বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
দেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই এবং গরু-খাসির বিকল্প মাংসের উৎস অনুসন্ধানে নেওয়া প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার একটি গবেষণা প্রকল্পে আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই করা হয়েছে। তাছাড়া, আরও তিনটি উটপাখি মারা গেছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) জানায়, বর্তমানে প্রকল্পে মাত্র চারটি উটপাখি রয়েছে।
বিএলআরআইয়ের ‘পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে আফ্রিকা থেকে দুই দফায় সাতটি এবং পরে ১৫টি অপ্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি আমদানি করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখির অভিযোজন, প্রজনন সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা। প্রকল্প শুরুর সময় দাবি করা হয়েছিল, দেশের পরিবেশে উটপাখি সহজেই অভিযোজিত হতে পারবে এবং একটি পূর্ণবয়স্ক উটপাখি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাংস উৎপাদন সম্ভব হবে।
তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও দৃশ্যমান কোনো সফল ফলাফল পাওয়া যায়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। বিএলআরআইর তথ্য অনুযায়ী, মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ মূল্যায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে ১৫টি উটপাখি জবাই করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তিনটি উটপাখি মারা গিয়েছে।
গবেষণার নামে এত সংখ্যক প্রাণী জবাই করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গবেষণায় প্রাণী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক ড. কামরুল হাসান জানান, উটপাখি বাংলাদেশের দেশীয় প্রাণী নয়। এ কারণে বাংলাদেশি পরিবেশে তাদের অভিযোজন সহজ নয়। গবেষণার প্রয়োজন থাকলেও ২২টির মধ্যে ১৫টি উটপাখি জবাই করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতেই আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত ছিল।
উটপাখি নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করা হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গবেষণায় সব সময় সফলতা আসে না। তিনি জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখির অভিযোজন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধাপে ধাপে গবেষণা প্রয়োজন। ১৫টি উটপাখি জবাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি মাংসের স্বাদ ও গুণগত মান পরীক্ষার জন্য করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকল্প পরিচালক দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকল্প পরিচালক ড. সাজেদুল করিম সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ ও ফেলোশিপ বণ্টনে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে ড. সাজেদুল করিম সরকারের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক (সাময়িক দায়িত্ব) ড. শাকিলা ফারুক জানান, উটপাখি বাংলাদেশের দেশীয় প্রজাতি নয়। গবেষণার অংশ হিসেবে তাদের অভিযোজন, খাদ্যাভ্যাস ও মাংসের গুণগত মান মূল্যায়নের জন্য কিছু উটপাখি জবাই করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন।
এর আগে ২০২৩ সালে গবেষণাধীন ৩৮টি মোরগ জবাই করে খাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যদিও তখন সেগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সৈয়দপুর কেন্দ্রে ১ হাজার ২০০টি কোয়েল পাখির মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখার অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে উটপাখি প্রকল্পের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেকেই ব্যবসা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টায় তথ্য ভবনে অনুষ্ঠিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘জুলাই নিয়ে যেন কেউ ব্যবসা করতে না পারে। জুলাইয়ের চেতনার উৎস বিন্দু হলো স্বাধীনতা।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, আমাদের সমাজে যখনই অন্যায় এসে জনগণকে শোষণ করে এবং রক্তাক্ত করে, তখনই স্বাধীনতার উজ্জ্বল চেতনা অনির্বাণ হয়ে ওঠে সমাজ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অপরাধ ঘটে ১৯৯৩ সালে। অভিযোগ রয়েছে যে, স্ত্রীকে বাড়ি ফিরতে বাধা দিতে এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি বাঁধ কেটে দেন। এর ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা এবং হাজার হাজার একর এলাকা প্লাবিত হয়।
১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট অঞ্চলে ভয়াবহ ‘গ্রেট ফ্লাড’-এর সময় মিসৌরির ওয়েস্ট কুইন্সি এলাকার একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার জন্য জেমস স্কট নামে একজন ব্যক্তি দায়ী হন। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর প্রবল স্রোতের পানির কারণে প্রায় ১৪ হাজার একর এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্ধ হয়ে যায় এবং বন্যাকবলিত অঞ্চলের দুর্ভোগ আরও বেড়ে উঠে।
মামলার আলোচিত দিক ছিল এর উদ্দেশ্য। আদালতে সরকারি কৌঁসুলিরা দাবি করেন, স্কট চেয়েছিলেন যে তার স্ত্রী বন্যার কারণে বাড়িতে ফিরতে না পারেন। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নির্বিঘ্নে পার্টি করতে চেয়েছিলেন। আদালত উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তবে এই মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্রে তদন্তপ্রক্রিয়া এবং স্কটের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত কিছু প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সমালোচকরা মনে করেন, মামলার কিছু দিক পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন ছিল। তবে আদালতের দেওয়া রায় এখনও বহাল রয়েছে।
আজও জেমস স্কটের এই ঘটনাটি বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত ও আলোচিত অপরাধের উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অপরাধবিষয়ক আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জলাশয় ভরাটের অভিযোগে তিনজন ব্যক্তিকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অভিযানে জলাশয় ভরাটের কাজে ব্যবহৃত পাইপগুলো অপসারণ ও বিনষ্ট করা হয়।
এটি ঘটেছে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে একটি ডোবা ভরাটের অভিযোগে। অভিযানের সময় মো. টিটু মিয়া (৩৫) এবং রথিন রায় (৩২) নামের দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম। এই সময় ডোবা ভরাটের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২৫টি পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
একই দিন রাত ১১টার দিকে কুটি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সংলগ্ন একটি জলাশয় ভরাটের অভিযোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন।
এই অভিযানে মো. রফিক নামের এক ব্যক্তিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জলাশয় ভরাটের কাজে ব্যবহৃত পাইপগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগে যারা ঘুষ খেত, তারাই এখন বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে।
তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তথ্য ভবনে আয়োজিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, যারা আগে ঘুষ খেত, তারা এখনও একই কাজ করে। এখন তারা বড় জুলাই আন্দোলনকারী সেজেছে। সমাজে কিছু পরিবর্তন এখনও দেখা যাচ্ছে না।
তিনি নিজে বলেন, সমাজে এখনও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়।
তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই পরিবর্তনের আশা প্রকাশ করছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার পরিচালনার পাঁচ মাসেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি করেছেন, সেটি বাস্তবায়িত হবে বলে আমি আশাবাদী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ