বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:২১ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়েছে। এই সময়ে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন ও ৬০ হাজার ৭১০ টাকা জব্দ করা হয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে শহরের নিউ মার্কেট এলাকার শফিক প্লাজার চতুর্থ তলায় এই অভিযান পরিচালনা করে র্যাব।
আটককৃতরা হলেন সদর উপজেলার পূর্ব পাইকপাড়ার সুজন দেবনাথ (৪৮), কান্দিপাড়ার সালমান ভূঁইয়া (২৫), গোকর্ণঘাট এলাকার ঝন্টু কর্মকার (৩৪), কান্দিপাড়ার আকরাম হোসেন (৩৯), কান্দিপাড়ার কায়েস মিয়া (৪২), নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় ইউনিয়নের নরহা গ্রামের শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (৩৮), কসবা উপজেলার শ্যামবাড়ি এলাকার জহর (২৫) এবং সদর উপজেলার কাজীপাড়া (ব্যাপারিপাড়া) এলাকার আলামিন (৪৫)।
র্যাব জানায়, অভিযানের সময় অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৬০ হাজার ৭১০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জব্দ করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।
র্যাব-৯ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর নবী বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইনে জুয়া, মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে র্যাব নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত এলাকায় গীতা রাণী বিশ্বাস (৫০) নামের এক গৃহবধূকে হত্যা করে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত গীতা আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের নন্দ লালের স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্গের ভেতর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হোসেন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গীতা রাণীর স্বামী নন্দলাল তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে গীতা রাণী একলাই বসবাস করতেন। স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে ঢুকে তাকে অপহরণ করেছে। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁকে বাড়ির আশেপাশে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা।
খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। কে বা কারা কী কারণে তাকে হত্যা করলো তা পরে জানাতে পারবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলার ফলে দুই বছর বয়সী এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় আহত হয়েছে আরও দুই শিশু।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে 'ভারী মাত্রার' হামলা শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স বৃহস্পতিবার এ বিষয়টি জানিয়েছেন।
হোরমোজগান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের সূত্র অবলম্বন করে ফার্স জানায়, ‘কেশমের চাহ তাঙ্গু এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একই পরিবারের তিন জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাবা, মা এবং তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান।’
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়টি জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় পরিবারের আরও দুই শিশু আহত হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন প্রতিবন্ধীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তিনি এ নিয়োগপত্র তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এ নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আজ সচিবালয়ে তাঁর দিনের কর্মসূচি শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন হলেন, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী।
হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তাঁরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
তাঁদের জন্য দিনটি ছিল নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন স্বপ্নেরও সূচনা।
উল্লেখ্য, আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী।
জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
তাঁকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আয়শা আক্তারও পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
হাত না থাকায় মুখ দিয়ে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি।
তাহাকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
এদিকে প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল।
নিয়োগপত্র প্রদানের পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই এবং গরু-খাসির বিকল্প মাংসের উৎস অনুসন্ধানে নেওয়া প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার একটি গবেষণা প্রকল্পে আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই করা হয়েছে। তাছাড়া, আরও তিনটি উটপাখি মারা গেছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) জানায়, বর্তমানে প্রকল্পে মাত্র চারটি উটপাখি রয়েছে।
বিএলআরআইয়ের ‘পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে আফ্রিকা থেকে দুই দফায় সাতটি এবং পরে ১৫টি অপ্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি আমদানি করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখির অভিযোজন, প্রজনন সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা। প্রকল্প শুরুর সময় দাবি করা হয়েছিল, দেশের পরিবেশে উটপাখি সহজেই অভিযোজিত হতে পারবে এবং একটি পূর্ণবয়স্ক উটপাখি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাংস উৎপাদন সম্ভব হবে।
তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও দৃশ্যমান কোনো সফল ফলাফল পাওয়া যায়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। বিএলআরআইর তথ্য অনুযায়ী, মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ মূল্যায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে ১৫টি উটপাখি জবাই করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তিনটি উটপাখি মারা গিয়েছে।
গবেষণার নামে এত সংখ্যক প্রাণী জবাই করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গবেষণায় প্রাণী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক ড. কামরুল হাসান জানান, উটপাখি বাংলাদেশের দেশীয় প্রাণী নয়। এ কারণে বাংলাদেশি পরিবেশে তাদের অভিযোজন সহজ নয়। গবেষণার প্রয়োজন থাকলেও ২২টির মধ্যে ১৫টি উটপাখি জবাই করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতেই আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত ছিল।
উটপাখি নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করা হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় সব সময় সফলতা আসে না। তিনি জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখির অভিযোজন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধাপে ধাপে গবেষণা প্রয়োজন। ১৫টি উটপাখি জবাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান পরীক্ষার জন্য করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকল্প পরিচালক দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকল্প পরিচালক ড. সাজেদুল করিম সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ ও ফেলোশিপ বণ্টনে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে ড. সাজেদুল করিম সরকারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক (সাময়িক দায়িত্ব) ড. শাকিলা ফারুক জানান, উটপাখি বাংলাদেশের দেশীয় প্রজাতি নয়। গবেষণার অংশ হিসেবে তাদের অভিযোজন, খাদ্যাভ্যাস ও মাংসের গুণগত মান মূল্যায়নের জন্য কিছু উটপাখি জবাই করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন।
এর আগে ২০২৩ সালে গবেষণাধীন ৩৮টি মোরগ জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যদিও তখন সেগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সৈয়দপুর কেন্দ্রে ১ হাজার ২০০টি কোয়েল পাখির মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে উটপাখি প্রকল্পের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ