বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:২৭ পি.এম
কিশোরগঞ্জে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন প্রাণ হারিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গাংকুলপাড়া মাদরাসাসংলগ্ন স্থানে।
নিহত ব্যক্তির নাম ইয়াছিন মিয়া (১৮), যিনি আচমিতা ইউনিয়নের ইন্দাইল চারিপাড়া গ্রামের মো. জসিম উদ্দীনের ছেলে।
তথ্য অনুযায়ী, ইয়াছিন তার বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে পুলেরঘাট বাজারের দিকে রওনা হন। কিন্তু পথে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে ইয়াছিনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন জানিয়েছেন, ইয়াছিন পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। তাঁর নিজস্ব মোটরসাইকেল ছিল না এবং বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে পুলেরঘাট বাজারে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। তারা মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বন্দরে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে আরসিসি (রিজিড পেভমেন্ট) ঢালাই কাজ করার অভিযোগ এসেছে। বেজমেন্টে জমে থাকা পানির মধ্যে সড়ক ঢালাইয়ের অভিযোগে এলজিইডির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা ক্ষোভ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলী দাবি করেছেন, রাস্তার ওপর পানি জমে নেই, তাহলে নির্মাণকাজের গুণগত মানের কোনো সমস্যা হবে না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যয়ে ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৬ দশমিক ৭ মিটার প্রস্থ এবং ৮ ইঞ্চি পুরুত্বের একটি সড়কের আরসিসি ঢালাই কাজ বাস্তবায়ন করছে পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডালিয়া ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ফিরোজ মিয়া জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বুধবার (২৯ জুলাই) আবার ঢালাই কাজ শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি চলাকালীন ঢালাই কাজ হচ্ছে। সড়কের বেজমেন্টের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি সত্ত্বেও কংক্রিটের মিশ্রণ ঢালা হচ্ছে। সদ্য ঢালাইকৃত অংশটিকে বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষার জন্য শ্রমিকরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন। কংক্রিট এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশ্রণে কংক্রিট সরে যাচ্ছে বলেও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির মধ্যে ও জমে থাকা পানির অবস্থায় আরসিসি ঢালাই দিলে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযোগ করা হচ্ছে, নির্ধারিত অনুপাতের তুলনায় বেশি পাথর ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, প্রতি ব্যাচে ৫ টিন (গাবলা) পাথর, ৩ টিন (গাবলা) বালু ও ১ ব্যাগ সিমেন্ট দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধের অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্টদের তা আমলে নেওয়ার কোনো নজির দেখা যায়নি।
জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুম মিয়া বলেছেন, বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই কার্যের কারণে রাস্তার মান নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কোথাও কাজ সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত সাইনবোর্ড নেই। সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রকল্পের বরাদ্দ ও তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার আশা করছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির মিয়া বলেছেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু কাজ নিয়ম মেনে না হলে, কয়েক বছরের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ বন্ধ করতে বললেও সংশ্লিষ্টরা তা শোনেননি। অভিযোগ রয়েছে, ঢালাইয়ে পাথর, বালু ও সিমেন্টের অনুপাতও ঠিকভাবে মানা হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি। কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিপন দাস বলেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। তারপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজ শুরু হলেও তা বিভিন্ন কারণে কিছুদিন বন্ধ ছিল। এখন আবার ঢালাই কাজ হচ্ছে। সব উপকরণ নির্ধারিত পরিমাণেই ব্যবহার হচ্ছে দাবি করেছেন তিনি। তবে তার নজরের বাইরে দুই-একটি ব্যাচে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলেও গুণগত মান নষ্ট হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তার উপর পানি জমে না থাকলে, গুণগত মানের সমস্যা হবে না। তিনি গুণগত মানের উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে কি না তা দেখেননি। বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে তার সহকর্মীরা বিস্তারিত উল্লেখ করতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, বৃষ্টির সময় হলে কাজ বন্ধ রাখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজের অবস্থা ও অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের দাবি, নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত, নিবিড় তদারকি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার পর বাংলাদেশের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
চিঠিতে ইউএইতে বসবাসরত হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ। নিহতদের পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তিনি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
আরও পড়ুন: পৌরসভাগুলোকে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ।
তিনি বাংলাদেশ-ইউএইর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও মানবিক খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট। তিনি আশাবাদী যে, এই সফরের মাধ্যমে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে আট বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে, যার নাম মো. রাশেদ ইসলাম (২০)।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটি তার জবানবন্দি রেকর্ড করে।
এমন জানা গেছে, ২৬ জুলাই (রোববার) বিকেলে শিশুটি নিজ বাড়ির কাছে টাঙ্গন নদীতে গোসল করতে যায়। তখন সেখানে একা পেয়ে প্রতিবেশী মো. রাশেদ ইসলাম (২০) শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নদীর পূর্ব পাড়ের একটি আখক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত রাশেদ ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে বাড়িতে ফিরে শিশুটি তার মা ও প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জানায়। পরে সোমবার (২৭ জুলাই) শিশুটির বাবা বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় মামলা করেন।
মামলার পর শিশুটিকে ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে বিচারক মো. মাহবুব উল ইসলাম শিশুটির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মো. রাশেদ ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন। তার গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানাধীন এলাকায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একজন তরুণীকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ আইনে মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। রাশেদুল লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিনচওড়া কালমাটি এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে অভিযুক্তের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। ওই সময় রাশেদুল নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ভুক্তভোগী তাকে জানান, তিনি তালাকপ্রাপ্ত এবং তার দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এরপরও সন্তানসহ তাকে বিয়ে করে সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেন অভিযুক্ত।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের কথা বলে গত ২৮ জুলাই ফরিদপুর থেকে রংপুরে আসতে বলেন রাশেদুল। পরে তিনি ভুক্তভোগী এবং তার শিশুসন্তানকে হারাগাছ থানার বাহারকাছনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন রাতে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেই তিনি দূর থেকে রংপুরে এসেছিলেন। পরে বিয়ে না করে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, ভুক্তভোগীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন আদালত পুলিশের ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ