রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৩ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবারের মতো সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘কারাম’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সমতলের আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উৎসবের দ্বিতীয় দিনে বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসন ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ওঁরাও সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী এবং বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে আসা ওঁরাও সম্প্রদায়ের মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও আমন্ত্রিত অতিথিরাও এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শেষে ওঁরাও সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী উলুধ্বনি ও প্রদীপ জ্বালিয়ে উপাচার্যসহ অতিথিদের বরণ করা হয়। পরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে একটি ‘কারাম’ গাছের চারা রোপণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এ সময় বলেন, "ওঁরাও সম্প্রদায় অসামান্য পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে অর্থনৈতিক অবদানের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে এ সম্প্রদায় অনেক পিছিয়ে পড়বে।"
তিনি আরও বলেন, "সুতরাং প্রতিটি সন্তানকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে, যাতে সর্বক্ষেত্রে তাদের পদচারণা নিশ্চিত হয়। নিজেদের কখনো প্রান্তিক বা বিচ্ছিন্ন ভাবলে চলবে না। বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও যোগ্যতার শক্তিতে সমাজ ও দেশের মূলধারায় নিজেদের মেলে ধরতে হবে।"
কারাম উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি শীত কুমার উরাং (খাঁখাঁ) জানান, "মাঠ থেকে ফসল তোলার পর সৃষ্টিকর্তা ও পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আগামী মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় কারাম দেবতার পূজা করা হয়।" তিনি বলেন, "এ উৎসবের বিশেষ রীতি হলো, উৎপাদিত ফসলের এক-তৃতীয়াংশ নিজেদের খরচের জন্য রেখে বাকি দুই-তৃতীয়াংশ প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা।"
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উৎসবের প্রথম দিনে ধর্মীয় আচার মেনে কারাম গাছের ডাল কেটে এনে অস্থায়ী বেদিতে স্থাপন করা হয়। পরে সেখানে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। রাতে বেদির চারপাশে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানের আসর বসে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জলাশয়ে কারাম গাছের ডাল বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, ‘কারাম’ মূলত ওঁরাও সম্প্রদায়সহ সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব। ভাদ্র মাসে কৃষি ও প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে এই পরব পালিত হয়। প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে কারাম গাছের পূজা করে ফসলের সুরক্ষা, পরিবারের সুখ-শান্তি এবং ভাই-বোনের মঙ্গল কামনা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের কারণে প্রায় ৪২টি ঘর সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ঘরে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়। বাড়ির মালিকের দাবি অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়াচালা (মধ্যপাড়া) এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে দলিল লেখক জাহাঙ্গীর হোসেনের সেমিপাকা বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওইসব ঘরে স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বসবাস করতেন।
স্থানীয়দের মতে, ওই রাতে ভাড়াটিয়ারা রান্নার কাজ করছিলেন। হঠাৎ একটি ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৪২টি ঘর এবং ঘরে থাকা সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, "কারখানা ছুটি শেষে ভাড়াটিয়ারা রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"
রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশব্যাপী নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঢাকা শাটডাউন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে উত্তেজনার মাঝে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একজন কর্মীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অভি ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তাকে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের কক্ষে নেওয়া হয়।
সেখানে ডিনের নেতৃত্বে একটি শুনানি বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক শাহ আলম চৌধুরী, রিসার্চ সেল পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী প্রক্টর শামীম হামিদী উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। তারা আরও জানান, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের বিভিন্ন সাংগঠনিক ফেসবুক পেজের পোস্টে তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন।
শুনানিতে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও অভির বক্তব্য শোনার পর অভিভাবকদের উপস্থিত হতে বলা হয়। কিন্তু দিনাজপুরের বাসিন্দা হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তীতে আগামী মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাদের শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, মুচলেকা নিয়ে অভিকে তার খালার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে অভি বা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো হামলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্ধারিত শুনানিতে অভি বা তার অভিভাবকরা উপস্থিত না হলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ও কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এসব পোস্টে হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, তারা বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের অবহিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে এবার তারা প্রক্টরের কাছে না গিয়ে সরাসরি ডিনের কাছে বিষয়টি জানান। অতীতের কয়েকটি ঘটনায় প্রক্টরের কাছে অভিযোগ জানিয়েও প্রত্যাশিত ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নজিরবিহীনভাবে ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। এই হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। রুশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর পুরো অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা আনাদোলুর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানী মস্কো ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার সম্মুখীন হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা ৪৫০টি ড্রোনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মেয়র আরও উল্লেখ করেন, বেশ কয়েকটি ড্রোন মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে আঘাত হেনে স্থাপনাটির ক্ষতি করেছে। অন্যদিকে, একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনে আঘাত করলেও সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, চলমান নির্বাচনের কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানান, রামেনস্কি জেলায় একটি ড্রোন ২১ তলা ভবনের ছাদে পড়লে আগুন ধরে যায় এবং সেখান থেকে ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া সোফাইনো ও ওরেখোভো-জুয়েভো জেলায় পৃথক ড্রোন হামলায় দুজন প্রাণ হারান এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
রাশিয়ায় তিন দিনব্যাপী সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে এই বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে ১১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি যোগ্য ভোটার পার্লামেন্টের (স্টেট ডুমা) ৪৫০ জন সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল জেলার ১০ উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)।
জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গভীর নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সমগ্র দেশের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় আসবে। এ ছাড়া, হতদরিদ্র পরিবারের জন্য প্রায় ৬ হাজার স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হবে গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায়।
প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে, বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আটটি করে গভীর নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পানির স্তর, এলাকার প্রয়োজনীয়তা ও মানুষের চাহিদা বিবেচনা করে এসব নলকূপ স্থাপন করা হবে।
বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, সাধারণ টিউবওয়েলের ক্ষেত্রে গ্রাহকের খরচ হবে ৭ হাজার টাকা এবং সাবমার্সিবল ব্যবস্থায় খরচ হবে ১০ হাজার টাকা। একটি গভীর নলকূপ স্থাপনে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। সাবমার্সিবল গভীর নলকূপ স্থাপনে সরকারের ব্যয় দুই লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।
বরিশালের বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত ইউনিয়নে নিরাপদ পানির সংকট এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেলে অনেক এলাকায় সাধারণ নলকূপে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। নদী ও চরাঞ্চলের কিছু এলাকায় লবণাক্ততা এবং পানির উৎস দূষণের কারণে নিরাপদ পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে, বরিশাল নগরীতেও নিরাপদ পানি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নগরীর পানির চাহিদা পূরণে রূপাতলী ও বেলতলা এলাকায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রূপাতলী-১ প্ল্যান্ট সম্প্রতি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
পানির গুণগত মান পরীক্ষার সরকারি সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্যানিটেশন পরিস্থিতিও বরিশালের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগ দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। নদীমাতৃক ও দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায় বর্ষা ও জলোচ্ছ্বাসের সময় গ্রামীণ এলাকার অনেক ল্যাট্রিন তলিয়ে যায়। এতে মলমূত্র পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় জেলার প্রায় ৬ হাজার হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপকারভোগী পরিবারকে ৫ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।
বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমরান তরফদার বলেন, "নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে এবং যেসব দরিদ্র পরিবার এখনও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে সঠিক স্থান নির্বাচন, প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন এবং নির্মিত অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। বরিশালের নদী ও চরাঞ্চলের জন্য জলবায়ু সহনশীল পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা গেলে বরিশালের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ