০৩:১২ পি.এম
ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন ক্রীড়া সংগঠক।
ক্রীড়ার উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণ করে রিজভী বলেন, ক্রীড়ার জন্য তিনি যে কাজগুলো করেছেন, সেটা হচ্ছে যারা ক্রীড়াবিদ হবে, এটাই তার পেশা হবে, এটা দিয়েই তার জীবন-জীবিকা হবে। রাষ্ট্র হবে এবং সরকার করবে সেই ধরনের ব্যবস্থা।
আজ বুধবার, আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে তিনি বনানী কবরস্থানে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি কোকোর কবর জিয়ারত করেন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন এবং রাজনীতিতে তিনি কিছুই করেননি। তিনি চেয়েছেন ক্রীড়াবিদরা যাতে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে ধরনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র ও সরকার করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। এর মাধ্যমে কোকোর ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
রিজভী মন্তব্য করেন, আজকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এখানে আছেন। আমি মনে করি, তিনি অত্যন্ত যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এখানে তার যে কাজগুলো, সেই কাজগুলো সুসম্পন্ন করবেন। সেটা সুসম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।
মরহুম কোকোর স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। যখন তাঁর মরদেহ দেশে আনার সময়, তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া বন্দি ছিলেন। তাঁকে বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং গোলমরিচের স্প্রে করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
‘ঐ পরিস্থিতিতে মায়ের কোলে সন্তানের লাশ তুলে দেওয়া ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক ঘটনা। পৃথিবীর সব বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। মায়ের কোলে সন্তানের লাশ-এটি ছিল প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ,’ বলেন তিনি।
রিজভী অভিযোগ করেন, জনগণের মধ্যে জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনো বরদাশত করতে পারেননি। তাই তাঁর পরিবারকে একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছেন। তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার এই পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত করতে এবং জনগণের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা মুছে ফেলতে বিভিন্নভাবে হয়রানি, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছিল। একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই এসব করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার কারণে তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই সন্তানও বিভিন্ন সময়ে বন্দিত্ব ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অথচ আজ কি হয়েছে? জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। সেই তারেক রহমান, শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র আজ দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনকল্যাণের সব যে কাজ, সেই কাজগুলো একের পর এক ক্ষমতা নেওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যে থেকেই বা শুরু থেকেই তিনি বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন। এবং তাঁর এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, সেই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলমান আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান। মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, আহনাফসহ যারা আত্মদান করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগ মহিমান্বিত। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের পেছনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরও রক্ত ও আত্মত্যাগ রয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
এ ধরনের প্রচেষ্টা জনগণের কাছে প্রশ্ন তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের জনগণ যে কোনো মূল্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করবে।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য রেজাউর করিম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু এবং বিএনপি নেতা কামাল জামাল মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন