১১:১৭ এম
জুমার দিন মুসলমানদের কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে পরিচিত। এই বিশেষ দিনে আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত বর্ষিত হয়। কোরআনে এবং হাদিসে জুমার দিনের ফজিলত এবং এ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সমস্ত দিনের নেতা হলো জুমার দিন। আল্লাহর কাছে এ দিন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন থেকেও অধিক মর্যাদাপূর্ণ।"
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
একটি অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, "যেসব দিনের ওপর সূর্য উদিত হয়, তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমার দিন।"
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
মহান আল্লাহ বলেন,
"হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।"
— সুরা জুমুআহ, আয়াত: ৯
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুন্নত অনুযায়ী গোসল করবে, পরিষ্কার পোশাক পরবে, সকালেই মসজিদে যাবে, পায়ে হেঁটে যাবে, ইমামের কাছে গুরুত্ব সহকারে বসে খুতবা শুনবে এবং অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবে, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা ও এক বছর নফল নামাজের সওয়াব লেখা হবে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
— (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)
জুমার দিনের তিনটি আরো গুরুত্বপূর্ণ আমল
১. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর জ্বলতে থাকবে।"
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
— (সুনানে বাইহাকি, হাদিস: ৬২০৯)
২. আসরের পর বেশি বেশি দোয়া করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন। সেই সময়টি আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তে অনুসন্ধান করো।"
— (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
৩. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা
নবীজি (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ, এ দিনের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।"
— (আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি, ৩/২৪৯)
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জুমার দিনে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, দ্রুত মসজিদে যাওয়া, গুরুত্ব সহকারে খুতবা শোনা, সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা এবং আসরের পর আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করার মাধ্যমেই একজন মুমিনের জন্য এই আমলসমূহ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন