বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে চলছে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পারস্য উপসাগরে প্রায় ৬,০০০ নাবিক আটকা পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) প্রধান বুধবার (৮ জুলাই) সর্বোচ্চ সংযমের এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছেন, ‘এই হামলাগুলো জাহাজগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যেগুলো পারস্য উপসাগর থেকে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। এই আটকা পড়া প্রায় ৬,০০০ নাবিকের ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপকে আরও তীব্র করে তুলেছে।’
মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন জাহাজের ওপর ইরানি হামলার পর সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে, তবে তিনি আরও আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। এর পর ইরান পাল্টা হামলা চালানোর পর আবারও সংঘাত শুরু হয়।
এই কৌশলগত নৌপথটি সংঘাতের একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, যা ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক হামলার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।
এদিকে, তেহরান এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবিতে অটল রয়েছে এবং ঘোষণা করেছে যে তারা যাতায়াতের জন্য মাশুল ধার্য করবে এবং অনুমোদিত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছে।
ডোমিঙ্গেজ আবারও বলেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি জাহাজের ওপর গত দুই দিনের হামলার নিন্দা জানাই।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘নিরীহ নাবিকেরা মারাত্মক বিপদের’ মধ্যে রয়েছেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানান, সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে, অবিলম্বে পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরে এখনো আটকে থাকা জাহাজগুলোর নিরাপদ প্রস্থানের ব্যবস্থা করতে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মেহেরপুরে শ্বাশুড়ীকে হত্যার দায়ে জামাই হাউস আলী (৫২) কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরের সময় মেহেরপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হাউস আলী গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন তালাক দেন জামাই হাউস আলীকে। এতে হাউস আলী ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার দিন, ২০১৬ সালের ৮ মে, হাউস আলী শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শাশুড়ি ফুলসুরাতনের (৬৫) গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় পরে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনার পর বৃদ্ধার মেয়ে আম্বিয়া খাতুন তার স্বামী হাউস আলীর বিরুদ্ধে গাংনী থানায় মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে হাউস আলীর বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। বিজ্ঞ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪ (১) ধারায় হাউস আলীকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশে দণ্ডিত হাউস আলীকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. শহিদুল ইসলাম এবং বাদী পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিকলী থানার হাজত থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে রুবেল মিয়া (২২) নামে এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টার সময় নিকলী থানার হাজতখানা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রুবেল মিয়া ছিলেন উপজেলার কারাপাশা ইউনিয়নের শহরমূল এলাকার রাজা হাওলাদারের একমাত্র ছেলে। নিহতের বাবা রাজা হাওলাদার জানান, রুবেল আমার একমাত্র ছেলে ছিল। সে খুব আদরের ছিল। কিন্তু অল্প বয়সে সে মাদকাসক্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আমি নিজেই তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে হাজতে পাঠিয়ে দিই। তিন মাস কারাভোগ করার পরও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরে সে আবারও মাদকে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের সবার সঙ্গে খারাপ আচরণ করত। আজও আমি নিজেই পুলিশকে খবর দিয়েছিলাম। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর আমি খাবার ও কাপড়চোপড় দিয়ে বাড়িতে ফিরছিলাম। পথে জানতে পারি সে আত্মহত্যা করেছে। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বাবার করা মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতেই রাখা হয়। ওসি আরো জানান, একপর্যায়ে রুবেল নিজের গায়ের শার্ট খুলে হাজতের গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে আত্মহত্যা করেন। পরে আদালতে নেওয়ার জন্য পুলিশ হাজতে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ ঘটনার পর আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৩৬ জন শিক্ষার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন-২০২৬) পরিদর্শনে যাচ্ছেন।
এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য হলো, চর্চা, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন এই শিক্ষার্থীরা।
সূত্র জানাচ্ছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মোট ৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবেন, যার মধ্যে ৩০ জন নারী শিক্ষার্থী আছেন।
অংশগ্রহণকারী এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, "সংসদে যাওয়ার অনুভূতি আসলেই একটি স্বপ্নের মতো। আমার সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আশা করি, আমরা অনেক ভালো কিছু জানতে ও শিখতে পারব।"
এ প্রসঙ্গে জানালে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী এবং সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিন বিশ্বাস এশা বলেন, "বর্তমানে যে নিয়মটি চালু হয়েছে, তাতে শিক্ষার্থীরা সংসদে বসে অধিবেশন দেখবে এবং সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানবে। এর মাধ্যমে সংসদ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমি মনে করি, এটি একটি শিক্ষা সফরের মতো। আমরা মাহমুদা হাবিবা আপা এবং আমাদের ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু চাচার তত্ত্বাবধানে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছি।"
উল্লেখ্য, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে সংসদ অধিবেশন পরিদর্শনের উদ্যোগ গ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবার অংশ নিচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গ্রামে বন্যার পানির ফলে একটি সাপের খামার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। খামারটি ভেসে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ পালিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে মারাত্মক বিষধর গোখরাও রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকজন গ্রামবাসী ইতিমধ্যে সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন, এ সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যম তথ্য জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এলাকায় বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হেংঝৌ শহরে। চীনা গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস তাদের প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে গুয়াংজি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর কারণে নাননিংয়ের অধীন হেংঝৌ এলাকার একাধিক জলাধারের বাঁধ ভেঙে নিচু এলাকার অংশ প্লাবিত হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও টাউনশিপের দেংওয়েই গ্রামের ওই সাপের খামারটি বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাপ আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করা হয়েছে, বন্যার পানিতে আটকে পড়া কয়েকজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং দুর্গম পরিস্থিতির কারণে তারা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারছেন না। দেংওয়েই গ্রামের কমিটি প্রধান উ ঝি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি ঘটে গত ৬ জুলাই সকালে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যার পানিতে খামারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পর অন্তত ৯০০টি সাপ পালিয়ে যায়। এতদিনে একজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উ ঝি এই বিষয়ে জানান, পালিয়ে যাওয়া সব সাপ বিষধর নয়, বরং এর মধ্যে একটি বড় অংশ অঁদেশের জলসাপ এবং কিং র্যাট স্নেক।
স্থানীয় সাপচাষি লেই জানান, এলাকার খামারগুলোতে মূলত গোখরা, কিং র্যাট স্নেক এবং জলসাপ পালন করা হয়। এর মধ্যে কেবল গোখরাই মারাত্মক বিষধর। তবে অধিকাংশ সাপ দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকলে সেগুলোর বেশির ভাগই মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর এক কর্মকর্তা জানান, সাপের খামার ধ্বংসের বিষয়টি জানার পর সামনের সারির উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হবে।
দেংওয়েই গ্রামের প্রধান উ ঝি জানান, ঘটনার পর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া আশপাশের গ্রামের এক ডজনের বেশি বাসিন্দা স্বেচ্ছায় একটি বেসামরিক সাপ ধরার দল গঠন করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ ধরছেন, যাতে নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত না হন। দলের সদস্যরা মূলত মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভাসমান আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ থেকে সাপ ধরছেন। এছাড়া গ্রামবাসীদের সতর্ক করে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করা হয়েছে। যাদের পেশাদারভাবে সাপ ধরার দক্ষতা নেই, তাদের কোনোভাবেই সাপ ধরার চেষ্টা না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ