসজিদের অংশ স্বেচ্ছায় ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। একই প্রকল্পে এর আগে আরও পাঁচটি মসজিদ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে অপসারণ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উজ্জয়িনীতে এখনো উত্তেজনা
শাহী মসজিদের অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর উজ্জয়িনীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ও আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর বিষয়ও তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার কথা বলে কৃত্রিমভাবে তৈরি কিছু ভিডিও ছড়ানোর পর উত্তেজনা বেড়ে যায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে সড়ক প্রশস্তকরণের আওতায় পড়া মসজিদের একটি অংশই অপসারণ করা হচ্ছে।
তবে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের কাছে মূল বিষয় হলো ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাটির অংশ সংরক্ষণ। অন্যদিকে প্রশাসন ২০২৮ সালের সিংহস্থকে সামনে রেখে উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছে। আদালতও বর্তমানে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আইনগত প্রক্রিয়াকে অনুমোদন করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনকারীরা আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: এইচআর অফিসিয়ালস (অফিসার-এভিপি)
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি
অন্যান্য যোগ্যতা: ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৩ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪৫ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা
বেতন: আকর্ষণীয় বেতন
অন্যান্য সুবিধা: গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স সুবিধাসহ ভাতা
আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাভিত্তিক পাকিস্তান হাইকমিশন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি বহনকারী রুশ বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে। তারা পুরো বিষয়টিকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম এএনআই তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্ভবত ফ্লাইটের রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি-সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে কখনও কখনও ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
পাকিস্তান হাইকমিশন আরও জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইসলামাবাদ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই ঘটনাটিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বক্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে পারে।
এর আগে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পৌঁছায়নি।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এএনআইকে জানিয়েছিলেন, পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ওই দিন জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি।
তিনি তখন বলেছিলেন, ঠিক কী কারণে পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা স্পষ্ট ছিল না।
মন্ত্রী জানান, নতুন একটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অচলাবস্থার পর ইউরেনিয়াম বহনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সহায়তাকারী রুশ সংস্থা রোসাটমের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পারমাণবিক জ্বালানির চালানটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।
প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে নিম্নসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান সফলভাবে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রুশ ভারী কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।
পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় একটি বিশেষ ‘গ্রিন করিডোর’ দিয়ে এসব পারমাণবিক জ্বালানি কনটেইনার পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব জ্বালানি হস্তান্তর করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলার মনপুরা এলাকায় লঞ্চঘাটের কাছে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালীন ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর বেলায় মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া গ্রামের মো. আল-আমিন (২৫) এবং মো. শাকিল (২২)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন দুজন যুবককে আটক করে তাদের তল্লাশি করা হলে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। ঘটনার পর আটক যুবকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনী জেলার যুবদলের প্রাক্তন সভাপতি এবং সোনাগাজী উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সদর উপজেলার লালপোল এলাকায়।
সোনাগাজী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমের জামাতা ফজলুল হক মুন্না তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মুঠোফোনে মুন্না বলেন, তার শ্বশুরকে টার্গেট করে দ্বিতীয়বারের মতো একইভাবে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, লালপোল এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তিনি অল্পের জন্য বড় ধরনের শারীরিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পান।
যুবদলের এই জ্যেষ্ঠ নেতাকে বারবার হামলার টার্গেট করার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি এবং বিএনপি-অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখে অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ