১২:৫৬ পি.এম
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে অন্তত শতাধিক পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়স্থল ও ঠিকানা হারিয়েছে। বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে হাজার হাজার পরিবারের বসতভিটा, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং হাটবাজার। নদীভাঙন রোধে বছরের পর বছর ধরে কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না, এই অভিযোগ করেছেন ভাঙনকবলিত মানুষগুলি।
সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করলে করুণ দৃশ্যটি দেখা যায়। একটি নৌকায় ঘরের চাল, খুঁটি, থালাবাটি এবং সংসারের যাবতীয় আসবাবপত্র তোলা হয়েছে। চোখের জল মুছতে মুছতে একটি পরিবার বসতভিটা ছেড়ে নতুন কোনও চরে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছে। তাদের সাজানো বসতভিটা নদী ইতোমধ্যে গিলে ফেলেছে এবং বাকি অংশটুকুও ধীরে ধীরে পানির নিচে বিলীন হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামে এভাবে আরও ১৪টি পরিবারের বসতভিটা হারাতে হয়েছে। দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙনে তাদের গ্রাম ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বানিয়াপাড়ার বাসিন্দা জোবেদ আলী জানান, 'গত এক মাসের ভাঙনে বানিয়াপাড়ার ১৪টি পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নদের বুকে জেগে ওঠা নতুন চরে আশ্রয় নিয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'যাদের অন্য কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।' কয়েক বছর ধরে এখানকার ভাঙন অব্যাহত থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
যাত্রাপুর ইউনিয়নের পাশাপাশিও দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর ভাঙনের ফলে চিলমারী, রানীগঞ্জ, শাখাহাতি, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী ও রাজারহাটের ৪০টি পয়েন্টে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলার রামহরি এলাকার কুদ্দুস আলী জানান, 'তিস্তার ভাঙনে আমার পরিবারের সবাই আগেই চলে গেছে ঢাকায়। আমি বিশেষ করে জন্মভিটার মায়ায় পড়ে ছিলাম। কিন্তু তিস্তা এবার আমার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিল।'
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, নদ-নদীর পানি ওঠানামার কারণে ৪০টি পয়েন্টে ভাঙনরোধে ৩০টিতে জিওব্যাগ ফেলে অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি পয়েন্টগুলোতেও কাজের বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এছাড়া, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ৪টি নদী সবচেয়ে বেশি ভাঙনপ্রবণ। এসব নদীর প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাড় এখনও সম্পূর্ণ অরক্ষিত রয়েছে। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ৪০ থেকে ৫০টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়, যাতে বছরে গড়ে অন্তত দুই হাজার পরিবার তাদের সক্রিয় সঞ্চয় ও বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন