ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভোরে সুদানের রাজধানী এবং উত্তরাঞ্চলের দুই শহরে ড্রোন হা/ম/লা


ভোরে সুদানের রাজধানী এবং উত্তরাঞ্চলের দুই শহরে ড্রোন হা/ম/লা

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : আজ ভোরে সুদানের রাজধানী খার্তুম এবং উত্তরাঞ্চলের আরও দুটি শহরে ড্রোন হামলা হয়েছে। এএফপির একজন সংবাদদাতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বেশ কিছু মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পরে, রাজধানীতে এটি একটি সমন্বিত হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

এটি খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদান ভয়াবহ যুদ্ধে জর্জরিত। একদিকে দেশটির সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বাধীন সুদানি সেনাবাহিনী, অন্যদিকে তার সাবেক উপপ্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলো-র নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে এই সংঘর্ষ চলছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

রাজধানী খার্তুম গত বছর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে। এর ফলে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ শহরটিতে ফিরে আসেন। এর আগে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হলেও, গত কয়েক মাস শহরটি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।

খার্তুমে থাকা এএফপির সংবাদদাতা জানান, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ড্রোন হামলার শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে রাজধানীর যমজ শহর ওমদুরমানের ঠিক উত্তরে সেনাবাহিনীর ওয়াদি সাইদনা ঘাঁটির দিক থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার শব্দও শোনা যায়।

সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তরাঞ্চলের আতবারা ও এল-দামার শহরের প্রত্যক্ষদর্শীরাও একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা এবং আকাশে ড্রোন দেখতে পাওয়ার বিষয়ে জানান।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সুদানজুড়ে ত্রাণকর্মীদের মতে, চলমান এই যুদ্ধে ২ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে।

একসময় যে দুই নেতা মিত্র ছিলেন, বুরহান এবং দাগলো এখন ক্ষমতার তীব্র দ্বন্দ্বে পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় দুই পক্ষই অনেকটা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। সিদ্ধান্তমূলক সামরিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আলোচনায় বসতেও ভিন্নতা দেখাচ্ছেন।

গত বছর আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ দারফুর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে। এরপর তারা দক্ষিণের কর্দোফান অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বে ইথিওপিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালায়।

অন্যদিকে সেনাবাহিনী দেশের মধ্য, উত্তর ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। গত মাসে কর্দোফানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক থেকে আরএসএফকে সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী সফলতা অর্জন করে। ওই সড়কটি রাজধানীর সঙ্গে সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এর পর দাগলো ঘোষণা করেন, তিনি তার যোদ্ধাদের ‘মুক্ত করে দেবেন’। তার বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে আরএসএফ বারবার বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়ে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে গোমূত্র কিনছে সরকার, প্রতি লিটারের দাম ২০ রুপি বিরোধী সমাজবাদী পার্টি এই সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করেছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


ভারতে গোমূত্র কিনছে সরকার, প্রতি লিটারের দাম ২০ রুপি  বিরোধী সমাজবাদী পার্টি এই সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করেছে।

ভারতে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে গোমূত্র সংগ্রহের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামে গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে।

ভবিষ্যতে এই প্রকল্পে প্রতি লিটার গোমূত্রের জন্য সরকার সর্বোচ্চ ২০ রুপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে, বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রামীণ নারীদের, যারা এ কাজে যুক্ত, প্রতি লিটারে ২ রুপি করে কমিশন প্রদান করা হচ্ছে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া গরুগুলোর দেখভাল করতেও এ উদ্যোগ সহায়ক হবে বলতেও সরকারের বিশ্বাস।

তবে, বিরোধী সমাজবাদী পার্টি এই সরকারি উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তারা প্রকল্পটিকে ‘কেলেঙ্কারি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা প্রকল্পটি সফল হলে পরে এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে ১৫ জনের প্রা/ণ/হানি, ২৭ জন নি/খোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে ১৫ জনের প্রা/ণ/হানি, ২৭ জন নি/খোঁজ

 জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমানে ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। বুধবার কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় শহর কারিবা থেকে যাত্রী পরিবহনকারী ফেরিটি মঙ্গলবার প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় উল্টে যায়, যা কয়েকটি দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পে যাত্রীদের নিয়ে যাচ্ছিল।

জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবরটি প্রচার করেছে।

জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) এক বিবৃতিতে জানায়, ফেরিটিতে মোট ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, পাঁচজন ক্রু সদস্য এবং কিছু শিশু ছিল, তবে ফেরিটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ৯০ জন।

নিখোঁজদের সন্ধান দিতে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সিপিইউ জানায়, ‘এ পর্যন্ত মাতুসাদোনহা উদ্ধারকারী দল ও অন্যান্যরা ৭৭ জন যাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।’ সংস্থাটি আরও জানায়, ‘১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

মরদেহগুলো সংগ্রহ করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুটি ফিউনারেল পার্লারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ২৭ জনের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সিপিইউ জানায়, নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তার জন্য একটি বিশেষায়িত জলযান উদ্ধারকারী ইউনিটকে বিমানযোগে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছে।

কারিবা হ্রদটি জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এবং রাজধানী হারারে থেকে এই হ্রদটির দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে। এই হ্রদটি আয়তন নয়, জলধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামীর জানাজার পাঁচ মিনিট আগে স্ত্রীর মৃ/ত্যু, পাশাপাশি দাফন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রাণীচড়া গ্রামে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


স্বামীর জানাজার পাঁচ মিনিট আগে স্ত্রীর মৃ/ত্যু, পাশাপাশি দাফন  কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রাণীচড়া গ্রামে

স্বামীর জানাজার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। উঠানে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে শেষ বিদায়ের সব আয়োজন শেষ হয়ে গিয়েছিল। আর মাত্র পাঁচ মিনিট পরে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে। এরপর স্বামী ও স্ত্রীর জানাজা একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এবং পাশাপাশি দাফন করা হয়।

হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনা কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রাণীচড়া গ্রামে ঘটেছে।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার রাণীচড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৬১) এবং তাঁর স্ত্রী সালেহা বেগম (৫৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হন আব্দুস সাত্তার। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাতেই তিনি মারা যান।

পরবর্তীকালে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাদ জোহর তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সকালে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে স্বজন ও এলাকাবাসী কফিন প্রস্তুত, কবর খোঁড়াসহ দাফনের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করেন।

জানাজার সময় ঘনিয়ে আসলে স্বজনেরা শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ে স্বামীর মৃত্যুর কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সালেহা বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও স্বামীর জানাজার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মোশারফ হোসেন বলেন, আব্দুস সাত্তার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নৈশপ্রহরী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, সালেহা বেগম প্রায় এক বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই সালেহা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। জানাজার কয়েক মিনিট আগে পরিবারে সকলের সামনে তিনি মারা যান। তবে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানানো সম্ভব হয়নি।’

মৃত্যুর সময় আব্দুস সাত্তার ও সালেহা বেগম দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গণে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তাঁদের পাশাপাশি দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।

দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের সুখ এবং দুঃখ ভাগ করে নেওয়া এই দম্পতির শেষ বিদায়ও হলো একই দিনে, একই সময়ে। যে স্ত্রী স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনিও একই জানাজায় অংশ নিয়ে স্বামীর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। তাঁদের এই করুণ বিদায় পুরো রাণীচড়া গ্রামে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে' রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি 'ভালোভাবেই চলছে'। অপরদিকে, ইরান জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং অবরোধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলবে না।

বুধবার (১২ আগস্ট) যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী এখন 'টোটাল কন্ট্রোলে' রয়েছে।” এর পাশাপাশি তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে আবারো নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন বাহিনী পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে থামাতে দুইটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

মার্কিন বাহিনীর দাবী অনুযায়ী, জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের বন্দরের দিকে এগোতে থাকায় এরপর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেটি অচল হয়ে পড়ে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এবং অবরোধ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটকে থাকা কিংবা হিমায়িত ইরানি সম্পদ মুক্তি দেয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার শর্তও দিয়েছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এসব শর্তগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা, ইরানের হিমায়িত সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তিনটি বিষয়কে প্রণালি পুনরায় খোলার নীতির সাথে সরাসরি যুক্ত করেছে ইরান।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, যে পথ দিয়ে পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বুধবার তেহরানে পৌঁছে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মোহসিন নাকভির সফরের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের মাঝে চলমান যুদ্ধের অবসানে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করা।

পাকিস্তান অতীতে একাধিকবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে ইসলামাবাদ তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে ইরানের শর্তগুলো বোঝার এবং সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিতে কড়া। এর বিপরীতে, ইরান তাদের শর্ত থেকে সরে আসছে না। ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, জাহাজটি অবরোধ ভেঙে ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে ইরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং অবরোধ চলমান থাকলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়। ফলে, হরমুজ প্রণালি এখন সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র এবং কূটনৈতিক দর-কষাকষির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

তেহরানে মোহসিন নাকভির বৈঠককে তাই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান যদি ইরানের শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরে এবং যুদ্ধবিরতি ও অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে তবে হরমুজ সংকট নিরসনের পথ খুলতে পারে।

তবে আপাতত ইরান তাদের অবস্থান কঠোর রেখেছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র জাহাজ চলাচল নিয়ে কোনো সাময়িক সমঝোতা নয়, বরং যুদ্ধ, অবরোধ, হিমায়িত সম্পদ এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির মতো বৃহত্তর বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রণালির ওপর মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণের দাবি করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা উদ্যোগ এবং পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনা হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%