ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন


দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে: রাশেদ খাঁন

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে পালনের জন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা আছে, যেন এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী কোনো ধরনের চক্রান্ত করতে না পারে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন হয়েছে। মন্দিরে হামলা হয়েছে, যা ছিল একটি পরিকল্পনার অংশ। অর্থাৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে একটি বার্তা দেওয়া— আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না থাকে, তাহলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বেশি ক্ষতির শিকার হবে। এই মানুষগুলোকে রক্ষা করার জন্য আওয়ামী লীগকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় সমর্থন দিতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৬ বছর ক্ষমতায় টিকে ছিল ভারতের আশীর্বাদে। ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েই তারা টিকে ছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে।

রাশেদ খাঁন আরও জানান, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং এই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য এসেছে যে, আওয়ামী লীগ এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে একটি চক্রান্ত করবে এবং ভারতকে বোঝাবে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই, এজন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ভারতীয় মিডিয়া কীভাবে গুজব রটায়। যদি কোনো মুসলমানের ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, ভারতীয় মিডিয়ার পেজে প্রচার করা হয় যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন চলছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করছে। এই মিলেমিশে বসবাস অনেকের জন্য অস্বস্তির সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন

রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ একটি চক্রান্ত করেছে, কীভাবে সনাতন ধর্মের দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে একটি অরাজকতা সৃষ্টি করা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা সেই অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিএনজি-অটোরিকশায় তিন চাকা কেন, জেনে নিন আসল কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


সিএনজি-অটোরিকশায় তিন চাকা কেন, জেনে নিন আসল কারণ

শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে সরু গলি, বাজার কিংবা গ্রামের পথ অটোরিকশা এখন মানুষের নিত্যদিনের পরিচিত যান। এটি বিভিন্ন স্থানে অটো, সিএনজি, আবার কোথাও টুকটুক নামেও পরিচিত। আকারের কারণে যানজট কিংবা সরু রাস্তায় সহজে চলাচল করতে পারে এই যান।

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, অটোরিকশায় চারটি চাকার পরিবর্তে তিনটি চাকা কেন থাকে?

অটোরিকশার তিন চাকার নকশা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। এই নকশা জনপ্রিয় হয়েছে ছোট আকার, সরু রাস্তায় সহজে চলাচল, নির্মাণ খরচ কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং তুলনামূলকভাবে কম পরিচালন ব্যয়ের মতো বেশ কিছু ব্যবহারিক বিষয় বিবেচনা করে।

সরু রাস্তায় চলাচলে সুবিধা

অটোরিকশার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর ছোট আকার। শহরের যানজটপূর্ণ সড়ক, বাজার কিংবা সরু গলিতে চার চাকার গাড়ির তুলনায় এটি কম জায়গায় দিক পরিবর্তন করতে সক্ষম।

প্রচলিত অটোরিকশায় সামনের দিকে একটি চাকা এবং পেছনে দুটি চাকা থাকে। সামনের চাকাটি মূলত গাড়ির দিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, আর পেছনের দুটি চাকা গাড়ির ওজন বহনে ভূমিকা রাখে। ফলে ছোট জায়গার মধ্যে যানটি চালানো তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।

কম নির্মাণ খরচ

চার চাকার গাড়ির তুলনায় তিন চাকার গাড়িতে একটি চাকা এবং সংশ্লিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশ কম প্রয়োজন হয়। এতে গাড়ির কাঠামো তুলনামূলকভাবে সহজ রাখা সম্ভব।

কম যন্ত্রাংশ ও সরল নকশার কারণে উৎপাদন খরচও কম হতে পারে। এ কারণেই অনেক দেশে, বাংলাদেশেও, অটোরিকশা তুলনামূলক কম খরচের পরিবহন হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রক্ষণাবেক্ষণেও সুবিধা

শুধু গাড়ি কেনার খরচ নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিন চাকার অটোরিকশায় তুলনামূলকভাবে কম যন্ত্রাংশ থাকায় টায়ার, চাকা ও কিছু যান্ত্রিক অংশের রক্ষণাবেক্ষণে খরচ কম হতে পারে।

অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকদের জন্য এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হলে তা সরাসরি তাদের আয়কে প্রভাবিত করে।

ওজন কম, তাই জ্বালানি খরচও তুলনামূলক কম হতে পারে।

অটোরিকশার কাঠামো সাধারণত ছোট ও হালকা। তিন চাকার নকশা এই হালকা কাঠামো তৈরিতে সুবিধা দেয়। গাড়ির ওজন কম হলে একই দূরত্ব অতিক্রম করতে ইঞ্জিনকে তুলনামূলক কম শক্তি ব্যয় করতে হয়।

ফলে ছোট ইঞ্জিন ব্যবহার করেও দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মক্ষমতা পাওয়া সম্ভব হয়। এ কারণে অটোরিকশাকে তুলনামূলকভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ী যান হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

তবে প্রকৃত জ্বালানি খরচ নির্ভর করে ইঞ্জিনের ধরন, গাড়ির ওজন, রাস্তার অবস্থা, যাত্রী বা মালামালের ওজন এবং চালানোর ধরনের ওপর। তাই সব তিন চাকার যান চার চাকার গাড়ির তুলনায় একই হারে জ্বালানি সাশ্রয় করবে এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।

তিন চাকার গাড়ি কি ভারসাম্যপূর্ণ?

সুবিধার পাশাপাশি তিন চাকার নকশার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। চার চাকার গাড়ির তুলনায় তিন চাকার যান বাঁক নেওয়ার সময় তুলনামূলক কম পার্শ্বীয় স্থিতিশীলতা দেখাতে পারে।

বিশেষ করে বেশি গতিতে হঠাৎ বাঁক নেওয়া হলে বা গাড়ির ভারকেন্দ্র বেশি উঁচু হলে উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তিন চাকার যানবাহনের নকশা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রকৌশল গবেষণাতেও এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তাহলে অটোরিকশা চালানোর সময় অতিরিক্ত গতি এড়িয়ে চলা এবং হঠাৎ করে বাঁক না নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সব তিন চাকার গাড়ির নকশা কি একই?

না। তিন চাকার যান বিভিন্ন ধরনের নকশায় তৈরি হতে পারে। প্রচলিত অটোরিকশায় সাধারণত সামনে একটি এবং পেছনে দুটি চাকা থাকে। তবে কিছু তিন চাকার যানবাহনে সামনে দুটি ও পেছনে একটি চাকা থাকতে পারে।

চাকার অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে গাড়ির ভারসাম্য, বাঁক নেওয়ার আচরণ এবং চালানোর বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশে কেন এত জনপ্রিয়?

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে অটোরিকশা ও সিএনজি পরিচিত গণপরিবহনের একটি অংশ। বিশেষ করে যেসব সরু সড়ক বা গলিতে বড় বাস কিংবা গাড়ি সহজে চলাচল করতে পারে না, সেখানে ছোট আকারের এই যান বেশ কার্যকর।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ছোট আকার ও সহজে চলাচলের সক্ষমতা এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

তাহলে চার চাকার বদলে তিন চাকা কেন?

অটোরিকশায় তিনটি চাকা ব্যবহারের পেছনে একটি নয়, বরং একাধিক কারণ কাজ করেছে। ছোট কাঠামো হওয়ায় সরু ও ব্যস্ত সড়কে চলাচল সহজ হয়। কম যন্ত্রাংশের কারণে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে কম ওজনের কারণে তুলনামূলক ছোট ইঞ্জিন ব্যবহার করা যায়।

অর্থাৎ, অটোরিকশার তিন চাকা কোনো দুর্বলতা নয়; বরং নির্দিষ্ট ধরনের রাস্তা ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য তৈরি একটি ব্যবহারিক নকশা। তবে তিন চাকার গাড়ির স্থিতিশীলতা চার চাকার গাড়ির মতো নয়। তাই নিরাপদ গতি, দক্ষ চালনা এবং সঠিকভাবে যাত্রী ও মালামাল বহন করাই দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে তিন ঘণ্টার ‘ট্রাক জার্নিতেই’ কাঁচা পেঁপে পেকে হলুদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


ময়মনসিংহে তিন ঘণ্টার ‘ট্রাক জার্নিতেই’ কাঁচা পেঁপে পেকে হলুদ

গাছ থেকে সংগ্রহের পর মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার ব্যবধানের মধ্যেই শক্ত, কাঁচা সবুজ পেঁপে হলুদ-লাল পাকা ফল হয়ে যাচ্ছে। ময়মনসিংহের নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে ঢাকার পাইকারি বাজারে নিয়ে যাওয়ার পথে পেঁপে কৃত্রিমভাবে পাকানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নান্দাইলের ১৩ নম্বর চর বেতাগৈর ইউনিয়ন, চরশ্রীরামপুর, আনন্দ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে পাইকাররা কাঁচা পেঁপে সংগ্রহ করেন। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কেনা হয়। এরপর সেগুলো নির্দিষ্ট ঘর বা আড়তে স্তূপ করে রাখা হয়।

পরে শ্রমিকরা কাঁচা পেঁপে কাগজে মুড়িয়ে বড় বড় ঝুড়ি ও বস্তায় ভরে ট্রাকে তুলে দেন। পাইকারদের দাবি, নান্দাইল থেকে ট্রাকে করে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। এর মধ্যেই পেঁপেগুলো পেকে হলুদ-লাল রং ধারণ করে।

তবে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, কাগজে মোড়ানোর আগে পেঁপেতে এক ধরনের তরল রাসায়নিক স্প্রে করা হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাঁচা পেঁপে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চর শ্রীরামপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পেঁপে পাকানোর সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, পেঁপে কাগজে মোড়ানোর ঠিক আগে স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়।

অন্যদিকে, চর বেতাগৈর এলাকার ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান নিজের পেঁপে বাগানের পাশাপাশি অন্য চাষিদের কাছ থেকেও বাগান চুক্তিতে পেঁপে কিনে থাকেন। সম্প্রতি ১৫০টি গাছের একটি বাগান ফলসহ ৭০ হাজার টাকায় কেনার কথা জানান তিনি।

নিজের বাগান কিংবা চরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা পেঁপে কারওয়ান বাজারে বিক্রির কথা স্বীকার করলেও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন শাহজাহান। তিনি দাবি করেন, পেঁপেতে কোনো ওষুধ বা রাসায়নিক দেওয়া হয় না। পত্রিকার কাগজে মুড়িয়ে রাখলে ভেতরের তাপেই পেঁপে স্বাভাবিকভাবে পেকে যায়।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামীমা সুলতানা বলেন, রাসায়নিকযুক্ত ফল খেলে মানুষের লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তবে নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানার ভাষ্য, সব পেঁপে পাকাতে কার্বাইড বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় না। গাছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকা পরিপক্ক পেঁপে কাগজে মুড়িয়ে রাখলে স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই পেকে যেতে পারে।

তিনি বলেন, নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা পেঁপে প্রাকৃতিকভাবে পাকছে, নাকি কৃত্রিমভাবে পাকানো হচ্ছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিষিদ্ধ কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ১০ থেকে ১২ টাকা কেজিতে কেনা এসব পেঁপে ঢাকার বাজারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে কৃত্রিমভাবে পেঁপে পাকানোর অভিযোগের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাংক ঘেরাওয়ের মুখে চুয়েট শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


ব্যাংক ঘেরাওয়ের মুখে চুয়েট শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ

বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ার প্রতিবাদে ব্যাংক ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার দেড় ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখায় কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচির পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন জানান, চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী কম্পট্রোলার ও সহকারী কম্পট্রোলারের স্বাক্ষরেই এত দিন বেতন-ভাতা দেওয়া হয়ে আসছিল। কিন্তু নতুন উপাচার্য বেতন আটকে দিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে ব্যাংক ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ আগে বেতনের মেসেজ এসেছে। আমাদের দাবির মুখে চুয়েটের চিরাচরিত নিয়ম অনুসারেই বেতন দেওয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক জানান, কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ বাকি সবার বেতনও আজ পরিশোধ করা হবে।

এর আগে গত বুধবার বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে ই-মেইল করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ই-মেইলে উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানোকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সময় চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) উল্লেখ করে উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত বৈধ নয় বলেও দাবি করা হয়।

উপাচার্যের ওই ই-মেইলের পরই বেতন-ভাতা পরিশোধের কার্যক্রম আটকে যায় বলে জানিয়েছেন সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক। তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিকে, বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ার প্রতিবাদে আজ সকাল ১১টা থেকে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের বেতন পরিশোধ করা হয়। পরে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতনও পরিশোধের কথা জানায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যুক্ত হন।

এদিকে, আন্দোলনের কারণে টানা ১৬ দিন ধরে চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। বন্ধ রয়েছে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা; পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর নওগাঁর সড়ক থেকে সরছে নিম্নমানের ইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর নওগাঁর সড়ক থেকে সরছে নিম্নমানের ইট

নওগাঁর মান্দায় সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রায় কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের গুরুতর অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মহল নড়েচড়ে বসেছে।

জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল আরটিভি অনলাইনে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে। সংবাদটির সুদূরপ্রসারী প্রভাবের ফলস্বরূপ, নির্মাণাধীন ওই সড়ক থেকে নিম্নমানের ইটগুলো অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত শ্রমিকদের অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে সড়ক প্রান্তর থেকে এসব নিম্নমানের ইট সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এর আগে ২ অক্টোবর শুক্রবার ‘নিম্নমানের ইটে কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ, সরানোর আশ্বাস ঠিকাদারের’ শিরোনামে আরটিভি অনলাইনের পোর্টালে একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মান্দা উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা হিন্দুপাড়া থেকে দক্ষিণ কোচড়া বাদলঘাটা পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩০ মিটার দীর্ঘ একটি পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় জনগণের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্যে এলজিইডির অধীনে বাস্তবায়িত এই সড়ক নির্মাণকাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি দায়িত্বে রয়েছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে, সংবাদ প্রকাশের পর সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে ফেলে রাখা নিম্নমানের ইটগুলো শ্রমিকরা দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্যই এই ইটগুলো সাইটে নামানো হয়েছিল। তবে কাজের শুরু থেকেই ইটের মান নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা তৈরি হলে তা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাবে।

স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, সরকারি প্রাক্কলন বা সিডিউল অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণে এক নম্বর ইটের খোয়া ও মানসম্মত বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এক নম্বর পাকা ইটের পরিবর্তে সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছিল নিম্নমানের এবং পোড়ামাটির মানহীন ইট।

এ ছাড়া সাব-বেস ও বেস টাইপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রেও বালু ও খোয়ার সঠিক অনুপাত বজায় রাখা হচ্ছিল না, যা সড়কের স্থায়িত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দেওয়ার উপক্রম করেছিল।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বাসিন্দারা আরও জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টনক নড়ায় এবং নিম্নমানের ইটগুলো সরিয়ে নেওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

তবে তাদের মতে, কেবল ইট সরিয়ে নেওয়াটাই যথেষ্ট নয়; সড়কের পুরো নির্মাণকাজ সিডিউল ও নিয়ম মেনে সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে কড়া নজরদারিতে যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি এত বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নির্মিত এই সড়কের স্থায়ী ও টেকসই সুফল নিশ্চিত করতে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে তারা জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে, সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সাফাই গেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোছা. পারুল দাবি করেন, এই সড়কটির কাজ করতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ২৪ লাখ টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিতর্কিত ইটগুলো সাময়িকভাবে নির্মাণস্থলে আনা হয়েছিল এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে। তার দেওয়া ওই আশ্বাসের বাস্তবায়ন হিসেবেই মূলত বুধবার সকাল থেকে সড়ক থেকে নিম্নমানের ওই ইটগুলো অপসারণের কাজ শুরু করা হয়।

এ বিষয়ে বুধবার বিকেলে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে জানান, নির্মাণাধীন সড়ক থেকে নিম্নমানের ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সড়কটির পরবর্তী সব ধাপে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে। এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং কাজের মান রক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

উপজেলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, শুধু এই সড়কের ইট অপসারণই নয়, বরং মান্দা উপজেলার প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে যেন পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মান বজায় রাখা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%